কাওসার মাহমুদ।।

ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর বলেছেন, কারিগরি রূপরেখা দিয়ে ‘আমার শহর আমার গ্রাম’ প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে আইইবি। একান্ত সাক্ষাৎকারে  তিনি এ কথা বলেন।

এ প্রকৌশলী বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অনেকে মনে করছেন গ্রামীণ জনপদ কংক্রিটের জঞ্জালে পরিণত হবে। কিন্তু বাস্তবতা তা নয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রত্যন্ত গ্রামে শহরের সুযোগ-সুবিধা পৌঁছানো হবে প্রকৃতি ও পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে। সেটা কীভাবে করা সম্ভব তার কারিগরি রূপরেখাটিই আইইবি সরকারকে দেবে। কেননা এ সরকার উন্নয়নের সরকার। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে আইইবি সব সময় দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির সঙ্গে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।

জাতীয় উন্নয়নে আইইবি’র অবদান কী? এমন প্রশ্নে আবদুস সবুর বলেন, ‘উন্নত জগৎ গঠন করুন’ আদর্শ নিয়ে দেশ গড়ায় অবদান রাখার অঙ্গীকার নিয়ে ১৯৪৮ সালের ৭ মে যাত্রা করে আইইবি। প্রায় ৭২ বছর ধরে অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রকৌশল শিক্ষার মান উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধন, বিশ্বের নিত্যনতুন আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে প্রকৌশলীদের পরিচয় করিয়ে দেয়া, বিদেশি প্রযুক্তি দেশের উপযোগী করে প্রয়োগ, বিভিন্ন কারিগরি ইস্যু, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সরকারকে পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত প্রণয়নে সহযোগিতা করে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছে।

প্রকৌশলীদের নিয়ে নানা সমালোচনা প্রসঙ্গে আইইবি প্রেসিডেন্ট বলেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে প্রকৌশলীরা টেকসই উন্নয়ন ও ব্যয় সংকোচন করে বড় ভূমিকা রাখলেও সেসব জাতির সামনে বড় করে উপস্থাপন করা হয় না। প্রকৌশলীদের ছোটখাটো ভুল-ত্রুটি বড় করে তুলে ধরা হচ্ছে। এতে সাধারণ জনগণের প্রকৌশলীদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর পর প্রকৌশলীদের ভেতরে অনিয়ম-দুর্নীতি বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে কী উদ্যোগ নিয়েছে আইইবি? আবদুস সবুর বলেন, বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের নিয়ে বিভিন্ন সভা, সেমিনার ও গবেষণা করে দেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি, দুর্যোগ, যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি উৎপাদনের ব্যাপারে সরকারকে নানাবিধ সুপারিশ দিয়েছে। সরকার বিভিন্ন প্রকল্পে আইইবির সেসব সুপারিশ বাস্তবায়ন শুরু করেছে। দেশের টেকসই উন্নয়ন ও জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে প্রকৌশলী সমাজের পক্ষ থেকে আইইবি সব সময় সরকারের জনবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে যাবে।

যানজট নিরসন ও চলাচল দ্রুতগতি করতে কোনো সুপারিশ করেছেন? আইইবি প্রেসিডেন্ট বলেন, যানজট নিরসন ও চলাচল দ্রুতগতির করতে আমরা সরকারকে বহু সুপারিশ দিয়েছি। তবে আমরা দ্রুতগতির ট্রেন যোগাযোগের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। খুব দ্রুতগতির না হলেও ভারতের মতো গতির ট্রেন চালু করলেও ঢাকামুখী জনস্রোত অনেকাংশে কমবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রেনে দুই ঘণ্টায় যদি যাওয়া-আসা সম্ভব হয়, তাহলে মানুষ সেখান থেকে অফিস করবে; তারা ঢাকায় থাকতে চাইবে না।

এ ছাড়া দেশের নদীভাঙন, পরিবেশ উন্নয়ন ও পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে আইইবির প্রকৌশলীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সুপারিশ দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে আইইবি’র পরামর্শ, মতামত ও রূপরেখা সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়ক হচ্ছে।

প্রকৌশলীদের দাবি-দাওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে আবদুস সবুর বলেন, দেশসেরা মেধাবীরা প্রকৌশল পেশায় এলেও চাকরিতে পদোন্নতি ও সুযোগ-সুবিধায় অনেক ক্ষেত্রে বঞ্চিত থাকেন। যেমন- অন্যান্য সার্ভিসের সঙ্গে মিল রাখতে দেশের সাতটি প্রকৌশল অধিদফতরের শীর্ষপদকে গ্রেড-১ পদমর্যাদা দিলেও পরে সিনিয়র সচিব পদ সৃজন করে পদমর্যাদা বাড়িয়ে নিয়েছে অন্যান্য সার্ভিস। আমাদের দাবি, শীর্ষ সাত প্রকৌশল পদকেও সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা দিতে হবে। একই সঙ্গে অন্যান্য সার্ভিসের মতো প্রধান প্রকৌশলী বা সমমনা ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীদের গ্রেড-২ এবং গ্রেড-৩-এ উন্নীতকরণের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

রাজনীতি ও পেশাদারিত্ব কোনটি আইইবিতে প্রাধান্য পাচ্ছে? জবাবে এ প্রকৌশলী জানান, ঐতিহ্যগতভাবে আইইবি সব সময় পেশাদারিত্বকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে; তবে এখানে রাজনীতিও রয়েছে। প্রকৌশলীদের স্বার্থরক্ষার ক্ষেত্রে আইইবি কখনও দল, মত বিবেচনা করে না।

আবদুস সবুর বলেন, প্রকৌশলীদের সম্মিলিত চেষ্টায় ৩ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে ২৩ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। মেঘনা ব্রিজ নির্দিষ্ট সময়ের আগে কাজ শেষ করে ১ হাজার ৪০০ কোটি সরকারের সাশ্রয় করেছে প্রকৌশলীরা। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কর্ণফুলী ট্যানেল নির্মাণ কাজ করছে প্রকৌশলীরা।

১৮ কেন্দ্র, ৩২ উপকেন্দ্র, ১১ ওভারসিজ চ্যাপ্টার, ৭টি প্রকৌশল বিভাগ এবং ২৩ টাস্কফোর্সের সমন্বয়ে আইইবি পরিচালিত হচ্ছে। এ সংগঠনের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার।

facebook sharing button
messenger sharing button
twitter sharing button
pinterest sharing button
linkedin sharing button
print sharing button

‘আমার গ্রাম আমার শহর’ বাস্তবায়নে রূপরেখা দেবে আইইবি: প্রকৌশলী আবদুস সবুর

ডেস্ক রির্পোট ।।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জন্য আর্শিবাদ। তিনি জনগণের আলোকবর্তিকা। তাঁর মাধ্যমেই এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)’র সেমিনার হলে আইইবি সদর দফতর এবং ঢাকা কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আইইবি’র প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মো. নুরুল হুদার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং আইইবি’র সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আইইবি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী নূরুজ্জামান, প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ, প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন, প্রকৌশলী এস এম মনজুরুল হক মঞ্জু, সম্মানী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শাহাদাৎ হোসেন (শীবলু), সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. রনক আহসান, প্রকৌশলী শেখ তাজুল ইসলাম তুহিন, প্রকৌশলী আবুল কালাম হাজারী, প্রকৌশলী প্রতীক কুমার ঘোষ, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সভাপতি প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান প্রমুখ। আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী কাজী খায়রুল বাশার অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে দেশে ফিরেই বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চেয়েছিলেন। তিনি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কথা বলেছিলেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা ১৯৯৬ সালে যখন দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার নিয়ে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের রায় করেছিলেন। পরে ২০০৮ সালে পুনরায় ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করেছেন। বঙ্গবন্ধুর বাকি খুনিদেরও দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হবে।

করোনা মহামারিতে প্রধানমন্ত্রী সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, করোনা মহামারিতে প্রধানমন্ত্রী অসহায় মানুষের কাছে ত্রাণ পৌছে দিয়েছেন। যেখানে সারা পৃথিবীর অর্থনীতি অবস্থা নাজুক সেখানে দেশের অর্থনীতি উন্নত দেশের চেয়েও অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে।

বিশেষ অতিথি বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশনারি লিডারশিপের কারণে আমার আজ এই মহামারি দূর্যোগের মধ্যেও অনেক উন্নত দেশের চেয়ে অর্থনীতির দিক দিয়ে অনেক সূচক এগিয়ে রয়েছি। প্রধানমন্ত্রী দিন রাত দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই ’৪১ সালের আগেই আমার উন্নত দেশের কাতারে সামিল হবো।

বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমেই এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন হয়েছে

Our Like Page