ভালোবেসে এসেছেন প্রকৌশলী হতে, কাজ করছেন নিষ্ঠার সাথে প্রকৌশলী মোঃ এনামুল হক

 

 

বাংলাদেশের নীলকুঠীখ্যাত ঐতিহ্যবাহী সমৃদ্ধ জেলা নীলফামারীর একটি শান্ত পল্লী গাঁয়ের নিরব নিভৃত ছায়া সুনিবির সহজ সরল মানুষের মাঝে বেড়ে উঠা। শৈশব কেটেছে  সৃত্মিময় আপন মানুষগুলোর স্নেহ মমতায়।১৯৮১ সালে কিশোরগঞ্জ উপজেলার  শরীফাবাদ দ্বী-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে কয়েকটি বিষয়ে লেটার মাকর্সসহ ১ম বিভাগে  সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হন। দলিয়াম ছয় ঘরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষা জীবনের প্রথম বিদ্যাপাঠের আসর ছিলো। জীবনের সব সৃত্মি আজও নিয়ে যায় নস্টালজিয়ায়। সময় হাতড়িয়ে ফিরে আসেন এখনকার বাস্তবতায়। আহ কতই না রঙ্গিন ছিলো সেই সব দিনগুলো।

কথা হচ্ছিল প্রকৌশলী মোঃ এনামুল হক পিইঞ্জ  সর্ম্পকে। সম্প্রতি

দেশের একমাত্র প্রকৌশল বিষয়ক ডিজিটাল কাগজ আমাদের প্রকৌশল

এর সাথে কথা হয়েছে  জীবনের নানান বিষয় নিয়ে । তার কিছু চৌম্বুক অংশ তুলে ধরা হলো ।

আলাপচারিতায় ছিলেন  পোর্টালটির সম্পাদক শাহিন বাবু…

 

মুলতঃ শিক্ষা জীবনের সব কটি স্তরে রেখেছেন দুর্দান্ত মেধার স্বাক্ষর। উত্তর জনপদের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ১৯৮৩ সালে কয়েকটি বিষয়ে লেটার মাকর্সসহ ১ম বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। মেডিক্যাল কলেজে ভর্তী হলেও সেটা শুরু না করে প্রকৌশলকে ভালবেসে ভর্তী হন  সেসময়ের রাজশাহী প্রকৌশল কলেজে (  বর্তমান রুয়েট) । ১৯৮৮ সালে  সিভিল ইন্জিনিয়ারিং এ ১ম শ্রেণীতে ২য় স্থান অধিকার করেন। এক সময় ইচ্ছে ছিলো শিক্ষকতা করার তবে সে পেশায় আর যাওয়ার সুযোগ হয়নি।

 

 

রুয়েট থেকে বের হয়ে এক বছর বাংলাদেশ কনসালটেন্ট লিঃ নামে একটি প্রাইভেট ফার্মে কাজ শুরু করেন।

এরপর ১৯৮৯ সালে পাবলিক সার্ভিস কমিশন ( পিএসসি)’র মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর এলজিইডিতে (সাবেক এলজিইবি) উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে ।

১ম কর্মস্থল দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলা। এরপর দায়িত্বপালন করেন নীলফামারীর ডোমার, রংপুরের মিঠাপুকুর; পীরগাছা এবং পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায়। পাঁচ উপজেলায় টানা দশ বছর নিষ্ঠার সাথে দায়িত্বপালন করেন। এছাড়াও নির্বাহী প্রকৌশলীর দফতরে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বপালন  করেন ।

 

২০০৫ সালে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতী পাওয়ার পর  যশোর জেলা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে দায়িত্বপালন করেন। এরপর লালমনিরহাট, পঞ্চগড় এবং কুড়িগ্রাম জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে টানা  প্রায় ৭ বছর সফলতার সাখে দায়িত্বপালন  করেন ।

 

 

২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কৃষি মন্ত্রনালয়ের আওতায় বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট একটি  প্রকল্পে ব্যবস্থাপক হিসেবে সফলতার সাখে দায়িত্বপালন  করেন তিনি।

২০১৮ সালের ৯ মার্চ এলজিইডি’র  বিশ্বব্যাংক সাহায্যপুষ্ট ‘রুর‌্যাল ট্রান্সপোর্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টে’ এ প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০১৯ সালের ২৫ মার্চ পদোন্নতী লাভ করলে রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। সম্প্রতি এলজিইডি সদর দফতরে  তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ( সড়ক বাস্তবায়ন) হিসেবে  যোগদান করেছেন। তার কর্ম অধিক্ষেত্র হলো এলজিইড ‘র প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসুচী । উল্লেখ্য ২০০৭ সালে তিনি বিপিইআরবি’তে পেশাদার প্রকে্ৗশলী ( পিইঞ্জ) হিসেবে নিবন্ধিত হন।

১৯৯০ সালে বৈবাহিক সর্ম্পকে আবদ্ধ হন। প্রিয়তমা স্ত্রী মন্জুমান আরা বেগম রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে এমএসএস পাশ করলেও পুরোদস্তুর গৃহিণী। প্রকৌশলী মোঃ এনামুল হক পুরোটা জীবন থেকে গেছেন একজন অধুমপায়ী মানুষ হিসেবে। চমৎকার নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত, সন্তানদেরও সেভাবে গড়ে তুলছেন। দু’কন্যা সন্তানের গর্বিত পিতা তিনি। ১ম কন্যা মুছাররত নাওয়াত এনাম সিভিল ইন্জিনিয়ারিং এ গ্রাজুয়েশন করেছেন। জামাতা বিসিএস ( প্রশাসন) ক্যাডারের একজন কর্মকতা  হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। ছোট কন্যা মাকনুনা মারজানা হক ঢাকাস্থ স্বনামধন্য হলিক্রস উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত।

 

 

পেশাগত কারনে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় এবং দক্ষতা বাড়াতে সফর করেছেন, ফিলিপাইন থাইল্যান্ড, সৌদিআরব, মালয়েশিয়া, সিংগাপুর, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, নিউজিল্যান্ড । তিনি মনে করেন পল্লী অঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়নে কাজের মান ধরে রাখতে কমিউনিটির অংশ গ্রহন একান্ত দরকার।

 

 

 

 

তার প্রিয় খাবার পদ্মার রুপালী ইলিশ, খাশির মাংস, পাট শাক আর রংপুর অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবার শিদল। আলুর ডাল আর ডিমও রয়েছে পছন্দের তালিকায়। ঘুরতে যাওয়ার তালিকায় রয়েছে মৌলভীবাজার এবং গাজীপুর। এছাড়াও নিজের গ্রামটা সব সময় প্রিয়।

ধর্মীয় ভাবনা মহান স্রষ্টার প্রতি আনুগত্য রীতিনীতি পালনেও সব সময় অনেক বেশী আবেগী একজন মানুষ তিনি। জীবনে চলার পথে অজান্তে ঘটে যাওয়া ভূলগুলো শুধরাতে চান । সামনে এগিয়ে যেতে চান নিজের কর্মদক্ষতা আর সততার উপর ভর করে । সিনিয়রদের প্রতি বিশ্বাস আস্থায় অবিচল এই মানুষটি প্রতিনিয়ত শিখে শিখে এগুতে চান। অসম্ভব সৃস্টিশীল মানুষ তিনি। অনেক মানবিক একজন মানুষও বটে।

 

সব সময় প্রিয় রং শুভ্রতার প্রতিক সাদা, প্রিয় ফুলের তালিকায় লাল গোলাপ। প্রিয় জাতীয় কবি নজরুল বিদেশে সেক্সপিয়র। উত্তমকুমার সুচিত্রা জুটি আর রাজ্জাক শাবানা কবরি পছন্দের তালিকায় থাকা। ভারতীয় বাংলা সিনেমা ’শ্বেত পাথরের থালা’ রয়েছে ভালোলাগার তালিকায় প্রথমেই।

 

জীবন নতুনভাবে শুরু করার সুযোগ পেলে সুস্থ সুন্দর চিন্তা ভাবনার একজন রাজনীতিক হতে চান । সমাজের সমস্যাসংকুল মানুষের পাশে দাড়ানোর আকুলতা রয়েছে । সব কিছু স্বাভাবিক থাকলে ২০২৫ সালের জুন নাগাদ র্দীঘ বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনে ইতি ঘটবে। অবসরে মানুষের কাছাকাছি থেকে নানামুখী সমাজ উন্নয়নমুখী কাজে নিবেদিত হওয়ার তীব্র আকাংখা রয়েছে তার।

 

     More News Of This Category

Our Like Page