২৮১টি পৌরসভায় মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়নের সুবিধা ভোগ করছেন স্থানীয়রা

Project List

দেশের বড় শহরগুলোর জনসংখ্যার চাপ কমানো ও তৃণমূল পর্যায়ের পৌরসভাগুলোতে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে স্থানীয় সরকার বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রথম পর্যায় হিসেবে পরিচিত এই প্রকল্পটির সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) মোট প্রাক্কলিত খরচ ১ হাজার ২৫৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০১১ সালের জানুয়ারি হতে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল।

দ্বিতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারিত এ প্রকল্পে খরচ ধরা হয় ৩ হাজার ৪শ ৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে দেশের ২৮১টি পৌরসভার মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়নে ইতিমধ্যে পরিবর্তন চোখে পড়তে শুরু করেছে। এতে পৌরসভাগুলোর পরিবেশ উন্নয়নসহ পৌরবাসীর জীবনযাত্রার মান বাড়বে এমনই আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন সে সময়ে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য জুয়েনা আজিজ। ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর অবধি চলমান এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।

দেশের ৩২৮টি পৌরসভার মধ্যে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত ৪৭টি পৌরসভা ছাড়া অবশিষ্ট ২৮১টি পৌরসভার ভৌত অবকাঠামো চাহিদা পূরণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ এই গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য দ্বিতীয় পর্যায় অংশটি হাতে নেয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) “এ“ শ্রেণির পৌরসভার জন্য ১৪ কোটি, “বি“ শ্রেনীর পৌরসভার জন্য ১০ কোটি ও “সি“ শ্রেণির পৌরসভার জন্য ৮ কোটি টাকা এবং নতুন ঘোষিত “সি“ শ্রেণির পৌরসভার জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়।

প্রকল্পের ডিপিপির উপর ২০১৭ সালের ৮ নভেম্বর পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। পিইসি সভায় উপস্থাপিত ডিপিপির প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৫৬৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। সভায় কিছু শর্ত প্রতিপালন করে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সে সময়ে সুপারিশ করা হয়। সে জন্য স্থানীয় সরকার, এলজিইডি ডিপিপি পুনর্গঠন করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছিলো। পুনর্গঠিত ডিপিপির ব্যয় প্রাক্কলন করা হয় ৩ হাজার ৪৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।


বর্তমান সরকার গ্রাম ও শহর সকল এলাকার উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে গড়ে তুলবার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে অষ্টম পঞ্চ বার্ষিকা পরিকল্পনা, ভিশন-২১, প্রেক্ষিত পরিকল্পনা-২০৪১ ও ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ প্রনয়ন করেছেন।

শহর এলাকার কোটি মানুষের যাতায়াত ও নিষ্কাশন বাব্যস্থার উন্নয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় “গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় পর্যায়)” শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার পৌরসভাগুলোর রাস্তা, ব্রীজ/কালভার্ট ও ড্রেন-এর মতো অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়ন করছে।

লক্ষ্যমাত্রার মোট ৩৬১৫.৫০কি:মি: সড়ক, ৪২০০মিটার ব্রীজ/কালভার্ট ও ২৮১কিঃমিঃ ড্রেন এর বিপরীতে এ পর্যন্ত প্রায় ৩১১৩.০০ কিঃমিঃ সড়ক, ১৩৪৮.৫০মিটার ব্রীজ/কালভাট এবং ২৫২.০০কিঃমিঃ ড্রেন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।

কাজের অগ্রগতি; দ্রুত হারে নগরায়ণের কারণে পৌরসভায় নতুন নতুন এলাকা বসতির আওতায় আসছে, ফলে রাস্তা-ঘাটের যে চাহিদা ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে সম্পদ স্বল্পতার কারণে একবারে তা পূরণ করা সম্ভব নয়। ফলে প্রকল্প থেকে যে পরিমান সড়ক ও ড্রেন নির্ধারণ করা হয়েছে এগুলো পৌরসভার অধিক অগ্রাধিকারমূলক কাজ হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে সকলেই দ্রুত কাজ বাস্তবায়নে আগ্রহী।

প্রকল্প পরিচালক কাজি মিজানুর রহমান বলেন, এই প্রকল্পের কাজের ফলে সরাসরি পৌর জনসাধারণ উপকৃত হয়, সে কারণে প্রকল্পে আমার সকল সহকর্মী কাজ বাস্তবায়নের ব্যাপারে আন্তরিক। একটি ড্রেন কোন এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর করবে, বা একটি রাস্তার কারণে অনেক ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে যাওয়া সহজ হবে এবং রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া সহজ হবে – এ সব বিবেচনায় করোনার এই মহামারীর সময়েও এলজিইডি’ প্রধান প্রকৌশলী মহোদয়ের গতিশীল নেতৃত্বে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সতর্কতার সাথে কাজ চালিয়ে নিচ্ছি যেন মাঠ পর্যায়ে কাজ বাস্তবায়নে কোন ব্যঘাত সৃষ্টি না হয়।

রায়পুরা পৌরসভা কার্যালয় - রায়পুরা, নরসিংদী |

২০২০-২০২১ অর্থবছরে ভৌত কাজের লক্ষমাত্রার বিপরীতে অর্জন ১০০%। এ সময়ের মধ্যে প্রায় ২৮০টি পৌরসভায় মোট ২৪২৫টি রাস্তা, ১৫৫টি ড্রেন ও ৮২০.২৫ মিটার ব্রীজ/কালভার্টনির্মিত হয়েছে বলে প্রকল্প পরিচালক জানান।।

দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিতে নগরের ভূমিকা অনস্বীকার্য। উৎপাদনের প্রায় ৬০ ভাগ আসে নগর এলাকা থেকে। তবে ঢাকা, চট্টগ্রামের মতো বড় মহানগরীতে জনসংখ্যার চাপ কমাতে হলে দেশের প্রায় চারশতাধিক মাঝারী ও ছোট শহরকে উন্নত করতে হবে, গড়ে তুলতে হবে বিভিন্নধরণের অবকাঠামো যেন যাতায়াত ব্যবস্থা সুগম হয়, মানুষ কর্মসংস্থান, শিক্ষা-স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক সেবা পেতে পারে। অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যতীত কোন এলাকার উন্নয়ন টেকসই হয় না। টেকসই উন্নয়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হওয়ায় শহর ও গ্রাম সকল এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন বর্তমান সময়ের অগ্রাধিকার প্রাপ্ত খাত।

     More News Of This Category

Our Like Page