এলজিইডি প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রশীদ খানের এক বছর

আমাদের প্রকৌশল রিপোর্ট ।।

মোঃ আব্দুর রশীদ খান  প্রধান প্রকৌশলী হিসাবে দায়িত্বগ্রহণের ১ বছর পূরণ করলেন ।

দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকৌশল সংস্থা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নেতৃত্বে রয়েছেন  তিনি। জনকল্যাণমুখী নানা কর্মকান্ড বাস্তবায়নের মাধ্যমে  দক্ষ ব্যবস্থাপনায় প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে তিনি এলজিইডিকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে কাজ করছেন।

প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে এক শ্রেণীর দূণীর্তিগ্রস্থ মানুষের লাগাম টেনে ধরতেও প্রতিনিয়ত মুখোমুখি হতে হচ্ছে নানান প্রতিকুল পরিস্থিতির । সব কিছু নিয়ে এগিয়ে চলেছে এলজিইডি। কখনো সফল কখনোবা বিব্রত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রশীদ খান।

সবকিছু ছাপিয়ে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামকে শহরে উন্নীত করতে সরকার ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর । আর নেপথ্যে থেকে  রাতদিন নিরলস ভাবে কাজ করছেন প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ খান। গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈপ্লবিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো.তাজুল ইসলামের কার্যকর দিক নির্দেশনায় সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যাপক ভিত্তিক পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।

মোঃ আব্দুর রশীদ খান ১৯৬৩ সালের ২ জানুয়ারি বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার ডোমর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম আব্দুল করিম খান ছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিশিষ্ট সমাজসেবক। মা মরহুম জাহানারা বেগম। ১৯৭৭ সালে বগুড়া জিলা স্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৭৯ সালে বগুড়া আজিজুল হক কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এবং ২০০১ সালে ইংল্যান্ডের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাইওয়ে ম্যানেজমেন্ট এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৮৮ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে তৎকালীন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল ব্যুরোর প্রধান কার্যালয়ে যোগদানের মাধ্যমে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা প্রকৌশলী, ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী এবং মুন্সীগঞ্জ ও ময়মনসিংহ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী এবং বিভিন্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি প্রাপ্ত হয়ে এলজিইডি সদর দপ্তরের ডিজাইন, ট্রেনিং ও মনিটরিংসহ বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে তিনি পরিকল্পনা, ডিজাইন ও গবেষণা এবং পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন।

গত ২০ এপ্রিল ২০২০ সোমবার স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে মোঃ আব্দুর রশীদ খানকে প্রধান প্রকৌশলী হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২৫ এপ্রিল ২০২০ তারিখে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ মতিয়ার রহমান সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ায় এই দিন অপরাহ্নে মোঃ আব্দুর রশীদ খান প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব গ্রহন করেন।

প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকেই যথাযথ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের মধ্যে দিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর(এলজিইডি) মতো একটি বৃহৎ গৌরবোজ্জ্বল প্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন  প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রশীদ খান। তিনি ইতিমধ্যে দীর্ঘ কর্মজীবনে দক্ষতা সততা নিষ্ঠার সাথে সরকারি দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সুনাম অর্জন করেছেন।

নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই যেসকল কাজকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নেওয়া যায় সেদিকে মনোযোগ দেন তিনি। “আমার গ্রাম আমার শহর” নামে গ্রামীণ জনপদের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের যার মূল উদ্দেশ্য উন্নত রাস্তাঘাট, যোগাযোগ, বিভিন্ন সরঞ্জামসহ মানসম্পন্ন ভোগ্যপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ ও গ্রোথ সেন্টার নির্মাণের মাধ্যমে প্রতিটি গ্রামকে আধুনিক শহরের সকল সুবিধাদিপৌছে দেয়া। গ্রামীণ জনপদের মানুষগুলো শহরের মানুষের নাগরিক সকল সুযোগ সুবিধা যেনো পেতে পারে ।

জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ‘স্বপ্নের সোনার বাংলা’ গড়ার প্রত্যয়ে ২০৪১ সালকে বিশেষ বিবেচনায় নিয়েছে সরকার। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা ‘রূপকল্প ২০৪১’ তা নিয়ে কাজ করা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রতিনিয়ত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অবকাঠামো উন্নয়নে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে কাজ করছে।

স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি ও অকৃষি খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যবস্থা উন্নীতকরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে দারিদ্র্য বিমোচনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। এলজিইডি সরকারি সংস্থা হিসেবে পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও কার্যকরভাবে  পরষ্পর সম্পর্কীত ও সহায়ক কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়নে ভূমিকা পালন করে আসছে।

সামাজিক ও পরিবেশগত বিষয়সমূহ বিবেচনায় নিয়ে জনগণ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় কাজ করা। প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রশীদ খান মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে তথা পল্লির অবকাঠামো উন্নয়নে মানুষের কল্যাণের জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

দেশের উন্নয়নে বরাদ্দকৃত অর্থ যেন সঠিকভাবে প্রয়োগ হয় এবং গুনগত মান অক্ষুণ্ণ রেখে প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন হয় সেগুলো পর্যবেক্ষণ করার জন্য মোঃ আব্দুর রশীদ খান  ক্লান্তিহীন ভাবে দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটছেন এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাজে পরামর্শ প্রদান করছেন।

প্রাণঘাতী করোনা পরিস্থিতিতে তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে করোনা মহামারি প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ও দেশের হত দরিদ্র মানুষের সাহায্যে এবং ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ও তাদের স্বজনদের পাশে এসে দাঁয়িছেন এলজিইডি প্রকৌশলীগন। এমন একটি দুর্যোগপূর্ণ সময়েও তিনি প্রত্যেকটি উপজেলার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছেন এবং এলজিইডি সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং করোনা টেস্ট, এ্যম্বুলেন্স, আইসিইউ সহ সকল সুবিধার ব্যবস্থা করেছেন।

প্রকৃত দেশপ্রমিক কর্মবীর  প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রশীদ খান। নীরবে নির্ভৃতে মানব সেবার মহান ব্রত নিয়ে গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ণে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন। এলজিইডি’র ছোয়ায় আজ প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে গড়ে উঠেছে সুন্দর সুন্দর বিদ্যালয়, গ্রামীন রাস্তা, হাট-বাজারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। শত বছরের জরাজীর্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে হয়েছে সুন্দর সুন্দর ভবন। তৈরী হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন। নির্মিত হয়েছে মুক্তিযাদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন। এসবের মূলে রয়েছে প্রধান প্রকৌশলী রশীদ খানের গতিশীল নেতৃত্ব।

 

     More News Of This Category

Our Like Page