কভিড-১৯ ।। ব্যয় ও মেয়াদ বেড়েছে মিউনিসিপ্যাল গভরন্যান্স অ্যান্ড সার্ভিসেস (এমজিএসপি) প্রকল্পের

নারায়নগঙ্জ সিটি করপোরেশনকে মিউনিসিপ্যাল গভরন্যান্স অ্যান্ড সার্ভিসেস (এমজিএসপি) প্রকল্পের আওতায় দ্রুত সড়ক মেরামকের জন্য একটি আধুনিক রোড রিপিয়ারিং ভেহিকল প্রদান করার সময় সিটি মেয়র আইভি রহমান এবং প্রকল্প পরিচালক শেখ মুজাক্কা জাহের

 

আমাদের প্রকৌশল প্রতিবেদন ।।

কভিড-১৯ এর শুরুর দিকটায় বাংলাদেশে চলমান প্রায় সব প্রকল্পই সাময়িক বাধার মুখে পড়ে।  কিছু কিছু প্রকল্পের কাজে  ধীর গতির পরিবেশ তৈরি হয়।  করোনার কারণে কাজ বন্ধ থাকায় এবার ব্যয় ও মেয়াদ বেড়েছে মিউনিসিপ্যাল গভরন্যান্স অ্যান্ড সার্ভিসেস (এমজিএসপি) প্রকল্পে। দ্বিতীয়বারের মতো প্রকল্পটির সংশোধনী প্রস্তাব একনেকে (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) উঠছে গত বছরের ১ ডিসেম্বর।  সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ২ হাজার ৪৭০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৫৫৪ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তা থেকে ১ হাজার ৯৫৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়।  পরবর্তীতে নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে মেয়াদ বাড়লেও ব্যয় বাড়ানো হয়নি। এবার দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে ২৭৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭৪৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা, যা মূল প্রকল্প ব্যয়ের ১১ দশমিক ২২ শতাংশ। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৫৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তা থেকে ২ হাজার ৩২৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। এক্ষেত্রে সরকারি তহবিলের বরাদ্দ কমেছে ২১ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বাড়ছে ১৯ দশমিক ১২ শতাংশ।

মূল অনুমোদিত প্রকল্পটি ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই বাস্তবায়নের কথা ছিল।  পরবর্তী সময়ে প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ৬ মাস মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। কোভিড-১৯ এর কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন স্থগিত থাকায় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়।  তবে এবার ব্যয়সহ মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত প্রস্তাব করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ নগরায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে।  নগরের জনসংখ্যা ১৯৭৪ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।  দ্রুত নগরায়নের ফলে বাংলাদেশের শহর ও নগরগুলো অবকাঠামো এবং সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত।  জীর্ণ অবকাঠামো, অপর্যাপ্ত সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, যানজট, পরিবেশ দূষণ বাংলাদেশের নগরগুলোর স্বাভাবিক চিত্র। যা শহরের উন্নত জীবন যাপনের একটি বড় বাধা।

এজন্য বিশ্বব্যাংক শহর এলাকার মৌলিক নাগরিক সেবা দেওয়া এবং পৌর প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য মিউনিসিপ্যাল সার্ভিসেস প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করে।  যেটি ২০১২ সালের ৩০ জুন শেষ হয়েছে।  এমজিএসপিতে ৪টি সিটি করপোরেশন (রাজশাহী এবং খুলনা) এবং ২২টি পৌরসভা অন্তর্ভুক্ত ছিল।  এমজিএসপির মাধ্যমে বিএমডিএফ নামে একটি নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করা হয়, যা স্থানীয় পর্যায়ে পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশনগুলোকে অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য অর্থ ঋণ দিয়ে সহায়তা করছে।

এমজিএসপির মাধ্যমে স্থানীয় পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনগুলোকে দক্ষতা বাড়ানো এবং ফলপ্রসু ব্যবস্থাপনার জন্য সহায়তা দেওয়া হয়, যাতে তারা তাদের মূল পরিষেবা দেওয়ার দক্ষতা, রাজস্ব আদায়, সঠিক পরিকল্পনা, ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়াদি এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারে। এমএসপির মূল লক্ষ্য ছিল শহরের পরিবেশ, অবকাঠামো এবং সেবার মান উন্নয়ন করা।

প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, কক্সবাজার জেলার রোহিঙ্গা প্রবেশের কারণে অতিরিক্ত বৈদেশিক ঋণ প্রাপ্তি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পে দুটি নতুন পৌরসভা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।  পরামর্শ পরিষেবা, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য ব্যয়ের পরিবর্তন এবং প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মামুন-আল-রশিদ পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের নির্বাচিত সিটি করপোরেশনগুলো এবং বিভিন্ন পৌরসভার অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ নগর পরিষেবা, পৌর গভর্নেন্স, আর্থিক পরিচালনা এবং নিজস্ব-উৎসের আয় বাড়াতে দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া কার্যকর টেকসই পদ্ধতিতে পরিকল্পনা, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ইউএলবিগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিয়ে কক্সবাজার জেলার কক্সবাজার ও টেকনাফ পৌরসভা দুটির জরাজীর্ণ নগর অবকাঠামোর পুনর্বাসন সম্ভব হবে।’ প্রকল্পের মূল কার্যক্রমগুলো হচ্ছে- ৯৯০টি আসবাবপত্র ক্রয়, ৭৮টি যানবাহন সংগ্রহ, পরামর্শক ও সরবরাহ সেবা, মেরামত ও সংরক্ষণ এবং ৭৩ জনের বেতন-ভাতা প্রদান।

 

কক্সবাজারের ২৯টি সড়ক কংক্রিট

কক্সবাজারের ২৯টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের টেকসই নির্মাণকাজ (রিইনফোর্সড কংক্রিট- আরসিসি) ঢালাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে।  সরকার এবং বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায় মিউনিসিপ্যাল গভর্নেন্স অ্যান্ড সার্ভিসেস প্রজেক্ট (এমজিএসপি) প্রকল্পের আওতায় এ কাজ বাস্তবায়ন হবে।  এসব প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৬ কোটি ৬৮ লাখ ১৮ হাজার ৮৪৬ টাকা।

কক্সবাজার এলজিইডি ভবনের সম্মেলন কক্ষে মিউনিসিপ্যাল গভার্নেন্স এন্ড সার্ভিসেস প্রজেক্ট (এমজিএসপি) এর প্রকল্প পরিচালক শেখ মুজাক্কা জাহেরের সভাপতিত্বে এবং উপ-প্রকল্প পরিচালক মনজুর আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশ্ব   ব্যাংকের টাস্ক টিম লিডার ড. কোবেনা উপস্থিত ছিলেন।

 

প্যাকেজ-১ এর অধিনে কক্সবাজার এয়ারপোর্ট গেইট থেকে টুইট্টা পাড়া পর্যন্ত ১৭ কোটি ৮৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৩৯.০০ টাকা ব্যয়ে ৩ হাজার ৪৪১ মিটার দৈর্ঘ্য সড়কের আরসিসিকরণ, ড্রেন, ফুটপাত ও স্ট্রীট লাইট স্থাপন কাজ করা হবে। এতে উপ-সড়ক হিসেবে লিংক-১: মেয়র হাউজ রোড, লিংক-২: (বিআইডবিøউটি) জেটি রোড, লিংক-৩: নতুন বাহারছড়া রোড, লিংক-৪ : মধ্যম নুনিয়ারছড়া জামে মসজিদ রোড, লিংক-৫ : কেজি স্কুল রোডও রয়েছে।

প্যাকেজ-২ এর অধিনে শহীদ সরণী রোড (মুক্তিযোদ্ধা একেএম মোজাম্মেল গেইট থেকে জাম্বুর মোড় পর্যন্ত) ১৬ কোটি ৩৯ হাজার ৪৫৯.০০ টাকা ব্যয়ে ২ হাজার ৩৮০ মিটার দৈর্ঘ্য সড়কের আরসিসিকরণ, ড্রেন, ফুটপাত ও স্ট্রীট লাইট স্থাপন ।

এতে উপ-সড়ক হিসেবে লিংক-১: সালাম মিয়া রোড, লিংক-২: বাহারছড়া গোল চত্বর রোড, লিংক-৩: আরআরআরসি রোড, লিংক-৪: সাব রেজিস্টার অফিস রোডও রয়েছে।

প্যাকেজ-৩ এর অধিনে বইল্যা পাড়া থেকে শহীদ সরণী রোড হয়ে গোলদিঘীর পাড় পর্যন্ত ১৯ কোটি ২০ লাখ ৯৬ হাজার ৯২৬.০০ টাকা ব্যয়ে ৩ হাজার ৮৫৪ মিটার দৈর্ঘ্য সড়কের আরসিসিকরণ, ড্রেন, ফুটপাত ও স্ট্রীট লাইট স্থাপন ।

এতে উপ-সড়ক হিসেবে লিংক-১: কক্স মার্কেট রোড, লিংক-২: শংকর মঠ মিশন রোড, লিংক-৩: সুইপার কলোনী রোড, লিংক-৪: কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ রোড হতে খানেকা রোড, লিংক-৫: মোহাজের পাড়া রোড, লিংক-৬: জেলা পরিষদ রোড, লিংক-৭: বিকে পাল রোড।

প্যাকেজ-৪ এর অধিনে জেলেপার্ক মাঠ থেকে বিমান বাহিনীর গেইট এবং বায়তুল রিদুয়ান জামে মসজিদ থেকে শুটকী মহাল পর্যন্ত ১৭ কোটি ৪ লাখ ৫১ হাজার ১২ টাকা ব্যয়ে ৩ হাজার ৩১০ মিটার দৈর্ঘ্য সড়কের আরসিসিকরণ, ড্রেন, ফুটপাত ও স্ট্রীট লাইট স্থাপন কাজ করা হবে। এতে উপ-সড়ক হিসেবে লিংক-১: নাজিরারটেক পুরাতন বাজার রোডও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এছাড়া প্যাকেজ-৫ এর অধিনে থানা রোড থেকে খুরুশকুল ব্রীজ লাগোয়া রোড় পর্যন্ত ১৬ কোটি ৫৮ লাখ ৬৫ হাজার ৭০৭.০০ টাকা ব্যয়ে ৩ হাজার ৪৩০ মিটার দৈর্ঘ্য সড়কের আরসিসিকরণ, ড্রেন, ফুটপাত ও স্ট্রীট লাইট স্থাপন কাজ শুরু হচ্ছে।

এই সড়কের ভেতরে উপ-সড়ক হিসেবে লিংক-১: কেন্দ্রীয় মহাশ্মশান রোড, লিংক-২: পৌর সুপার মার্কেট রোড, লিংক-৩: ফুলবাগ সড়ক, লিংক-৪: বার্মিজ স্কুল রোড, লিংক-৫: পুরাতন ম্যালেরিয়া অফিস রোড, লিংক-৬: পেশকার পাড়া রোড, লিংক-৭: টেকপাড়া রোড আরসিসিকরণ, ড্রেন, ফুটপাত ও স্ট্রীট লাইট স্থাপন কাজ  ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে ।।

 

প্রায় ৮৭ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে শুরু হওয়া ২৯টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উপ-সড়কের (আরসিসিকরণ) কাজের গুণগতমান নির্ণয় ও অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ক কর্মশালা বিশ্ব   ব্যাংকের টাস্ক টিম লিডার ড. কোবেনা।  উপস্থিত থাকেন ।  কক্সবাজার এলজিইডি ভবনের সম্মেলন কক্ষে মিউনিসিপ্যাল গভার্নেন্স এন্ড সার্ভিসেস প্রজেক্ট (এমজিএসপি) এর প্রকল্প পরিচালক শেখ মুজাক্কা জাহেরের সভাপতিত্বে এবং উপ-প্রকল্প পরিচালক মনজুর আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী ও টেকনাফ পৌরসভার মেয়র হাজী মোহাম্মদ ইসলাম।

সেসময়  কর্মশালায় অংশগ্রহনকারী কক্সবাজার, চকরিয়া ও টেকনাফ পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরর উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে টাস্ক টিম লিডার ড. কোবেনা বলেন, নির্ধারিত সময় অর্থাৎ আগামী ৭ মাসের মধ্যে শতভাগ আরসিসিকরণ টেকসই কাজ সম্পন্ন করতে হবে।” এছাড়া প্রকল্পে কোন ধরণের অনিয়ম-দুর্ণীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সাথে সাথে অভিযুক্ত ঠিকাদারকে কালো তালিকায় তুলে দেয়া হবে বলেন প্রকল্প পরিচালক শেখ মুজাক্কা জাহের।  তিনি বলেন, কাজগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের পুরো চিত্রই বদলে যাবে। এ জন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং পৌরবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এদিকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ বশির উল্লা মজুমদার জানান, সিটি করপোরেশন এলাকার নগর উদ্যান, রাজগঞ্জ বাজার, চক বাজার, সুজানগর, প্রধান ডাকঘর সংলগ্ন স্থানে একটি করে ও জাঙ্গালিয়া কুমিল্লা কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনালে দুটি অত্যাধুনিক গণশৌচাগার চালু রয়েছে।  কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শেখ মো. নুরুল্লাহ্ ইত্তেফাককে জানান, ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) ও মিউনিসিপ্যাল গভর্ন্যান্স অ্যান্ড সার্ভিসেস প্রজেক্ট (এমজিএসপি) তে অত্যাধুনিক পাবলিক টয়লেট স্থাপনের জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকলেও সিটি করপোরেশনের নিজস্ব কোনো জায়গা না থাকায় তারা পাবলিক টয়লেট স্থাপন করতে পারেনি।  তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো বলেন, নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের চৌয়ারা বাজারে কুমিল্লা-চট্টগ্রাম পুরাতন মহাসড়কের পাশে একটি অত্যাধুনিক পাবলিক টয়লেট স্থাপন করতে গিয়ে স্থানীয়দের বাধার মুখে শেষ পর্যন্ত সেটি ব্যর্থ হয়েছি।

বিশ্ব ব্যাংকের সাথে  বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন ।

ফিরে দেখা ::

জুন’ ২০১০ এ বিশ্ব ব্যাংক আর্থিক সহায়তাপুষ্টমিউনিসিপ্যাল সার্ভিসেস প্রকল্পটি সফলভাবে সমাপ্তির পর দেশের নগর অবকাঠামো উন্নয়ন খাতেপ্রচুর চাহিদা থাকায় বাংলাদেশ সরকার এখাতে আরও উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহনের জন্য  বিশ্ব ব্যাংক-কে অনুরোধ করে। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের প্রেক্ষিতে বিশ্ব ব্যাংক মিউনিসিপ্যাল গভারন্যান্স এ্যান্ড সার্ভিসেস প্রজেক্ট (এমজিএসপি)নামে নতুন এ বিনিয়োগ প্রকল্পে অর্থায়নে সম্মত হয়। এমজিএসপি এর জন্য বিশ্ব ব্যাংক মোট৫টি মিশন সম্পন্ন করে, যার মধ্যে জুন’ ২০১৩-তে প্রি-আপ্রাইজাল মিশন, সেপ্টেম্বর’২০১৩ আপ্রাইজাল মিশন সম্পন্ন হয়। ১৪ নভেম্বর ২০১৩ তে বিশ্ব ব্যাংকের সাথে ইআরডি’র লোন নিগোশিয়েশন সম্পন্ন হয়। ১৪ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখ বিশ্বব্যাংক বোর্ড সভায় প্রকল্পটিঅনুমোদিত হয় এবং ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪ তারিখে বাংলাদেশসরকার ও বিশ্ব ব্যাংকের মধ্যে প্রকল্পের ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যা ০৬  এপ্রিল ২০১৪ থেকে কার্যকর হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্ব ব্যংকের অর্থায়ণে কারিগরী সহায়তা প্রকল্পের আওতায় এমজিএসপি’র ফিজিবিলিটি ষ্ট্যাডি সম্পন্ন করা হয়।

 

যেভাবে প্রকল্প এলাকা নির্বাচন করা হয়েছেঃ বিশ্ব ব্যাংক সম্পাদিত Growth Study পর্যবেক্ষণঅনুযায়ী বাংলাদেশের ৪টি Major Growth Corridor ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-রংপুর ও ঢাকা-ময়মনসিংহ এর উপর অবস্থিত পৌরসভা এবং পদ্মাব্রীজের কারণে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সম্ভাবনা বিবেচনায় দক্ষিণ অঞ্চলের ৩টিজেলা শহর-কে এমজিএসপি এর জন্য নির্বাচন করা হয়।

 

প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হ’ল নির্বাচিত আরবান লোকাল বডি (ইউএলবি) -এর পৌরসভা প্রশাসন এবং নগর পরিষেবাগুলিকে উন্নত করা।
সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যগুলি:
১। অপারেশন এবং মেইনটেনেন্স (ওঅ্যান্ডএম) সহ প্রাথমিক নগর পরিষেবাগুলির সরবরাহ বাড়ানো;
২। পৌরসভা প্রশাসন উন্নতিকরন, আর্থিক পরিচালনা, এবং নিজস্ব আয় বর্ধন;
৩। কার্যকর ও টেকসই পদ্ধতিতে পরিকল্পনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বাস্তবায়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ইউএলবিগুলির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার করা;

 

স্বাধীনতারপর থেকেই বাংলাদেশে নগরায়ন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু যেভাবে নগরায়ন বৃদ্ধি পাচ্ছে সে তুলনায়নগরের অবকাঠামো বিশেষত রাস্তা, ড্রেন, পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশনসুবিধাদি গড়ে ওঠেনি।  ফলে ব্যাপক যানজট, জলাবদ্ধতা এবং যত্রতত্র বর্জ্য স্তুপকরনসহ অন্যান্য নাগরিক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
এ বাস্তবতায় বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে বিশ্ব ব্যাংক মিউনিসিপ্যাল গভারন্যান্স এ্যান্ড সার্ভিসেস প্রজেক্ট (এমজিএসপি) নামে নতুন এ বিনিয়োগ প্রকল্পে অর্থায়নে সম্মত হয়। বিশ্ব ব্যাংক সম্পাদিত Growth Study পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী বাংলাদেশের ৪টি Major Growth Corridor ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-রংপুর ও ঢাকা-ময়মনসিংহএর উপর অবস্থিত পৌরসভা এবং পদ্মা ব্রীজের কারণে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সম্ভাবনাবিবেচনায় দক্ষিণ অঞ্চলের ৩টি জেলা শহর-কে এমজিএসপি এর জন্য নির্বাচন করা হয়।  প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রকল্প সদরদপ্তরে প্রকল্প পরিচালকের নেতৃত্বে প্রকল্প সমন্বয় অফিস ; সেখানে দুই জন উপপ্রকল্পপরিচালক, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ পরামর্শক দলের সহায়তায় প্রকল্পের সকল কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও মনিটরিং করার কথা বলা হয় ।

 

প্রকল্পের উপাদানসমূহঃ

১। মিউনিসিপ্যালগভারন্যান্স ও বেসিক আরবান সার্ভিসের উন্নয়নঃ এ কম্পোনেন্টের আওতায় দুইভাবে অর্থায়ণ করা ।

(১) Base allocation এর আওতায় বিশ্ব ব্যাংক অংশের মোট ২০৪.০০মিলিয়ন ইউএস ডলারের মধ্যে ১৫৩.০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার অর্থাৎ ৭৫% বরাদ্দ দেয়া হয় । এ বরাদ্দের ক্ষেত্রে পৌরসভার শ্রেণী, জনসংখ্যা, আয়তন ইত্যাদি বিবেচনা করা হয়। Base allocation ১ম ও ২য় বছরের তুলনায় ৩য় ও ৪র্থ বছরে বেশী হবে এবং ৫ম বছরে আবার কমে ৬ষ্ঠ বছরে তা শূণ্য হয়ে যাবে।

(২) Performance based allocation এর আওতায় পৌরসভা সমুহের Performance উন্নয়ন পরিকল্পনা, সামাজিক দায়বদ্ধতা,আর্থিক ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আদায় ইত্যাদি ১০টি পরিমাপযোগ্য ও সহজ indicator এর মাধ্যমে মূল্যায়ন করে এ বরাদ্দপ্রদান করা হয়। এ খাতে বরাদ্দের পরিমান ৫১.০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার অর্থাৎ বেসিক আরবানসার্ভিসের উন্নয়নে বিশ্ব ব্যাংকের মোট বরাদ্দের ২৫%। Performance based allocation প্রকল্পের ৩য় বছর থেকে শুরু হয়ে ৬ষ্ঠবছর পর্যন্ত অব্যাহত থাকার কথা বলা হয়। কোন পৌরসভা যদি কোন বছর  Performance এরভিত্তিতে allocation গ্রহনের জন্য যোগ্যতা অর্জন না করতে পারে সেক্ষেত্রে capacity building support আরও জোরদার করে পরবর্তী বছরে সক্ষমতা অর্জণের জন্য সুযোগ রাখা হবে বলে বলা হয়। তারপরও কোন পৌরসভা ব্যর্থ হলে ঐ পৌরসভার জন্য রক্ষিত অর্থ উর্ত্তীণ পৌরসভা সমূহের মধ্যে পূনঃ বন্টন করা হবে।

২। অপারেশন এ্যান্ড মেইনটেন্যান্সঃ সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা পর্যায়ে অবকাঠামোও অন্যান্য সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের culture শুরুর লক্ষ্যে এ প্রকল্পে pilot ভিত্তিতে operation and maintenance planning এবং budgeting এর প্রভিশন রাখা হয়েছে। এজন্য বিশ্বব্যাংক প্রকল্পের মেয়াদকালে ক্রমহ্রাসমান (decline)হারে ২০.০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার প্রদান করবে। প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা প্রকল্পে নিয়োজিত ডিজাইন, সুপারভিশন ও ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট এর সহায়তায় O&M পরিকল্পনা প্রস্তুত করবে এবং প্রতিবছর এ খাতে নিজস্ব তহবিল থেকে বাজেট বৃদ্ধি করা হবে মর্মে নিশ্চয়তা প্রদান করবে।

৩। প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির কার্যক্রমঃ এই প্রকল্পের আওতায় প্রাতিষ্ঠানিকউন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির কার্যক্রমে দেশের সকল সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা (১৪৬টি) অন্তর্ভূক্তআছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, নিজস্ব রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি,রেকর্ডপত্রাদির কম্পিউটারাইজেশন ইত্যাদি বিষয়াবলি উন্নয়নের মাধ্যমে পৌরসভাসমূহের দক্ষতাবৃদ্ধি এবং মেয়র, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা এ কার্যক্রমের আওতায়রাখা হয়েছে। এছাড়াও প্রকল্প থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, হার্ডওয়ার ও অন্যান্য লজিষ্টিকসরবরাহ করা হবে যা পৌরসভার দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে; ফলশ্রতিতে পৌরসভাসমূহ সুষ্ঠুও সুচারুভাবে তাদের কার্যাদী সম্পাদন করতে সক্ষম হবে।

৪। Third Party Monitoring: প্রকল্পকার্যক্রমের সচ্ছতা, জবাবদিহিতা ইত্যাদি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগথেকে পৃথকভাবে ThirdParty Monitoring এর কার্যক্রমপরিচালিত হবে ।

৫। Contingent Emergency Response: প্রাকৃতিক দূর্যোগ (বন্যা,ঘূর্ণিঝড়) প্রভৃতি কারণে জরুরী প্রয়োজনে অতিরিক্তঅর্থ যোগানের প্রভিশন এ প্রকল্পে রাখা হয়েছে।

 

     More News Of This Category

Our Like Page