‘দুর্নীতির অর্থ’ ছেলের নামে ব্যাংকে, প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

আমাদের প্রকেৌশল ডেস্ক

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাবেক এক নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি চাকরি করে ‘দুর্নীতির’ মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ ছেলের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে জমা করে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের মামলায় আসামি হয়েছেন।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ কমিশনের উপ-পরিচালক মোনায়েম হোসেন গত রোববার মামলাটি করেন বলে বুধবার সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা আরিফ সাদেক জানিয়েছেন।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মির্জা নজরুল ইসলামের (৬২) সঙ্গে তার ছেলে মির্জা অনিক ইসলামকেও (২৭) মামলায় আসামি করা হয়েছে।।

আসামি অনিক ইসলামের বিরুদ্ধে মামলায় সাত কোটি ২৪ লাখ ৯৫ হাজার ২৫০ টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জন, গোপন এবং পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আর এ সম্পদ অর্জনে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে মির্জা নজরুলের বিরুদ্ধে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, “শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী থাকাকালীন মির্জা নজরুল ইসলাম ক্ষমতার অপব্যবহার করে ‘দুর্নীতি’ সম্পৃক্ত অপরাধে অর্জিত অবৈধ আয় বৈধ করার পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে তার ছেলে অনিক ইসলামের নামে চারটি ব্যাংকে সাতটি হিসাব খোলেন।

“এসব ব্যাংক হিসাবে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ৭ কোটি ৩১ লাখ ৬৪ হাজার ১৬২ টাকা জমা করে পরবর্তীতে ৭ কোটি ২৪ লাখ ৯৫ হাজার ২৫০ টাকা উত্তোলন করে স্থানান্তর করা হয়েছে। কিন্তু দুদকের দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে অনিকের নামে দুই লাখ ৬৫ হাজার ১৬৮ টাকা সম্পদ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।”

বিআরটিএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

‘ঘুষ ও দুর্নীতির’ মাধ্যমে ১২ কোটি ৮৪ লাখ টাকার ‘অবৈধ সম্পদ’ অর্জন ও পাচারের অভিযোগে বিআরটিএ’র এক সহকারী পরিচালক ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।

বুধবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ কমিশনের উপ-পরিচালক মো. রফিকুজ্জামান বাদী হয়ে মামলাটি করেন বলে সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা আরিফ সাদেক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন।

মামলায় বিআরটিএ এর নোয়াখালী সার্কেলের সহকারী পরিচালক মো. ফারহানুল ইসলাম (৩৪) ও তার ছোট ভাই রায়হানুল ইসলামকে (২৯) আসামি করা হয়েছে। তাদের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে।

এজাহারে বলা হয়, “আসামি ফারহানুল ইসলাম ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে বিআরটিএর নোয়াখালী সার্কেলে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর ২০২০ সালের মধ্যে মাত্র আট বছরে ঘুষ, দুর্নীত ও অবৈধভাবে ১২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে নিজের, ভাই ও মায়ের নামে লেনদেন, স্থানান্তর করেছেন।”

এজাহারে আরও বলা হয়, ফারহানুল তার আপন ভাই রায়হানুল ইসলামের নামে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের গুলশান শাখার ব্যাংক হিসাবে এক কোটি ১৩ লাখ টাকা, ডাচ বাংলা ব্যাংকের বসুন্ধরা শাখার হিসাবে ১১ লাখ টাকার লেনদেন করিয়েছেন। এছাড়া তার মা লুৎফুন নাহারের নামে ডাচ বাংলা ব্যাংকের মিরপুর শাখার ব্যাংক হিসাব ও আইডিএলসি ফাইনান্স লিমিটেডের হিসাবে চার কোটি আট লাখ টাকা লেনদেন করেন।

মামলায় ফারহানুল ইসলাম ও তার ভাই রায়হানুল ইসলামকে আসামি করা হলেও তাদের মা লুৎফুন নাহারকে আসামি করা হয়নি।

দুদকের এ মামলা দায়েরের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিআরটিএর কর্মকর্তা প্রকৌশলী ফারহানুল ইসলামকে ফোন করলে তিনি ধরেননি।

     More News Of This Category

Our Like Page