প্রভাবশালীদের তদবির ও লেনদেনের মাধ্যমে লটারি ছাড়াই রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ২৮১টি ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফ্ল্যাটগুলোর অবস্থান তুলনামূলকভাবে ভালো জায়গায় পড়েছে; যেমন লেকের পাশে কিংবা দক্ষিণ বা দক্ষিণ–পূর্বমুখী। লটারি না করে অত্যন্ত গোপনে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়াকে নিয়মের লঙ্ঘন এবং অনৈতিক বলছেন রাজউকেরই কিছু কর্মকর্তা।

লটারি না করে এভাবে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়ার ঘটনাটি ঘটেছে রাজউকের উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে (১৮ নম্বর সেক্টর)। ‘নিম্ন ও মধ্যম’ আয়ের মানুষের আবাসনের জন্য ২০১০ সালে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। এই প্রকল্পে মোট ৭৯টি ১৬ তলা ভবনে ৬ হাজার ৬৩৬টি ফ্ল্যাট আছে। ২০১২ সালে প্রথম এই প্রকল্পের আওতায় ফ্ল্যাট বরাদ্দ দিতে আবেদন আহ্বান করে রাজউক। এরপর বিভিন্ন সময়ে কয়েক দফায় ফ্ল্যাট বরাদ্দের আবেদন নেওয়া হয়।


প্রচলিত প্রথার ব্যত্যয় ঘটিয়ে লটারি ছাড়া ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া ঠিক হয়নি। যাঁরা এ কাজের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

গোলাম রহমান, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি


লটারি ছাড়াই ফ্ল্যাট বরাদ্দের ঘটনাটি গোপনে গত দুই বছরের মধ্যে ঘটেছে। তবে বিষয়টি জানাজানি হয় গত নভেম্বর মাসে। ওই মাসের ২২ তারিখ প্রকল্প এলাকার আটটি ভবনের ৩০৬টি ফ্ল্যাট বরাদ্দের জন্য অনলাইনে লটারি হয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) মিলনায়তনে। ওই আট ভবনে মোট ফ্ল্যাট আছে ৬৭২টি (প্রতি ভবনে ৮৪টি)। লটারিতে অংশ নেওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত ছিলেন ৩০৬ জন আবেদনকারী। নিয়ম অনুযায়ী, ৩০৬ জন আবেদনকারীর মধ্যে লটারি হওয়ার কথা ছিল ৬৭২টি ফ্ল্যাটের বিপরীতে। অর্থাৎ আবেদনকারীরা আটটি ভবনের ৬৭২টি ফ্ল্যাটের মধ্যে যেকোনো একটি ফ্ল্যাট পাওয়ার যোগ্য ছিলেন। কিন্তু অনলাইনে লটারি হয়েছে ৩৯১টি ফ্ল্যাটের বিপরীতে। বাকি ২৮১টি ফ্ল্যাট যাঁদের নামে বরাদ্দ হয়েছে, সে তালিকা লটারি হওয়ার এক সপ্তাহ আগেই চূড়ান্ত করা হয়। বিষয়টি রাজউকের একটি সূত্র প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছে।

এভাবে লটারি ছাড়া ফ্ল্যাট বরাদ্দে আপত্তি জানিয়েছেন সর্বশেষ লটারিতে বরাদ্দ পাওয়া দুজন আবেদনকারী। তবে রাজউক হয়রানি করতে পারে, এই আশঙ্কায় তাঁরা নাম প্রকাশে রাজি হননি। তাঁরা বলেন, রাজউকের এই আচরণ অন্যায়। তাঁদের বঞ্চিত করা হয়েছে। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় লটারি করার দাবি জানান তাঁরা।

৭৯টি ১৬ তলা ভবনে ফ্ল্যাট আছে ৬ হাজার ৬৩৬টি। এখনো প্রায় এক হাজার ফ্ল্যাটের বরাদ্দ হয়নি। ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিন দফা লটারিতে ফ্ল্যাট বরাদ্দ হয়েছে। গত নভেম্বরে চতুর্থ দফার লটারি নিয়ে অনিয়ম হয়েছে।


নাম না প্রকাশের শর্তে রাজউকের একজন কর্মকর্তা বলেন, লটারি ছাড়া ফ্ল্যাট বরাদ্দের কোনো নিয়ম নেই। দেড়-দুই বছর ধরে রাজউকের বোর্ড সভার মাধ্যমে এই অনিয়ম করা হয়েছে। এর ফলে লটারিতে যিনি লেকের পাশে কিংবা দক্ষিণমুখী ফ্ল্যাট পেতে পারতেন, তিনি সেই সুযোগ হারিয়েছেন, এককথায় তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কারণ, অবস্থানভেদে ফ্ল্যাটের দামের কোনো পার্থক্য নেই। নিচতলার উত্তরমুখী ফ্ল্যাট কিংবা লেকের পাশে দক্ষিণমুখী আটতলার ফ্ল্যাটের দামও এক।

রাজউকের আরেক কর্মকর্তা বলছেন, ওই ২৮১টি ফ্ল্যাটের মধ্যে এমন আবেদনকারীও রয়েছেন, যিনি আগে কোনো এক লটারিতে প্রকল্প এলাকায় একটি ফ্ল্যাট বরাদ্দ পেয়েছিলেন। কিন্তু ফ্ল্যাটের অবস্থান তাঁর পছন্দ হয়নি। পরে তদবির করে পছন্দমতো ফ্ল্যাট নিয়েছেন।

রাজউকের বোর্ড সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থার চেয়ারম্যান। এখন চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন সাঈদ নূর আলম। লটারি ছাড়া ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

ফ্ল্যাট বরাদ্দের প্রক্রিয়া
রাজউকের অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পগুলোর মধ্যে উত্তরার প্রকল্পটিই আকারে সবচেয়ে বড়। এখানে প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন ১ হাজার ৬২০ বর্গফুট (৩৭০ বর্গফুট কমন স্পেসসহ)। ৭৯টি ভবনের মধ্যে ৫৯টি ভবনের ফ্ল্যাট বরাদ্দের কাজ ইতিমধ্যে শেষ করেছে রাজউক। আর বাকি ২০টি ভবনের মধ্যে ১৪টির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ছয়টি ভবনের নির্মাণকাজ এখনো চলছে। এখন একটি ফ্ল্যাট কিনতে দাম পড়ে প্রায় ৮৫ লাখ টাকা। কিস্তিতে এই টাকা শোধের সুযোগ আছে। ২৫ বছরের বেশি বয়সী যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক (আয় করেন) কিছু শর্ত মেনে আবেদন করতে পারেন।


রাজউক সূত্রে জানা গেছে, উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে তিনটি লটারি হয়েছে। ওই সময় পর্যন্ত তিন লটারির মাধ্যমে ৪ হাজার ২৯৮টি ফ্ল্যাটের বিপরীতে আবেদনকারীদের ফ্ল্যাট আইডি দেওয়া হয়। এরপরই শুরু হয় অনিয়ম। প্রভাবশালীরা তদবির করে বা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পছন্দমতো ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিতে থাকেন।


ফ্ল্যাট বরাদ্দের জন্য গণমাধ্যম বা রাজউকের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আবেদনপত্র আহ্বান করে রাজউক। আবেদনের পর সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়। এরপর যোগ্যদের সাময়িক একটি বরাদ্দপত্র দেওয়া হয়। তবে সাময়িক বরাদ্দপত্রে কে কোন ভবনের কত নম্বর ফ্ল্যাট পেলেন, তা উল্লেখ থাকে না। বরাদ্দপত্র পেলেই চার কিস্তির টাকা (ফ্ল্যাটের মোট দামের প্রায় অর্ধেক) শোধ করতে হয়। এরপর লটারির মাধ্যমে আবেদনকারীকে ফ্ল্যাট আইডি (ভবন ও ফ্ল্যাটের নম্বর) দেওয়া হয়। রাজউকের বোর্ডে এটি পাসের পর চূড়ান্ত বরাদ্দপত্র দেওয়া হয়।

গত ২২ নভেম্বর লটারিতে যে ৩০৬টি ফ্ল্যাটের আইডি দেওয়া হয়েছিল, তার চূড়ান্ত অনুমোদন রাজউকের আজ রোববারের বোর্ড সভায় হতে পারে।

রাজউক সূত্রে জানা গেছে, উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে তিনটি লটারি হয়েছে। ওই সময় পর্যন্ত তিন লটারির মাধ্যমে ৪ হাজার ২৯৮টি ফ্ল্যাটের বিপরীতে আবেদনকারীদের ফ্ল্যাট আইডি দেওয়া হয়। এরপরই শুরু হয় অনিয়ম। প্রভাবশালীরা তদবির করে বা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পছন্দমতো ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিতে থাকেন।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান প্রথম আলোকে বলেন, প্রচলিত প্রথার ব্যত্যয় ঘটিয়ে লটারি ছাড়া ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া ঠিক হয়নি। যাঁরা এ কাজের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

তথ্যসুত্র :: প্রথম আলো

উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প।। গোপনে ২৮১ ফ্ল্যাট বরাদ্দ

 

আমাদের প্রকৌশল ডেস্ক ।।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রায় ৭২ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রবিবার দুদকের সহকারী পরিচালক নারগিস সুলতানা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন অসাধু উপায়ে নিজে ও তার স্ত্রী মাহবুব আরা জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৭১ লাখ ৭৪ হাজার ৯১৩ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন।

এছাড়া ১০ লাখ ৪২ হাজার ৭৩৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে গোপন করেছেন। মহিউদ্দন দম্পতির বিরুদ্ধে দুদক আইন-২০০৪ এর ২৬ (২) ধারা ও ২৭ (১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে তাদের নামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদে রূপান্তর করে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনও শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে

রাজউক কর্মচারীর ৭২ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ

আমাদের প্রকৌশল ডেস্ক ।।

ভবন নির্মাণে মানা হচ্ছে না বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি)। অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে বহুতল ভবন। যদিও ঢাকায় অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে ঠিক কতগুলো ভবন নির্মিত হয়েছে, তা জানা নেই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক)।

ঢাকার বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনটির নকশা অনুমোদনে বিধি লঙ্ঘন এবং নির্মাণে ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৬২ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছিল গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এর পরই টনক নড়ে রাজউকের। ত্রুটি-বিচ্যুতি অনুসন্ধানে রাজধানীতে নির্মিত বহুতল ভবনগুলো পরিদর্শনের উদ্যোগ নেয় সংস্থাটি। তবে ১ হাজার ৮১৮টি ভবন পরিদর্শনের পর থেমে গেছে সে উদ্যোগ। গত নভেম্বরের পর থেকে রাজউকের ভ্রাম্যমাণ আদালত আর কোনো অভিযান পরিচালনা করেননি। ফলে কার্যক্রমটি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। তাই ঠিক কতগুলো ভবন অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে নির্মিত, সে বিষয়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে পারেনি রাজউক।

জানা গেছে, রাজউকের ২৪টি দল ১ হাজার ৮১৮টি ভবন পরিদর্শনের পর ১ হাজার ৪৭টি ভবনে বিভিন্ন ধরনের ব্যত্যয় খুঁজে পেয়েছিল। এছাড়া অনুমোদিত নকশা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন ৪৭৮টি ভবনের মালিক। এরপর পরিদর্শনে নির্মাণ ত্রুটি পাওয়া ভবন মালিকদের নোটিস দেয় রাজউক। কিন্তু নোটিস পাওয়ার পর ভবন মালিকরা কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো তদারকি পরিচালনা করেনি সংস্থাটি।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বণিক বার্তাকে বলেন, সব ভবনের পরিদর্শন কার্যক্রম চলছে। রাজউকের আওতাধীন এলাকার মধ্যে রয়েছে গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ। সায়েদাবাদের কিছু এলাকা রাজউকের ভেতরে। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ পরিকল্পনা দিয়ে রেখেছে। অনেকে জানতও না। বিভিন্ন এলাকার সরু গলিও এ পরিদর্শন কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত। সামগ্রিকভাবে আমরা সর্বত্র ত্রুটি শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেব। কঠোরভাবে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি আমরা। কাউকেই এক্ষেত্রে আলাদা কোনো অনুকম্পা দেখানোর সুযোগ নেই।

অভিযোগ আছে, যথাযথ প্রক্রিয়ায় ছাড়পত্র নেয়ার ক্ষেত্রে ইমারত মালিক ও নির্মাতাদের নিরুৎসাহিত করেন রাজউকের একশ্রেণীর কর্মকর্তা। অনেক ক্ষেত্রে ইমারত মালিক ও নির্মাতারাও জানেন না এসব ছাড়পত্র ভুয়া। অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে তারা এসব নকশা অনুমোদন করিয়ে দেন। অনেক আবাসন প্রতিষ্ঠান আবার অনুমোদনের অতিরিক্ত উচ্চতার ভবনও তৈরি করে। এসব অভিযোগে রাজউকের বেশকিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

নিয়মকানুন না মেনে গড়ে ওঠা রাজধানীর কতটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, তার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান সরকারের কোনো সংস্থার কাছেই নেই। তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় অঞ্চলভিত্তিক সমীক্ষা করে প্রায় ৭০ হাজার ভবন ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিল্ডিং কোড যদি বাস্তবায়ন করা যায়, তবে রাজধানীতে বহুতল ভবনের ৯০ শতাংশ ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে। এজন্য ভবন নির্মাণ বিধিমালা প্রয়োগ খুবই জরুরি। যে ভবনগুলো আছে সেগুলোর ঝুঁকি নিরূপণ করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া না হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক আদিল মুহাম্মদ খান এ প্রসঙ্গে বলেন, রাজউকের প্রধান কাজ রাজধানীতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প তদারকি করা। কিন্তু সেটি না করে তারা নিজেরাই বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প করতে আগ্রহী। গত বছর রাজউকেরই করা এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল রাজধানীতে ৭০-৭৮ ভাগ ভবন ত্রুটিপূর্ণভাবে গড়ে উঠেছে। সে প্রতিবেদনে তারা তাদের গাফিলতির কথা স্বীকারও করে নিয়েছিল। এক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতার চেয়ে আন্তরিকতার ঘাটতি প্রকট হয়ে

উঠেছে। গত কয়েক বছরে তাদের জনবলও বেড়েছে। অথচ সংস্থাটির আন্তরিকভাবে কাজ না করার কারণে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প রাজধানীবাসীর জন্য নতুন ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।

২০০৮ সালের ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী, ইমারত আংশিক বা সম্পূর্ণ নির্মাণকাজ শেষ করার পর তা ব্যবহার বা বসবাসের জন্য সনদ নিতে হবে। এ সনদ পাওয়ার আগে ইমারত আংশিক বা সম্পূর্ণ কোনো অবস্থাতেই ব্যবহার করা যাবে না। ব্যবহার বা বসবাস-সনদের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। এ সময়ের পর এটি বাধ্যতামূলকভাবে নবায়ন করতে হবে। এরই মধ্যে আইন চালুর ১০ বছর পেরিয়ে গেছে। এই ১০ বছরে ৪০ হাজারের বেশি ভবন নির্মাণ হয়েছে রাজধানীতে। অথচ রাজউক থেকে এ ধরনের সনদ নেয়া ভবন নির্মাতার সংখ্যা খুবই কম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনুমোদনের বাইরে গিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণের ফলে নকশার সঙ্গে গড়ে ওঠা এসব ভবনের মিল নেই। আবার অনেক ভবনের পরিপূর্ণ নকশাও নেই। এসব ভবনে আগুন লাগলে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকে। তখন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের নকশা না দেখেই অন্ধকারে উদ্ধারকাজ চালাতে হয়। এ কারণে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ে। নির্মাণ শেষে ব্যবহার সনদ না নেয়া হলেও এসব ভবন মালিকের বিরুদ্ধে এ-যাবৎ কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

নকশাবহির্ভূত ভবন কত জানে না রাজউক

আমাদের প্রকৌশল ডেস্ক ।।

আসন্ন ২০২১ সাল থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে থাকছে না। এটি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল নিউ টাউনের ৪ নম্বর সেক্টরে মেলার নিজস্ব ও স্থায়ী স্থাপনায় অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী ইংরেজি বছরের প্রথম দিন মেলা শুরু হবে না। নতুন বছর থেকে এটির উদ্বোধন হবে পহেলা বৈশাখে।

অর্থাৎ ২০২১ সালের ১৪ এপ্রিল বা বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে উদ্বোধন হওয়া মাসব্যাপী এই মেলা চলবে ১৪ মে পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার তথ্যটি নিশ্চিত করেছে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে মেলার উদ্বোধন পহেলা জানুয়ারিতে হবে না। কারণ গত ২৫ মার্চের পর থেকে দেশে লকডাউনে সব কাজকর্ম বন্ধ থাকায় নতুন ভেন্যুর প্রস্তুতি কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে না বিধায় পহেলা বৈশাখে মেলা শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি ২৫তম বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছিলেন যে, ২০২১ সালের ২৬তম বাণিজ্য মেলা পূর্বাচলে নির্মাণাধীন বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিউশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে সেখানেই জোরেশোরে মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে এবং কাজ প্রায় ৯৮ শতাংশ শেষ।

জানা গেছে, পূর্বাচল নিউ টাউনের ৪ নম্বর সেক্টরের ৩১২ নম্বর রোডের ০০২ নম্বর প্লটে মোট ৩৫ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার। সেখানে আধুনিক কার পার্কিং, সম্মেলন কক্ষ, সভাকক্ষ, প্রেস সেন্টার, অভ্যর্থনা কক্ষ, বাণিজ্য তথ্যকেন্দ্র এবং আধুনিক সুবিধা সংবলিত ডরমিটরি থাকছে। এ ছাড়া সার্বক্ষণিক সিসি টিভি, আধুনিক ব্যবস্থাসহ বিদ্যুতের নিজস্ব সাবসেন্টার, সার্ভিস রুম, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, কালভার্ট ও সীমানা প্রাচীর থাকবে।

পূর্বাচলে বাণিজ্য মেলা, শুরু হবে পহেলা বৈশাখ

 

আমাদের প্রকৌশল ডেস্ক ।।

হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় নির্মিত ৪৭টি ফ্ল্যাট বিক্রি করবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। প্রায় ১ হাজার ৬০০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাটগুলো কিনতে রাজউকের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করতে হবে। পরে লটারির মাধ্যমে ফ্ল্যাট প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। রাজউকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আতিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রাজউক সূত্রে জানা গেছে, ৩১৬ বর্গফুটের ‘কমন স্পেস’সহ প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন ১ হাজার ৬০০ বর্গফুট। আগ্রহী ব্যক্তিদের ফ্ল্যাট বরাদ্দের জন্য ৩০ জানুয়ারির মধ্যে আবেদন করতে হবে। আবেদন ফরম ও প্রসপেক্টাস অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, রাজউক ভবন শাখা থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

এ জন্য অফেরতযোগ্য ৫০০ টাকা দিতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে একই ব্যাংকের শাখায় জামানত বাবদ চার লাখ টাকা জমা রাখতে হবে। জামানত জমার রসিদের মূল কপি আবেদনপত্রের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
দেশের বাইরে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও রাজউকের ওয়েবসাইট (www.rajukdhaka.gov.bd) থেকে আবেদনপত্রের ফরম ও প্রসপেক্টাস সংগ্রহ করতে পারবেন। এ জন্য অফেরতযোগ্য ৬০ মার্কিন ডলার দিতে হবে। প্রসপেক্টাসে বর্ণিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাজউক চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন পাঠাতে হবে।

রাজউক বলছে, আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর কোনো কাগজপত্র যুক্ত করা যাবে না। অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ দরখাস্ত বাতিল বলে বিবেচনা করা হবে।

হাতিরঝিল ছাড়াও উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘এ’ ব্লকে নির্মিত ও নির্মাণাধীন আরও কিছু ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেবে রাজউক। ফ্ল্যাটগুলোর আয়তন ১ হাজার ৬৫৪ বর্গফুট। এই প্রকল্পের ফ্ল্যাট বরাদ্দের জন্য আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। এ–সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য রাজউকের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। প্রয়োজনে uap@rajukdhaka.gov.bd এই ই–মেইল ঠিকানায় বা ০১৭৩০০১৩৯৪৫ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।

হাতিরঝিলে ৪৭টি ফ্ল্যাট বিক্রি করবে রাজউক

আহমেদ ইসমাম

রাজউক এর উদ্যোগে উত্তরা লেক খননের কাজ শুরু করায় বদলে যাচ্ছে লেক এবং লেকের চারপাশের পরিবেশ। এখন লেকের পানি পরিষ্কার হওয়ার কারণে নেই কোনো দূষিত বাতাস। উত্তরা লেকের প্রকল্প পরিচালক আমিনুর রহমান জানান, এই লেকটি তৈরি হওয়ার পর থেকে কখনোই আর খনন করা হয়নি তাই এর গভীরতা অনেক কমে গিয়েছিল। এ ছাড়াও চারপাশ থেকে নোংরা পানি আসায় লেকটির পানি দূষিত হচ্ছিল। এখন আমারা এমন ভাবে কাজ করছি যাতে এই লেকটি খনন করার পরে আবার দূষিত না হয়। এ জন্য পানির লাইন গুলো আলাদা করে দেওয়ার জন্য কাজ করছি। লেকটিকে ২০ ফিট খনন করা হয়েছে। বর্ষা চলে আসায় আমাদের কাজ কিছুটা ব্যহত হচ্ছে। আমরা এমন ভাবে কাজ করছি যাতে উত্তরায় যানজোট বেশি থাকলে সাধারণ মানুষ হেটে এ মাথা থেকে অন্য মাথায় চলে যেতে পারে। হাটার জন্য আলাদা রাস্তার কাজ করছি। আগে পুরো লেকটিতে হাটার কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। কিছু জায়গা দখল হয়ে গিয়েছিল, তা উদ্ধার করে সব এক সাথে করেছি। লেকে হাটার সময় ক্লান্ত হয়ে গেলে বসার জন্য বিশ্রামযোগ্য আসন তৈরি করছি। প্রায় ৫০টি পয়েন্টে খাবার পানির ব্যবস্থা থাকবে। যাতে সাধারণ মানুষ সহজে খাবার পানি পান করতে পারে। এ ছাড়াও লেকের কিছু অংশ সবুজ ঘাস লাগানো হবে এবং পুরো লেকটির পাড় ব্লক দিয়ে বাধাই করা হবে। যাতে পাড়ের মাটি সরে না যায়। উত্তরা ৫নং সেক্টরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, আমি এখানে ১০ ধরে আছি, প্রায় প্রতিদিন সকালে হাটতে বের হই এই লেকের ধারে। কিন্তু পানি দূষিত থাকার কারণে হাটতে গেলে অনেক সমস্যা হত। এখন লেকটির উন্নয়ন হচ্ছে দেখে অনেক ভাল লাগছে। আশা আর দূষিত পানি থাকবে না। এখন হাটতেও কোনো সমস্যা হবে না। এখন থেকে খুব সুন্দর ভাবে সকাল বেলা হাটতে পারব।
রজিউক থেকে জানানো হয়, আমরা লেকের উন্নয়ন কাজ করলেও এর দেখভাল এর দায়িত্ব পালন করবে উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরের কল্যান সমিতিগুলো। এই দয়িত্ব তারা খুব সুন্দর ভাবে পালন করতে পারে।

রাজউকের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে উত্তরা লেকের পরিবেশ

Our Like Page