শামীম রাহমান

বাইশ হাজার কিলোমিটারের বেশি সড়কের মালিকানা সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের। তাদের আওতাধীন ছোট-বড় সেতু ও কালভার্টের সংখ্যা ১৯ হাজার ২১৮টি। এসব সড়ক, সেতুর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত সড়ক নেটওয়ার্কের পরিধি বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে সংস্থাটি। তবে সওজ অধিদপ্তরের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দেখা দিয়েছে জনবল সংকট। মোট অনুমোদিত জনবলের মাত্র অর্ধেক কর্মী নিয়ে সারা দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংস্থাটি।

সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, সওজ অধিদপ্তরের মোট পদের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৩১, যার মধ্যে ৪ হাজার ৫৪১টি পদই শূন্য। সবচেয়ে বেশি শূন্য রয়েছে তৃতীয় শ্রেণীর পদ। ২ হাজার ৫৭০টি তৃতীয় শ্রেণীর পদ বর্তমানে শূন্য। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ক্যাটাগরিতে শূন্য পদের সংখ্যা ১ হাজার ৫২২। দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে ২১৪টি। প্রথম শ্রেণীতে শূন্য পদ আছে ২০৪টি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও পাবলিক সার্ভিস কমিশনে (পিএসসি) প্রস্তাব, পদোন্নতি, নতুন করে নিয়োগ কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব শূন্য পদ পূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সওজ অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

সওজ অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রথম শ্রেণীর ২০৪টি শূন্য পদের মধ্যে সরাসরি নিয়োগযোগ্য সহকারী প্রকৌশলীর (সিভিল/যান্ত্রিক) ৮৬টি পদ পূরণের প্রস্তাব পিএসসিতে পাঠানো হয়েছে। বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে আরো ছয়টি পদ পূরণের কার্যক্রম চলমান আছে। আর পদোন্নতির মাধ্যমে আটটি পদ পূরণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। যদিও পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণযোগ্য ৬৩টি পদ পূরণের জন্য সওজ অধিদপ্তরে কোনো যোগ্য কর্মকর্তা নেই। অন্যদিকে নন-ক্যাডারের সাত পদ পূরণের জন্য সরাসরি নিয়োগের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় শ্রেণীর ৮২টি পদ পূরণের জন্য পিএসসিতে চাহিদাপত্র দিয়েছে সওজ অধিদপ্তর। মামলার কারণে আটকে আছে আরো ৬০টি পদে নিয়োগ, যেগুলো বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ হওয়ার কথা। অন্যদিকে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণযোগ্য ২০টি পদে সংস্থাটিতে কোনো যোগ্য কর্মকর্তা নেই। শূন্য ২১৪টি পদের মধ্যে বাকি ৪০টি পূরণের জন্য শিগগির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

সওজ অধিদপ্তর সবচেয়ে বেশি জনবল সংকটে ভুগছে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী পদে। এ ক্যাটাগরিতে সংস্থাটিতে শূন্য পদের সংখ্যা ২ হাজার ৫৭০। এসব শূন্য পদের মধ্যে ৬১২টি পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণযোগ্য। তবে যোগ্য কর্মচারীর অভাবে এসব শূন্য পদ পূরণ সম্ভব হচ্ছে না। আদালতে রিট পিটিশন থাকায় ১৭৩টি পদে ওয়ার্কচার্জড কর্মচারীদের নিয়মিত করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর ২৩১ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণযোগ্য। তবে যোগ্য কর্মচারীর অভাবে এসব পদ পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আটটি রিট পিটিশনে আটকে আছে ওয়ার্কচার্জড সংস্থাপনে কর্মরত ৩২৪ কর্মচারীর নিয়মিতকরণ।

সওজ অধিদপ্তরের ‘মহাসড়কের লাইফ টাইম: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনেও সংস্থাটির জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অপ্রতুল জনবলের কারণে ঠিকমতো দেশের সড়কগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপ্রতুল জনবলের কারণে অধিদপ্তরের একজন প্রকৌশলীকে একাধিক প্রকল্পে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে এসব প্রকল্পের কাজে গুণগত মান ঠিক রাখা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না। পাশাপাশি জনবল সংকটের কারণে অধিদপ্তরের বিভিন্ন নিয়মিত কার্যক্রমও বিঘ্নিত হচ্ছে।

জনবল সংকটের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী কাজী শাহিরয়ার হোসেন বলেন, শূন্য পদগুলোয় নিয়োগের কার্যক্রম চলমান আছে। পাশাপাশি অধিদপ্তরের নতুন একটি জনবল কাঠামো তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। নতুন জনবল কাঠামো অনুমোদন হলে অধিদপ্তরের কার্যক্রম আরো বেশি গতিশীল হবে।

 

তথ্যসুত্র :: বণিকবার্তা

অর্ধেক জনবল দিয়ে চলছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর

 

আমাদের প্রকৌশল ডেস্ক ।

সড়ক জনপথ (সওজ) অধিদফতরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. জাওয়েদ আলম তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগমকে বিদেশ যেতে দুর্নীতি দমন কমশিন (দুদক) যে বাধা দিয়েছিল তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে তাদের বিদেশ যেতে আর কোনো বাধা রইলো না।

একই সঙ্গে, অনুসন্ধানের নামে বার বার নোটিশ দিয়ে আবেদনকারীদের হয়রানি করা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েও রুল জারি করেছেন আদালত।

অপর এক আদেশে আদালত বলেছেন, দুদক কর্তৃক জব্দ করা স্থাবর সম্পত্তি ফ্রিজ করা ব্যাংক হিসাবের মধ্যে মো. জাওয়েদ আলম পেনশনের টাকা প্রাপ্ত হবেন তা অবমুক্ত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিদেশ থেকে তিন মাস পর ফিরে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অপর এক রুলে স্বামীস্ত্রীকে বিদেশ যাত্রায় বাধা দেয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে দুদকসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

পৃথক পাঁচটি রিটের শুনানি নিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এবিএম আলতাফ হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এআরএম কামরুজ্জামান কাকন মো. সাজিদুর রহমান। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান।

আদেশের পর বিষয়ে রিটকারীদের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার এবিএম আলতাফ হোসেন বলেন, আমরা শুনানিতে দুদকের অথরিটিকে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। আর আদালতের মাধ্যমে জানতে চেয়েছিলাম যে, কোন ক্ষমতা বলে একজন নাগরিককে কোনো রকম মামলা ছাড়াই বিদেশ যেতে বাধা দেয়। আর শুধুমাত্র নোটিশ দিয়ে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালিয়ে দুই বছর বিদেশ যেতে দেয়া হয়নি। তাকে দুই বছর আটকে রাখা হয়েছে তদন্তের নামে। এর পরে আদালতও বিষয়টি নিয়ে দুদকের প্রতি প্রশ্ন তোলেন।

 আইনজীবী কামরুজ্জামান কাকন জানান, আগে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৮ সালের ২০ জুন তাদের সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিশ পাঠায় দুদক। এই সময়ের মধ্যে সম্পদের বিবরণী দাখিল করলেও ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আবারও সম্পদের বিবরণী চেয়ে নোটিশ পাঠায় দুদক। চলতি বছরের জানুয়ারি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে আবেদনকারীররা জানতে পারেন তাদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ছাড়া দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৭ জানুয়ারি আবেদনকারীদের স্থাবর সম্পত্তি জব্দ ব্যাংক হিসেব ফ্রিজ করার আদেশ দেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত। এসব বিষয় চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পাঁচটি আবেদন করেন তাদের আইনজীবী। সেই আবেদনগুলো শুনানি নিয়ে আদেশ দেন আদালত।

সওজের সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর সস্ত্রীক বিদেশ যেতে বাধা নেই

আমাদের প্রকৌশল ডেস্ক ।।

কাজী শাহ্‌রিয়ার হোসেন গত ১২ এপ্রিল, ২০২০ খ্রিস্টাব্দে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী হিসাবে যোগদান করেন। তিনি ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের ০৬ জানুয়ারী টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম কাজী আব্দুস সালাম এবং মাতার নাম মরহুমা বেগম রওশন আক্তার।  তিনি ঢাকা কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি, নটরডেম কলেজ থেকে এইচ.এস.সি. পাশ করেন এবং ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল  বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ  বিএসসি. ডিগ্রী অর্জন করেন।

কাজী শাহ্‌রিয়ার হোসেন ০৩ জুলাই ১৯৮৬ সালে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে সহকারি প্রকৌশলী হিসাবে যোগদান করেন এবং বিভিন্ন কর্মস্থলে নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। সহকারি প্রকৌশলী হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে তিনি ব্রীজ ডিজাইন সার্কেল-খুলনা, প্লানিং বিভাগ, ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। পদোন্নতিপ্রাপ্ত হয়ে তিনি উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসাবে সড়ক উপ-বিভাগ নড়াইল, সড়ক উপ-বিভাগ সিরাজগঞ্জ, সড়ক উপ-বিভাগ গোলাপগঞ্জ, সিলেট পদে কাজ করেছেন। অতঃপর তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে সড়ক বিভাগ সিলেট, পরিকল্পনা বিভাগ-২ এবং রুটিন মেইনটেন্যান্স বিভাগ ঢাকায় সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

তাছাড়াও তিনি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় বিভিন্ন সময়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পের মধ্য জেবিআরপি প্রকল্প, বন্যা পুনর্বাসন প্রকল্প-২০০০, পিআইইউ/ডিইউটিপি প্রকল্পে উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক (উঃবিঃপ্রঃ) এবং পিআইইউ/ডিইউটিপিসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম ৪-লেন হাইওয়ে প্রকল্পে প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসাবে পরিকল্পনা, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন সার্কেল, রক্ষণাবেক্ষণ সার্কেলসহ প্রশাসন ও সংস্থাপন সার্কেল, ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। প্রধান প্রকৌশলী হিসাবে যোগদানের পূর্বে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসাবে তিনি সাসেক-২: এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর সড়ক-কে ৪-লেন মহাসড়ক এ উন্নীতকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সরকারি কাজের অংশ হিসাবে তিনি জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, ইতালি, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালায় অংশ গ্রহণ করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে কাজী শাহ্‌রিয়ার হোসেন দুই পুত্র সন্তানের জনক।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী কাজী শাহ্‌রিয়ার হোসেন

Our Like Page