স্থানীয় সরকার

আমাদের প্রকৌশল ডেস্ক ।।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।
গুণগত ও মানসম্মত কাজের ব্যাপারে কারো সঙ্গে কোনো ‘কম্প্রোমাইজ’ হবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। দুর্নীতি, অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলে কঠোর শাস্তি পেতে হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
 রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আয়োজিত আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ‘শ্রেষ্ঠ আত্মনির্ভরশীল নারী সম্মাননা-২০২১’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। যার ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তাকে তা যথাযথ পালন করতে হবে। নিম্নমানের কাজের সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক, তাকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। সারা দেশে এলজিইডির যে সুনাম রয়েছে, তা কেউ ক্ষুণ্ণ করবে—এটা বরদাস্ত করা হবে না।
মো. তাজুল ইসলাম আরও বলেন, প্রচার-প্রচারণায় নয়, কাজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে মানুষের সঙ্গে পরিচিত করতে হবে। নিম্নমানের কাজ করে বদনাম নেওয়া যাবে না। ছোটখাটো ভুলের জন্য বড় ধরনের ইমেজের ক্ষতি হয়। তাই ছোট হোক, বড় হোক—অনিয়ম করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
মন্ত্রী জানান, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট টেকসই করতে হবে। টাকা সেভ করতে গিয়ে নিম্নমানের কাজ করা যাবে না। এ সময়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সব কার্যক্রম মনিটরিং করার জন্য এলজিইডির সর্বস্তরের কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তাজুল ইসলাম বলেন, নেভিগেশন, হাইড্রোলজিক্যাল, জিওলোজিক্যাল ও মরফোলোজিক্যাল দিক বিবেচনায় না নিয়ে পাশাপাশি অথবা বিশেষ কোনো ব্যক্তির বাড়ির পাশে ব্রিজ নির্মাণ পরিহার করতে হবে।
বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ব্রিজের নকশা প্রণয়নের ক্ষেত্রে নৌ চলাচলের বিষয়টি অবশ্যই প্রাধান্য দিতে হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় না নিয়ে কোনো ব্রিজ নির্মাণ না করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দেন তিনি।
দেশে নারীর ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে মো. তাজুল ইসলাম বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে নারীদের অধিকার তুলনামূলকভাবে বেশি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে শিক্ষা এবং অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে নারীরা সবক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করছে এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রেখে যাচ্ছে। নারী ও পুরুষের কর্মকাণ্ডে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। তাই কিছু কিছু ক্ষেত্রে নারীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে, এলজিইডির জেন্ডার অ্যান্ড উন্নয়ন ফোরাম কর্তৃক নির্বাচিত পল্লী উন্নয়ন, নগর উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন—এই তিন ক্যাটাগরিতে মোট নয়জন নারীর হাতে আত্মমর্যাদাশীল নারী সম্মাননা হিসেবে ক্রেস্ট তুলে দেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো.আব্দুর রশীদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মেজবাহ উদ্দিন আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্য দেন।

অনিয়ম করলে কঠোর শাস্তি : এলজিআরডি মন্ত্রী

আমাদের প্রকৌশল ডেস্ক ।।

দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি জেলায় পল্লী যোগাযোগ সহ নানামুখি উন্নয়ন অকাঠামো নির্মান ছাড়াও মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে চলতি অর্থ বছরে প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-এলজিইডি। এ অর্থের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটি দক্ষিণাঞ্চলের ৪২টি উপজেলায় ৪ হাজার ১৩৬টি স্কিম বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬শ কোটি টাকা বরাদ্ব অবমূক্ত করা হয়েছে। যারফলে অর্থ বছরের প্রথম ৬ মাসে প্রায় ৪২ ভাগ ভৌত অবকাঠমোর কাজ শেষ হয়েছে। আর্থিক অগ্রগতিও প্রায় ৪০%।
নতুন প্রকল্প ছাড়াও অতীতে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর রক্ষনাবেক্ষন ও মেরামত কাজে এলজিইডি  কর্মজজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। পাল্লী যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মান ছাড়াও দক্ষিনাঞ্চলে ৪২টি উপজেলা যুড়ে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনগুলোর মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষনে এলজিইডি গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করছে। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনসমুহের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সীমানা প্রাচীর ও গেট পর্যন্ত নির্মান করছে এলজিইডি। এমনকি সড়ক ও সেতু ছাড়াও পল্লী এলাকার হাট-বাজার ও গ্রোথ সেন্টার নির্মান এবং মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষনে বিশেষ ভূমিকার কথা জানিয়েছে এলজিইডি’র বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ওয়হিদুর রহমান।
চলতি অর্থ বছরে প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার ১৮৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যায়ে দক্ষিণাঞ্চলে ২,৫১৭টি নতুন স্কিম ছাড়াও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচীর আওতায় ১৮২.১৩ কোটি টাকা ব্যায়ে ৩৫৪টি স্কিম বাস্তবায়ন কাজ করছে। এছাড়া প্রথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় ১৭১.৬৭ কোটি টাকা ব্যায়ে আরো ১ হাজার ২৬৫টি স্কিম বাস্তবায়ন করছে এলজিইডি।
অতীতে নদ-নদী বহুল ও কৃষিনির্ভর দক্ষিণাঞ্চলের পল্লী এলাকায় পাকারাস্তা এবং কংক্রীটের সেতু ও কালভার্ট ছিল অনেকটাই স্বপ্নের মত। সে অবস্থার পরিবর্তন এসেছে ইতোমধ্যে। প্রায় ৫১ হাজার কিলোমিটার গ্রামীন, ইউনিয়ন ও উপজেলা সড়ক দক্ষিণাঞ্চলের আর্থ সামাজিক ব্যবস্থায় ব্যপক পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে। এসব সড়ক ছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলে বিপুল সংখ্যক সেতু ও কালভার্ট উন্নয়ন সম্পন্ন করেছে এলজিইডি। এছাড়াও প্রায় ১২ হাজার কিলোমিটার গ্রামীন, ইউনিয়ন ও উপজেলা সড়কের উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার গ্রামীন সড়ক এবং প্রায় ৪ হাজার সেতু ও কালভার্ট নির্মানে ব্যায় হয়েছে সোয়া ৫শ কোটি টাকা।
‘দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’র আওতায় প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যায়ে বরিশালের সানুহার ও ধামুড়া ও সাতলা উপজেলা সড়কের ২৩ কিলোমিটারে ৫৬০ মিটার দীর্ঘ একটি পিসি গার্ডার সেতু নির্মান করেছে এলজিইডি। একই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যায়ে বরিশালের মুলাদী থেকে নাজিরপুর ও মোল্লারহাট হয়ে কুতুবপুর পর্যন্ত সড়কের আড়িয়াল খাঁ নদ-এর ওপর ৪৩২ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মান কাজও শেষ হয়েছে। এছাড়াও প্রায় ৩১ কোটি টাকা ব্যায়ে হারতা বাজার সংলগ্ন কঁচা নদীর ওপর ২৮০ মিটার দীর্ঘ আরো একটি সেতু নির্মানের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এরফলে উজিরপুর ও কোটালীপাড়ার বিল অঞ্চলের দূর্গম এলাকার সাথে মূল জনপদের দ্রুত ও নির্বিঘ্নে সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
‘বৃহত্বর বরিশাল প্রকল্প’এর আওতায় প্রায় ২০কোটি টাকা ব্যায়ে বরিশাল মহানগরীর সাথে চরমোনাই-বুখাইনগর ও বিশ্বাসেরহাট সড়কের ‘কড়াইতলা সেতুটির নির্মান কাজও সম্পন্ন হয়েছে। একই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫৫ কোটি টাকা ব্যায়ে বাকেরগঞ্জের গারুরিয়া ও গোবিন্দপুর সড়কের তুলাতলা নদীর ওপর ১১টি স্প্যানে ৪৪০মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতুটির নির্মান কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলে পল্লী যোগাযোগ এবং প্রাথমিক শিক্ষা সহ গ্রামীন হাট-বাজার উন্নয়নে এলজিইডি আরো একাধীক প্রকল্প প্রনয়ন করছে বলেও জানিয়েছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান।
 ‘দক্ষিণাঞ্চলীয় পল্লী সড়ক ও কালভার্ট মেরামত কর্মসূচী’, ‘বৃহত্বর বরিশাল জেলা গ্রামীন যোগাযোগ ও হাট বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’, ‘জরুরী ঘূর্ণিঝড় পুনরুদ্ধার প্রকল্প’, ‘গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প’, ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ন পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’, ‘সড়ক ও জনপথ থেকে স্থানান্তরিত সড়ক প্রকল্প’, ‘উপজেলা সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প’, ‘আরআইএমপি ও এলসিএস প্রকল্প’, প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচী’, ‘অংশগ্রহনমূলক ক্ষুদ্রকার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’ সহ দক্ষিণাঞ্চলের পল্লী এলাকায় প্রায় ৩০টি প্রকল্পের আওতায় কয়েক হাজার স্কীম বাস্তবায়ন করছে এলজিইডি।
দক্ষিণাঞ্চলের ৪২টি উপজেলায় ইতোমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স-এর নির্মানকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়াও হাজারখানেক ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাকে বাসস্থান নির্মান করে দিচ্ছে এলজিইডি। ঝালকাঠীতে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যায়ে প্রাইমারী টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিউট-পিটিআই’এর নির্মান কাজও সম্পন্ন করেছে এলজিইডি।
পিরোজপুরে নাজিরপুরে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা ব্যায়ে দির্ঘা নদীর ওপর ৩৬০মিটার লম্বা পিসি গার্ডার সেতুর নির্মান কাজ শেষ হয়েছে। নেসারাবাদের কালিগঙ্গা নদীর ওপর ৬শ মিটার লম্বা একটি সেতু নির্মানে ১১৫কোটি টাকার প্রকল্পের কাজও শুরু হয়েছে। দ্বীপজেলা ভোলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় সোয়া ২শ কোটি টাকা ব্যায়ে ৪২টি সাইক্লোন শেল্টার কাম প্রাইমারী স্কুল নির্মান কাজও শেষ পর্যায়ে। বরগুনার বদনীখালী খালে ৭.৭৮ কোটি টাকা ব্যায়ে ১২০মিটার দীর্ঘ একটি আরসিসি গার্ডার সেতুর নির্মান কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যায়ে বেতাগী ও পাথরঘাটা উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনের নির্মান কাজও সম্পন্ন করেছে এলজিইডি।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ৯৩ কোটি টকা ব্যায়ে আন্ধারমানিক নদীর ওপর ৬৭৭ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মান কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যায়ে পটুয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলাতে সড়ক এবং সেতু ও কালভার্ট নির্মান কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলে পল্লী যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে এলজিইডি

স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উপর মতবিনিময় সভায় উপস্থিত প্রধান অতিথি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম, এমপি  ক্রেষ্ট প্রদান করছেন  রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাঃ আব্দুল মালেক সরকার। এসময় উপস্থিত ছিলেন এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী জনাব মোঃ আব্দুর রশিদ খান । সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আমাদের প্রকৌশল ডেস্ক ।।

পরিকল্পনা অনুযায়ী সব গ্রামীণ রাস্তা প্রশস্তের পাশাপাশি ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা হবে। সেই সঙ্গে ডিজাইন পরিবর্তনের মাধ্যমে এসব রাস্তার স্থায়িত্বকাল করা হবে কমপক্ষে ১০ বছর। বাঁক কমিয়ে সড়কগুলো করা হবে সোজা।  ‘শহরের সুযোগ-সুবিধা নিতে হবে গ্রামে’- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন ভাবনা সামনে রেখে এবার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বৃহৎ পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার।

 

পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর কারিগরি সহায়তায় হালনাগাদকৃত ‘রোড ডিজাইন স্ট্যান্ডার্ড’ অনুমোদনের জন্য একটি প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে জমা দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। ডিজাইনটি অনুমোদন হলেই ধারাবাহিকভাবে বদলাতে শুরু করবে গ্রামীণ রাস্তাঘাট।

 

জানা গেছে, সরকারের ‘আমার গ্রাম-আমার শহর’ কর্মপরিকল্পনায় দেশব্যাপী ৮৭ হাজার ২৩০টি গ্রামকে উন্নত ও টেকসই সড়ক যোগাযোগ দ্বারা সংযুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গতকাল (১৭ নভেম্বর) একনেক সভায়ও সারা দেশের গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণে একটি মহাপরিকল্পনা তৈরির জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সারা দেশের গ্রামীণ রাস্তাঘাট উন্নয়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

 

জানা গেছে, বর্তমানে সড়ক ডিজাইনের ক্ষেত্রে ২০০৪ সালে পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক গেজেটকৃত ‘রোড ডিজাইন স্ট্যান্ডার্ড’ অনুসরণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। সে ডিজাইন অনুযায়ী এখন পর্যন্ত সব গ্রামীণ সড়ক সর্বোচ্চ ১২ ফুট প্রশস্ত করে তৈরি হয়েছে। সড়কে গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে যানজট ও গ্রামীণ সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল শুরু করায় দ্রুত ভেঙে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বুয়েটের সহায়তায় নতুন ডিজাইন স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করেছে এলজিইডি। নতুন ডিজাইনে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দৈনিক ১০১ থেকে ৫০০ মাঝারি যানবাহন চলাচলকারী সড়কগুলোকে ১২ ফুট থেকে বাড়িয়ে ১৮-২০ ফুট, দৈনিক ৫০১ থেকে সহস্রাধিক যানবাহন চলাচলকারী (ভিন্ন ভিন্ন স্লাবে) সড়কগুলোকে ২২ ফুট থেকে ৩৬ ফুট পর্যন্ত প্রশস্তের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই সঙ্গে যান চলাচলের সংখ্যা ও মাটির ভার বহন ক্ষমতার ভিত্তিতে আগের ডিজাইনে সড়কের ৮টি স্ট্যান্ডার্ড থাকলেও নতুন ডিজাইনে তা বাড়িয়ে ১৪টি করা হয়েছে।

 

এলজিইডি-সূত্র জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন সড়কগুলোর মধ্যে দৈনিক সহস্রাধিক ভারী যানবাহন চলাচলকারী সড়ক আছে ৩৮৭ কিলোমিটার। এ ছাড়া ৮৮০ কিলোমিটার সড়কে দৈনিক ৭৫১ থেকে ১ হাজার ভারী যানবাহন, ৪ হাজার ২২৫ কিলোমিটার সড়কে দৈনিক ৫০১ থেকে ৭৫০টি ভারী যানবাহন, ৫ হাজার ৬৩০ কিলোমিটার সড়কে ৪০১ থেকে ৫০০ মাঝারি যানবাহন, ৬ হাজার ৩৪০ কিলোমিটার সড়কে দৈনিক ৩০১ থেকে ৪০০ মাঝারি যানবাহন, ১২ হাজার ৩২০ কিলোমিটার সড়কে দৈনিক ২০১ থেকে ৩০০ মাঝারি যানবাহন, ৩৭ হাজার ১০০ কিলোমিটার সড়কে দৈনিক ১০১ থেকে ২০০ মাঝারি যানবাহন এবং ২ লাখ ৮৬ হাজার ৪৭১ কিলোমিটার সড়কে দৈনিক ১০০-এর কম হালকা যান চলাচল করছে। এ ছাড়া ২ লাখ ৩২ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা রয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো এলজিইডির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দেশব্যাপী ৬৩ হাজার ৯৪০ কিলোমিটার উপজেলা ও ইউনিয়ন পাকা সড়ক রয়েছে যার উল্লেখযোগ্য অংশ গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থায় কোর নেটওয়ার্ক হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। বিগত তিন দশকে নির্মিত এসব সড়কের বড় অংশেরই ডিজাইন লাইফ শেষ হয়ে যাওয়ায় পুনর্নির্মাণ প্রয়োজন। খসড়া অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় প্রতি বছর এলজিইডির ৭ হাজার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ কাঁচা সড়ক নির্মাণ ও ডিজাইন লাইফ শেষ হওয়া ৩ হাজার কিলোমিটার পাকা সড়ক আপগ্রেড করা হবে। আপগ্রেডের ক্ষেত্রে ২ হাজার কিলোমিটার সড়ক বিদ্যমান ১২ থেকে ১৮ ফিটে সম্প্রসারণ ও অবশিষ্ট ১ হাজার কিলোমিটার সড়ক ২০ ফুট, ২২ ফুট ও ২৪ ফুট প্রস্থে সম্প্রসারণ প্রয়োজন হবে। বাঁক সহজীকরণ, ব্রিজ অ্যাপ্রোচ উন্নয়নসহ এসব কাজে জমি অধিগ্রহণে প্রতি বছর প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। সার্বিক বিবেচনায় প্রতি বছর শতকরা ২৫ ভাগ ব্যয় বাড়বে। তবে প্রস্তাবিত ডিজাইন স্ট্যান্ডার্ড অনুমোদন হলে সড়ক টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় সড়কের লাইফ সাইকেল কস্ট কমে যাবে। সড়ক ভালো হওয়ায় অযান্ত্রিক যানবাহনে প্রতি কিলোমিটারে প্রতিদিন গড়ে ২ টাকা ও যান্ত্রিক যানবাহনে গড়ে ৫ টাকা খরচ কমে যাবে। ফলে সড়ক সম্প্রসাণের বাড়তি বিনিয়োগ দুই বছরের কিছু বেশি সময়ে উঠে আসবে। এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)-এর পরিকল্পনা, ডিজাইন ও গবেষণা ইউনিটের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুল আজিজ বলেন, ‘আগের ডিজাইনে আমরা চওড়া রাস্তা করতে পারতাম না। উপজেলা পর্যায়ে এখন প্রচুর গাড়ি হয়েছে। ভারী যানবাহনও চলছে। যানজট লেগে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ রাস্তাঘাট উন্নয়নে জোর দিয়েছেন। এ জন্য বুয়েটকে দিয়ে নতুন গাইডলাইন করা হয়েছে। এ ডিজাইন অনুমোদন হলে সড়কে যানবাহন চলাচলের সংখ্যা ও মাটির ভার বহন ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে সড়কের ডিজাইন বদলাতে পারব। পুরুত্বও বাড়াতে পারব। সড়ক টেকসই হবে। পরিকল্পনা কমিশন কিছু পরামর্শ দিয়েছিল। সে অনুযায়ী সংশোধন করে জমা দেওয়া হয়েছে। একই ডিজাইন স্ট্যান্ডার্ডে তৈরি হওয়ায় ভারী ও অধিক যান চলাচলকারী সড়কগুলো এক-দুই বছরের মধ্যেই ভেঙে যায়। নতুন ডিজাইন অনুমোদন হলে পরবর্তী সংস্কার ও নতুন রাস্তা তৈরির ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে রাস্তা তৈরি হবে। রাস্তাগুলো কমপক্ষে ১০ বছর টেকসই হবে।’

 

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বৃহৎ পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার

 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের স্থায়ী শূন্য পদসমূহে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে। ১টি পদে মোট ৪০০ জনকে নিয়োগ দেবে।

পদের নাম: কার্যসহকারী- ৪০০টি।

শিক্ষাগত যোগ্যতা: এইচএসসি/সমমান পাশ।

বেতন স্কেল: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা।

আবেদনের শেষ সময়: ৩১ জানুয়ারি ২০২১ তারিখ বিকেল ০৫টা পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে http://lged.teletalk.com.bd  ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

 

 

৪০০ জনকে নিয়োগ দেবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর

 

আমাদের প্রকৌশল ডেস্ক ।।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে হবিগঞ্জে শুরু হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের বিশেষ সড়ক মেরামত কাজ। গতকাল দুপুরে শহরতলীর পাইকপাড়া বাইপাস রোডে এ সংস্কার কাজের উদ্বোধন করা হয়। ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার সড়ক হবে সংস্কার’ এই শ্লোগান নিয়ে ২শ’ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার কাজ শুরু করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। সংস্কার কাজের উদ্বোধন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল বাছির, সহকারী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম, ফারুক আহমেদ প্রমূখ। ক্ষুদ্র মেরামত প্রকল্পের আওতায় এ সংস্কার কাজ চলবে জানায় স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ ব্যাপারে এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল বাছির জানান, বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে এলজিইডি মন্ত্রী তাজুল ইষলামের পরিকল্পনায় এ সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। মন্ত্রী মহোদয় এ কাজ উদ্বোধন করেছেন। আমরা আগে উদ্বোধন করলাম। ২শ’ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার কাজের পরেও যদি কোন কাজ বাকি থাকে তবে সেগুলোও সংস্কার করা হবে।রামুরামু (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: রামু উপজেলা এলজিইডি কর্তৃক গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ মাস  ‘অক্টোবর-২০২০’ উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কাজের উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজল, ইউএনও প্রণয় চাকমা, উপজেলা প্রকৌশলী ‘মো. নূরুল ইসলাম ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আলা উদ্দিন। মুজিব বর্ষে বছরব্যাপী নিয়মিতভাবে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কাজে সংশ্লিষ্ট সকলকে সম্পৃক্ত ও উদ্বুদ্ধ করার নিমিত্তে এলজিইডি এ বছরের অক্টোবর মাসকে গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ মাস হিসেবে ঘোষণা করেছে। এলসিএস মহিলা কর্মীদের সাথে নিয়ে উপজেলার ১১ ইউনিয়নে মাসব্যাপী গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে কাজ করবে এলজিইডি রামু অফিস।আড়াইহাজারআড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: আড়াইহাজারে গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ মাস পালন করা হয়েছে। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ-২, আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, নারায়ণগঞ্জ অঞ্চল এলজিইডি’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী অনীল চন্দ্র বর্মণ। স্থানীয় ঝাউগড়া এলাকায় গতকাল বেলা ১১টায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর আড়াইহাজার উপজেলার (এলজিইডি)। নারায়ণগঞ্জ জেলা এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম সরকারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহাগ হোসেন, উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাশির উদ্দিন, উপ-সহকারি প্রকৌশলী সৈয়দ রেজাউল করিম, আড়াইহাজার পৌরসভার মেয়র সুন্দর আলী, থানা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া প্রমুখ। উপজেলা এলজিইডি’র সূত্রে জানা গেছে, দপ্তরের আওতায় ৬৯৫টি গ্রামীণ সড়কে ৮০৬ কিলোমিটার সড়ক মির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫০ কিলোমিটার পাকা ও ৩২৫ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ মাসে প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক এলসিএস নারী কর্মী দ্বারা রক্ষণাবেক্ষণ বাস্তবায়ন করা হবে।নলছিটিনলছিটি (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি: মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ঝালকাঠির নলছিটিতে এলজিইডির মোবাইল রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় দপদপিয়া ইউনিয়নের  জুরকাঠি ভায়া নলছিটি সড়কের কয়েকটি ডিপ্রেশন মেরামতের মাধ্যমে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন ঝালকাঠি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন। জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এলজিইডি সারাদেশের ন্যায় ঝালকাঠি জেলায় একযোগে গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের মাধ্যমে অক্টোবর থেকে মার্চ মাসকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পর্যায়ক্রমে জেলার সকল এলজিইডির সড়কের ছোটখাটো ডিপ্রেশন সংস্কার করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা জেলা সহকারী প্রকৌশলী নূর-উস শামছ, নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মীর আক্তারুজ্জামান জামান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহাদাত হোসেন সহ এল সি এস মহিলা কর্মীবৃন্দ।মহম্মদপুর মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি: মহম্মদপুরে ‘গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ মাস অক্টোবর-২০২০’ এর উদ্বোধন করেন উপজেলা প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন মিয়া। উপজেলার শেখ হাসিনা সেতুর পূর্বপাড়ে বৃহস্পতিবার সকালে  এলসিএস এর লোকজন নিয়ে এবং এলজিইডিতে কর্মরতদের নিয়ে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সরজমিনে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন মিয়া বলেন, উপজেলায় সর্বমোট ৩৫৮টি রাস্তা আছে। যার দৈর্ঘ্য ৭৩৭ কি: মি: এর মধ্যে ৩৮০ কি: মি: রাস্তা কাঁচা রয়েছে। আর ই আরএমপি-৩ এবং এলসিএস এর মহিলা কর্মীসহ মোট ১০৪ জন কর্মী সারা বছর যেকোন রাস্তা মেরামতের প্রয়োজন হলে তারা মেরামতের কাজে নিযুক্ত থাকবে।  এছাড়া  স্থানীয় সরকার  এলজিইডির অধীনে থাকা সকল কার্যক্রম সঠিকভাবে করা হচ্ছে কিনা, তা তদারকি করার জন্য সার্বক্ষণিক দুইজন সুপারভাইজার নিযুক্ত থাকবে। তিনি আরো বলেন, ‘নির্মাণ সামগ্রী, আধুনিক প্রযুক্তি, জবাবদিহিতা এবং সুপারভিশন নিশ্চিত করা গেলে তার সুফল পাওয়া সম্ভব।

বিভিন্ন জেলায় এলজিইডি’র সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শুরু

শিক্ষা

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে নবনিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান শুক্রবার টুঙ্গিপাড়ায় স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
শ্রদ্ধা জানানোর পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেন।
এ সময় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাবৃন্দ, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন, ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ও সরকারি কর্মচারী সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ নেতৃবৃন্দ, জেলা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো শেষে প্রধান প্রকৌশলী টুঙ্গিপাড়া টিএসসিসহ কয়েকটি নির্মাণ সাইট পরিদর্শন করেন।
গত ২২ ডিসেম্বর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে মো. আরিফুর রহমানকে নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

জাতির পিতার সমাধিতে প্রধান প্রকৌশলীর শ্রদ্ধা

পাল্টে গেছে যশোরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেহারা

পাড়া গায়ের একটি নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যশোরের শার্শার পাকশিয়া আইডিয়াল কলেজ। ক’বছর আগে সেখানে ছিল না কোন ভবন। চাঁচের বেড়া ও টিনেই ছাউনি পাঠ দান করা হতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে। শিক্ষার্থীরা এতে মনোকষ্টে ভুগলেও রেজাল্ট দেখে সব কষ্ট ভুলে যেত। এইচএসসির ফলাফলে বিগত কয়েক বছর কলেজটি উপজেলায় সেরা হলে সুদৃষ্টি পড়ে স্থানীয় এমপি শেখ আফিল উদ্দিনের।

তারই চেষ্টায় এ কলেজে এখন ৪তলা একটি ও দুই তলার আরও একটি ভবন নির্মিত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে শেখাপড়া করছে। শহরের উপকন্ঠে অবস্থিত উপশহর মহিলা কলেজের অবকাঠামোগত অবস্থা পাকশিয়া কলেজের মতো না হলেও প্রতিষ্ঠানটির শ্রেণিকক্ষ সংকট ছিল। সেখানে বর্তমানে ৫তলা একটি, ৪তলা একটি, ৩তলা একটি, দুতলা একটি, একতলা ভবন রয়েছে। অবকাঠামোগত এই উন্নয়ন যাত্রায় পাল্টে গেছে যশোরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার চেহারা। সুদৃশ্য ভবনে পাঠদানে খুশি শিক্ষকরা। সুষ্ঠ-সুন্দর পরিবেশ পেয়ে খুশি শিক্ষার্থীরা।

যশোর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অবকাঠামোগত পরিসংখ্যান দেখলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। এ দপ্তরটি গত ৯ বছর যশোরের ৮ উপজেলার ২৮৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মাণ করেছে। এজন্য সরকার ব্যয় করেছে ২০৭ কোটি ১৯ লক্ষাধিক টাকা। তাদের হিসেব অনুযায়ী জেলার ৪৮টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একাডেমি ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

‘এডিবি’র অর্থায়নে সাহায্যপুষ্ট মাধ্যমিক শিক্ষাখাত উন্নয়ন’ প্রকল্পে ৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ১১টি প্রতিষ্ঠানের ভবন। ৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬টি উপজেলা সদরে মডেল বিদ্যালয় করা হয়েছে। ‘নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পে জেলার ৬৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভবন করতে সরকার ব্যয় করেছে ৩৭ কোটি ৪৪ লক্ষাধিক টাকা। আর ১১ কোটি ১৭ লাখ ৯৬ হাজার টাকা ব্যয়ে করা হয়েছে ১৯টি মাদ্রাসায় একাডেমি ভবন।

এছাড়া বেসরকারি কলেজের দ্বিতল একাডেমিক ভবন, বিদ্যামান ভবনের তয় ও ৪র্থ তলা সম্প্রসারণ ও চারতলা একাডেমিক ভবন মিলে মোট ৩০টি কাজে খরচ হয়েছে ৬৬ কোটি ২৬ লাখ টাকা। একইভাবে অনুন্নত বাজেটের আওতায় অন্যান্য ভবন ও অবকাঠামো খাতের অধীনে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ/সম্প্রসার করা হয়েছে ২৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে ১৭ কোটি ৫৫ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করেছে সরকার। আর সরকারি ১২ কলেজের ভবন বাবদ খবর করেছে ১৩ কোটি ১২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। এভাবে ২৮৬ প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নের কাজ করেছে যশোর শিক্ষা প্রকৌশল।

জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির যশোর জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ভবন, নির্মাণ, সম্প্রসারণ প্রকল্পের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানে আইসিটি ল্যাব স্থাপন অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাই নতুন শ্রেণিকক্ষে যেমন সুষ্ঠ ও সুন্দর পরিবেশ ফিরে এসেছে; তেমনি শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি জ্ঞানে বিকশিত হতে পারছে।

একই মতামত ব্যক্ত করেছেন শার্শার পাকশিয়া আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ আনিছুর রহমান। তিনি মুঠোফোনে গোনিউজকে বলেন, নতুন ভবনে পাল্টে গেছে শিক্ষার পরিবেশ। শিক্ষকরা স্বস্তির মধ্যে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছে।

একই কথা বলেছেন উপশহর মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. শাহানাজ পারভীন। তিনি  বলেন, তাদের কলেজে ল্যাব, ক্যান্টিন সবই আছে। মেয়েরা সেখানে উন্নত পরিবেশে লেখাপড়া শিখছে।

পাল্টে গেছে যশোরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেহারা

আমাদের প্রকৌশল ডেস্ক ।।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে ১২টি পদে মোট ১ হাজার ১৯৪ জনকে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে পদগুলোয় যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে আবেদন করতে পারবেন চাকরিপ্রত্যাশী যেকেউ। অনলাইনে পদগুলোর জন্য আবেদন শুরু হবে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে। এক মাস ধরে চলবে আবেদনের প্রক্রিয়া। আবেদনের শেষ দিন আগামী ২২ অক্টোবর।

পদের নাম ও পদসংখ্যা

হিসাবরক্ষক ২৫
কম্পিউটার অপারেটর ৬৯
সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর
উচ্চমান সহকারী ৩১
সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর
স্টোর কিপার
অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ৪০
অফিস সহকারী কাম ক্যাশিয়ার ২১
হিসাব সহকারী কাম ক্যাশিয়ার ১৪
ডেটা এন্ট্রি অপারেটর ৪৬৪
অফিস সহায়ক ৫১৫
নিরাপত্তা প্রহরী ১১

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর নেবে ১১৯৪ জন

আমাদের প্রকৌশল ডেস্ক ।।

বরিশাল-ভোলা মহাসড়কের বরিশাল সদর উপজেলার দুর্গাপুর নামক স্থানে নির্মিত বরিশাল সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ভবন, মাল্টিপারপাস ভবন, ইঞ্জিনিয়ারিং টিসার্স কোয়ার্টার ভবন, ছাত্র-ছাত্রী নিবাসসহ ১৮টি কমপোন্ডেট সকল স্তরের প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে সফলতা অর্জনের মাধ্যমে দ্রুত সম্পূর্ন করে কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রণালয় অধিদপ্তরে হস্তান্তর করেছে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর।

বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল সদর উপজেলার দুর্গাপুর নামকস্থানে সড়ক থেকে ৮ ফুট নিছু স্থানের ৮ একর জমি অধিগ্রহণ করে ২০১৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর কাজের ভিত্তিপ্রস্তর করার পর থেকে উক্ত জমিতে নতুন করে বালু ও নতুন মাটি ফেলে জমি ভরাট করার মাধ্যমে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রকল্পের কাজ শুরু করেন বরিশাল শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলী কর্মকর্তাগণ।

নির্ধারিত সময় ধরে দেয়ার পূর্বে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সহ কমপোন্ডেটের কাজ দ্রুততার সাথে শেষ করার মাধ্যমে বিরাট সফলতা দেখাতে সক্ষম হয়েছেন বরিশাল শিক্ষা প্রৌকৌশল অধিদপ্তরের দায়ীত্বশীল কর্মকর্তারা।

এবিষয়ে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশল মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন, সদর উপজেলার দুর্গাপুরে সরকারী ভাবে যে জমি অধিগ্রহণ করা হয়, সেখানে এক সময় সড়ক থেকে ৭ থেকে ৮ ফুট নিছু ধানী জমি ছিল।

একইতো নিচু জমি তার ভিতরে চারদিকে পানিতে টৈ টম্বুর ছিল। সে জমিতে নতুন করে বালু ও মাটি ফেলে বরিশাল- ভোলা মহাসড়কের সাথে মিল রেখে সয়েল বয়লিং হতে থাকে। তা নিয়ন্ত্রণ করা সহ জমি ভরাট করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কাজে আমাদের হাত দিতে হয়।

দীর্ঘ ৬ বছরের কঠোরভাবে কাজের তদারকি করার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের টেন্ডার সিডিউল অনুযায়ী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আমাদের দেয়া কাজ বুঝে নিতে হয়।

চারদিকে প্রাচীর নির্মাণ সহ ৮ একর জমির উপর ৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ভবন সহ কলেজ ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে আরো যেসকল প্রতিষ্ঠান ভবন থাকা দরকার তা ইতি মধ্যে সবই সম্পূর্ন করা হয়েছে।

এবং সেই সাথে ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রকল্পের সকল ভবন নির্মাণ সম্পূর্ন করে কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এত দ্রুততার সাথে বরিশালে আর কোন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে বলে তার জানা নেই।

সহকারী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম বলেন, মান ঠিক রাখতে মাঠে তার সর্বক্ষণ খেয়াল রাখা ও দিক নির্দেশনা দেয়ার কারণেই এত দ্রুত এই বিশাল প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পেরেছেন বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সমীর কুমার রজক দাস।

 

ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নির্মাণে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সফলতা

 

আমাদের প্রকৌশল ডেস্ক ।।

শিক্ষা খাতের উন্নয়ণে সরকার সর্বাধীক বাজেট বরাদ্দ প্রদান করে থাকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও সংস্কার, আসবাবপত্র সরবরাহের মাধ্যমে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সরকার উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে ।

শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি উন্নতি লাভ করতে পারেনা। স্বাধীনতা যুদ্ধ উত্তর যুদ্ধ বিধস্ত বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পূন:নির্মাণ ও মেরামতের লক্ষ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে একটি “প্রকৌশল ইউনিট” গঠনের মাধ্যেমে আজকের এই শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সৃষ্টি করেন। স্বাধীনতার পর থেকেই বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়েদেশের প্রতিটি মানুষকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে কাজ শুরু করেন । এ লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো বাংলাদেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায় । শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন ভবন নির্মান, বিদ্যমান ভবনগুলোর সম্প্রসারন ও রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও সংস্কার এবং আসবাবপত্র সরবরাহ করার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অজস্র স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ অধিদপ্তরের নিবেদিত প্রকৌশলী ও কমকর্তা-কর্মচারিগণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের উন্নততর অবকাঠামো তৈরি করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন । রুপকল্প ২০২১  এর আওতায় ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানের অংশ হিসেবে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যুগোপযোগি ও মানসম্মত শিক্ষার প্রসারে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, আইসিটি ল্যাব স্থাপন, ইন্টারনেট সংযোগ, আইসিটি সুবিধাসহ ভবন নির্মাণ করে যাচ্ছে ।

 

ভিশন ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য মানসম্মত ও যুগোপযোগী শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ এবং মিশন সুশিক্ষিত, দক্ষ ও উন্নত নৈতিকতা সম্পন্ন মানব সম্পদ সৃষ্টি করার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে প্রকৌশলী, কর্মকর্তা ও কর্মচারিগন নিরলস কাজ করে যাচ্চে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যাবলী:
•        শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা, ডিজাইনিং, পরিবীক্ষণ ও উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন;

  • স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নুতন ভবন নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কার, আসবাবপত্র সরবরাহ।
  • শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন।
  • অন্য মন্ত্রণালয় বা সংস্থার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজ বর্তালে তা বাস্তবায়ন।

 

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে

জনস্বাস্থ্য

আমাদের প্রকৌশল ডেস্ক ।।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গত ১০ অক্টোবর ২০১৮ খ্রিঃ মোঃ সাইফুর রহমান, স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন  জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে মোঃ সাইফুর রহমান নিয়োগ দান পান। স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। নিরাপদ পানি সরবরাহের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য উন্নয়ণের দায়িত্ব অর্পন করে ১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই)। পরবর্তীতে ১৯৪৫ সালে এর সাথে যুক্ত করা হয় স্যানিটেশন সেবা প্রদানের দায়িত্ব। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের অব্যহিত পরে সরকার প্রথমেই ধ্বংসপ্রাপ্ত পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন পদ্ধতি গুলোর পুনর্বাসনের গুরুত্বারোপ এবং তৎপরবর্তীতে নতুন অবকাঠামো স্থাপন শুরু করে ডিপিএইচই’র মাধ্যমে। একই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ওয়াসার আওতাধীন এলাকা ব্যতীত (ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা ) সমগ্রদেশের নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যাবস্থা নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব এ অধিদপ্তরের উপর ন্যাস্ত। জনসাধারনের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখে। জনগণের নিকট নিরাপদ পানি ওস্যানিটেশন সুবিধা পৌছানোর লক্ষ্যে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এরই ফলশ্রুতিতে বায়লাদেশ নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন কভারেজের দিক দিয়ে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যতম শীর্ষ স্থান দখল করে আছে। পল্লী এলাকার বিভিন্ন ধরনের নিরাপদ পানির উৎস (টিউবওয়েল) ও স্যানিটারী লেট্রিন স্থাপনাগুলোর রক্ষণাবেক্ষন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এর প্রধান দায়িত্ব। তাছাড়া অত্র অধিদপ্তর পল্লী পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন অবকাঠামো নির্মানোত্তোর রক্ষণাবেক্ষণে ইউনিয়ন পরিষদকে  WATSAN কমিটির মাধ্যমে কারিগরী সহায়তা প্রদান, স্বাস্থ্য পরিচর্যা জোরদারকরণ এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে থাকে। দ্রুত নগরায়নের ফলে পৌর পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন চহিদা উত্তরউত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ চাহিদা পুরণে অত্র দপ্তর পৌরসভা সমূহের পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন অবকাঠামো নির্মাণ সহ কারিগরী সহায়তার আওতায় পরিকল্পনা প্রণয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে সহায়তা করছে। এছাড়া বন্যা , সাইক্লোন, মহামারী ইত্যাদির কারনে সৃষ্ট জরুরী পরিস্থিতিতে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা সচল রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে।

দ্রুত নগরায়নের ফলে পৌর পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন চহিদা উত্তরউত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে: প্রধান প্রকৌশলী

কৃষি

কৃষি প্রধান এই দেশে সনাতন কৃষি ব্যবস্থার আধুনিকায়নে তথা বিজ্ঞান-ভিত্তিক চাষাবাদের মাধ্যমে টেকসই কৃষি উন্নয়ন ও কৃষি-বিজ্ঞান ভিত্তিক অর্থনৈতিক বুনিয়াদ গড়ে তোলার লক্ষে ষাটের দশকের গোড়ার দিকে ১২০০ একর জায়গার উপর গড়ে ওঠে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)।

কৃষিবিদদের অবদান, শিক্ষক ও গবেষকদের গবেষণার অবদানে বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। এছাড়া কৃষিকে এগিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একাধিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। কৃষিতে পড়াশোনা করে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অনেক ভালো চাকরি পাওয়া যায়। রয়েছে দেশের বাইরে কৃষি নিয়ে কাজ করার অপার সুযোগ। কৃষিবিদদের দিগন্ত এখন অনেক বিস্তৃত। সব মিলিয়ে কৃষিবিদদের পেছনেই যেন চাকরি ছুটছে।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বেশ কয়েকটি অনুষদে কৃষিভিত্তিক পড়াশোনা করানো হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও কৃষি বিষয়ে পড়ার সুযোগ আছে। ভালো ফল করলে সেখানে শিক্ষকতার সুযোগও থাকছে। অনেকেই সরকারি কলেজেও শিক্ষকতা করছেন। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় কৃষিবিদেরা টেকনিক্যাল ও সাধারণ উভয় ক্যাডারে আবেদনের সুযোগ পাওয়ায় দেশের সব কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে পারবেন। তাছাড়া কৃষি ব্যাংকগুলোতে অগ্রাধিকারসহ দেশের সরকারি ও বেসরকারি সব ব্যাংকে চাকরি করছেন কৃষিবিদেরা। বিভিন্ন সরকারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে লেকচারার হয়ে যোগ দেয়া যায়।

কৃষি অনুষদ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা বিসিএসের মাধ্যমে উপজেলাগুলোতে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হয়ে যোগ দেন। কৃষিবিদদের খুবই পছন্দের জায়গা হলো সরকারি কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ তুলা গবেষণা ইনস্টিটিউট, মৃত্তিকা গবেষণা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হয়ে যোগ দিচ্ছেন।

এছাড়া অনেক কৃষিবিদ উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা কাউন্সিলেও কৃষিবিদরা কাজ করছেন। এছাড়া সার কারখানা, চিনিকল, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি, কীটনাশক তৈরির কারখানা, ব্র্যাক, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানিতেও কাজ করছেন।

দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার আমিষের চাহিদা পূরণে ভেটেরিনারি (পশু চিকিৎসা বিদ্যা) ও অ্যানিমেল হাজব্যান্ড্রি (পশুপালন) স্নাতকদের রয়েছে একচ্ছত্র অবদান। দেশের অন্যতম বড় শিল্প পোলট্রিসহ ডেইরি, পশুখাদ্য উৎপাদন ও পশুর ওষুধ উৎপাদনে কাজ করছেন ওই স্নাতকেরা।

পশুচিকিৎসা ও পশুপালন দুটি আলাদা ক্ষেত্রে। ভেটেরিনারি থেকে পাস করে বিসিএস পরীক্ষায় ভেটেরিনারিয়ানরা উপজেলাগুলোতে ভেটেরিনারি সার্জন হয়ে যোগদান করেন। একই পরীক্ষায় পশুপালন অনুষদের স্নাতকেরা উপজেলাগুলোতে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, পশু উৎপাদন কর্মকর্তা কিংবা পোলট্রি উন্নয়ন কর্মকর্তা হয়ে যোগ দেন এবং পরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি পান।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (বিএলআরআই) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হয়ে যোগ দেয়া যায়। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে বিভিন্ন সরকারি ফার্ম ও গবেষণা কেন্দ্র আছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান সাভারের বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় গো প্রজনন কেন্দ্র ও দুগ্ধ খামার, কক্সবাজারের হরিণ প্রজনন কেন্দ্র, সিলেটে ছাগল প্রজনন কেন্দ্র, বাগেরহাটে মহিষ প্রজনন কেন্দ্র, বেশ কয়েকটি জায়গায় কুমির প্রজনন কেন্দ্র এবং বন্য প্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে শুধু ভেটেরিনারি ও পশুপালন স্নাতকেরাই চাকরি করছেন।

বিভিন্ন চিড়িয়াখানায় ক্যাডারে কিউরেটর এবং নন-ক্যাডারে জ্যু অফিসার হিসেবে চাকরি করতে পারেন এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তবে বেসরকারি পর্যায়েও কাজের ক্ষেত্র বেশ ব্যাপক। বেসরকারি দুগ্ধ ও পোলট্রির খামার, ব্র্যাক, ফিড মিল, এনজিও এবং আন্ত্রর্জাতিক সংস্থায় চাকরির সুযোগ থাকছে। এসবের মধ্যে আড়ং ডেইরি, কাজী ফার্মস, আফতাব বহুমুখী ফার্ম, মিল্ক ভিটা, সিপি ফুড উল্লেখযোগ্য।

মাছ উৎপাদনে মৎস্যজীবীদের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে রয়েছে ফিশারিজ বা মাৎস্য বিজ্ঞান গ্র্যাজুয়েটদের গবেষণা ও অক্লান্ত পরিশ্রম। অনেক ফিসারিজ গ্র্যাজুয়েট ব্যক্তিগত খামার ও হ্যাচারি প্রতিষ্ঠা করে মৎস্য উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়িয়েছেন। বিসিএস পরীক্ষায় মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা বিসিএসের মাধ্যমে টেকনিক্যাল কোটায় উপজেলাগুলোতে মৎস্য কর্মকর্তা এবং মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হয়ে যোগ দেন।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে ময়মনসিংহে স্বাদু পানি কেন্দ্র, চাঁদপুরের নদী কেন্দ্র, খুলনার লোনা পানি কেন্দ্র, বাগেরহাটের চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্র এবং কক্সবাজারে অবস্থিত সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্রে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হয়েছে যোগ দেয়া যায়। এছাড়া এর পাঁচটি উপকেন্দ্রে এই সুযোগ থাকছে। বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ফিশ সেন্টারে চাকরির সুযোগ থাকছে।

কৃষি প্রকৌশলীরা চাকরি ক্ষেত্রে ভালো স্থান দখল করে আছেন। কৃষি প্রকৌশলীদের পছন্দের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা কাউন্সিল, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি। এসিআই, সিনজেনটা, কাজী ফার্মস ছাড়াও কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন অনেকে।

এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি প্রকৌশল অনুসদের আয়তায় বি.এসসি ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়ানো হয়, যা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি খাদ্য প্রক্রিয়াজাত এবং খাদ্যের গুণগতমান নির্ধারণ করা প্রতিষ্ঠানে চাকরির পথ খুলে দেয়।

কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন কৃষি অর্থনীতি গ্র্যাজুয়েটরা। কৃষি সম্পর্কিত বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের স্বতন্ত্র অর্থনীতি বিভাগ রয়েছে যেখানে কৃষি অর্থনীতির শিক্ষার্থীদের গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। পাশপাশি কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক, বীমা, এনজিও এবং কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং বিভাগে চাকরি করার সুযোগতো আছেই। বর্তমানে বিসিএস এ কৃষি বিপণন নামে নতুন একটি স্বতন্ত্র কারিগরি কোটা চালু হয়েছে যেখানে সাধারণ অর্থনীতি ও কৃষি অর্থনীতির স্নাতকধারীরা আবেদন করার সুযোগ পাবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ : কৃষি বিষয়গুলোতে পড়তে পারেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি), সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরকৃবি)।

এছাড়া স্বল্প পরিসরে কৃষিবিষয়ক পাঠক্রম চালু রয়েছে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ফিশারিজ কলেজ ও ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজে।

চাকরিই ছুটছে তাদের পিছু

প্রতিনিধিবাকৃবিকৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কৃষিবান্ধব সরকার কৃষিকে আধুনিকীকরণ ও অধিকতর লাভজনক করতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। দেশে লাগসই কৃষি যন্ত্রপাতি জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে কৃষির যান্ত্রিকীকরণে সম্প্রতি তিন হাজার ২০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। আমরা এরই মধ্যে ‘জাতীয় কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নীতিমালা, ২০২০’ প্রণয়ন করেছি। এছাড়া মাঠপর্যায়ে কৃষি প্রকৌশলী নিয়োগের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে কৃষি প্রকৌশল উইং স্থাপনে কৃষি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। কৃষক ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের কৃষি প্রকৌশলীরা সহযোগিতা করবেন।’

সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তবায়নাধীন ‘অ্যাপ্রোপ্রিয়েট স্কেল মেকানাইজেশন ইনোভেশন হাব, বাংলাদেশ’ (আসমি) প্রকল্প আয়োজিত ‘লাগসই কৃষি যন্ত্রপাতি: বাংলাদেশে টেকসই খাদ্য নিরাপত্তার চাবিকাঠি’ শীর্ষক বার্ষিক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশের কৃষিকাজের প্রতিটি ধাপে লাগসই কৃষিযন্ত্রের প্রয়োগ খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। ধানের চারা রোপণের সময় শ্রমিক সংকটসহ শ্রমিকের বাড়তি মজুরি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি করে, অপরদিকে উৎপাদন ব্যাহত করে। আরেক দিকে আমাদের দেশে সনাতন পদ্ধতিতে অসংখ্য শ্রমিকের কঠোর পরিশ্রমে এবং বহু শ্রমঘণ্টার বিনিময়ে ধান কাটা ও মাড়াই-ঝাড়াই করা হয়। এসবের ফলে ধানের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমেরিকার কানসাস স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় যৌথভাবে ‘ফিড দ্য ফিউচার’ কর্মসূচি ও ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে ‘অ্যাপ্রোপ্রিয়েট স্কেল মেকানাইজেশন ইনোভেশন হাব, বাংলাদেশ’ (আসমি) গবেষণা প্রকল্পটি বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করেছে।  বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য গবেষণার মাধ্যমে চাহিদামতো উন্নত কৃষি যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করে ফসলের মূল্য নির্ণয়ে সময়, শ্রম ও অর্থ সাশ্রয়ের জন্য লাগসই যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এই গবেষণার মূল লক্ষ্য।

কৃষি প্রকৌশল উইং স্থাপনে মন্ত্রণালয় কাজ করছে: কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, মাঠ পর্যায়ে কৃষি প্রকৌশলী নিয়োগের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে কৃষি প্রকৌশল উইং স্থাপনে কৃষি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। কৃষক ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের কৃষি প্রকৌশলীরা সহযোগিতা করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কৃষিবান্ধব সরকার কৃষিকে আধুনিকীকরণ ও অধিকতর লাভজনক করতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। দেশে লাগসই কৃষিযন্ত্রপাতি জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে কৃষির যান্ত্রিকীকরণে সম্প্রতি ৩ হাজার ২০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এছাড়া, ইতোমধ্যে ‘জাতীয় কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নীতিমালা ২০২০’ প্রণয়ন করা হয়েছে।’ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তবায়নাধীন ‘অ্যাপ্রোপ্রিয়েট স্কেল মেকানাইজেশন ইনোভেশন হাব-বাংলাদেশ (আসমি) প্রকল্প আয়োজিত ‘লাগসই কৃষিযন্ত্রপাতি : বাংলাদেশে টেকসই খাদ্য নিরাপত্তার চাবিকাঠি’ শীর্ষক বার্ষিক কর্মশালা উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৃষি কাজের প্রতিটি ধাপে লাগসই কৃষি যন্ত্রের প্রয়োগ খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। ধানের চারা রোপণের সময় শ্রমিক সংকটসহ শ্রমিকের বাড়তি মজুরি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি করে অপরদিকে উৎপাদন ব্যাহত করে। আরেকদিকে, আমাদের দেশে সনাতন পদ্ধতিতে অসংখ্য শ্রমিকের কঠোর পরিশ্রমে, বহু শ্রম ঘন্টার বিনিময়ে ধান কাটা, মাড়াই-ঝাড়াই করা হয়। এসবের ফলে ধানের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। ফলে, কৃষিকে লাভজনক করার জন্য ভৌগোলিক ও কৃষিপরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে অঞ্চলভিত্তিক একেক এলাকায় একেক ধরনের কৃষিযন্ত্রপাতির ব্যবহার করতে হবে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে কৃষিযন্ত্রপাতি তৈরিতে গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। যাতে বাংলাদেশ আগামী দিনে শুধুমাত্র আমদানিকৃত কৃষিযন্ত্রপাতির উপর নির্ভর না করে। সেজন্য স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিচ্ছে যাতে এদেশের উপযোগী কৃষিযন্ত্রপাতি তৈরি করতে পারে ও বিদেশ থেকে আনা যন্ত্রপাতিকেও এদেশের উপযোগী করতে পারে। এক্ষেত্রে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকারি সম্প্রসারণ প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে একত্রে যৌথভাবে লাগসই দেশীয় কৃষিযন্ত্রপাতি উদ্ভাবনে গবেষণা, উদ্ভাবিত যন্ত্রের উন্নয়ন ও জনপ্রিয়করণের কাজ করতে হবে।’ বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশ রয়েছে উল্লেখ করে ড. রাজ্জাক বলেন, কৃষিযন্ত্রপাতি তৈরিতে বিদেশি বিনিয়োগ দরকার। সেজন্য দেশি-বিদেশি যৌথ উদ্যোগকে আমরা উৎসাহ প্রদান করি। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমেরিকার কানসাস স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় যৌথভাবে ‘ফিড দ্য ফিউচার’ কর্মসূচি ও ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে ‘অ্যাপ্রোপ্রিয়েট স্কেল মেকানাইজেশন ইনোভেশন হাব-বাংলাদেশ (আসমি) গবেষণা প্রকল্পটি বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করেছে। বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য গবেষণার মাধ্যমে চাহিদামত উন্নত কৃষিযন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করে ফসলের মূল্য নির্ণয়ে সময়, শ্রম ও অর্থ সাশ্রয়ের জন্য লাগসই যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এই গবেষণার মূল লক্ষ্য। ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৪ বছর মেয়াদী প্রকল্পটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের ৪টি জেলার ৪টি উপজেলা নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। কর্মশালায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিশক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ও আসাম-বাংলাদেশ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. মঞ্জুরুল আলম। আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের অধ্যাপক ও অ্যাপ্রোপ্রিয়েট স্কেল মেকানাইজেশন কনসর্টিয়ামের পরিচালক প্রশান্ত কুমার কলিতার সভাপতিত্বে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান, আমেরিকার কানসাস স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ফিড দ্য ফিউচার ইনোভেশন ল্যাব ফর কলাবোরেটিভ রিসার্চ অন সাসটেইনেবল ইনটেনসিফিকেশনের পরিচালক পিভি ভারা প্রসাদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস প্রফেসর এম. এ. সাত্তার মন্ডল, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান ড. ওয়ায়েস কবীর ও কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাক্তন মহাপরিচালক মো. হামিদুর রহমান বক্তব্য রাখেন।- বাসস

মাঠ পর্যায়ে কৃষি প্রকৌশলী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে: কৃষিমন্ত্রী

 

আমাদের প্রকৌশল ডেস্ক ।।

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে পৃথিবী জুড়ে নেমে এসেছে মানবিক দুর্যোগ। ইতোমধ্যে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে সারাবিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি অতিক্রম করেছে এবং প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ভাইরাসটিতে মারা গেছেন। করোনার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্বব্যাপী। নিজ নিজ দেশের জনগণকে সাশ্রয়ী মূল্যে খাবার সরবরাহের তাগিদে খাদ্যপণ্য রফতানি সীমিত অথবা বন্ধ করে দিতে পারে রফতানিকারক অনেক দেশ। ফলে খাদ্য আমদানিকারক দেশগুলো খাদ্যপণ্যের সংকটে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিষয়ক সংস্থা (এফএও) আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, বিশ্বজুড়ে খাদ্যের সংকট তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জাতিসংঘ শিশু তহবিল এবং আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের যৌথ উদ্যোগে ১৫ জুলাই ২০১৯ তারিখে প্রকাশিত ‘দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়ে তোলার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে। দেশে করোনা ভাইরাসজনিত রোগ এর বর্তমান পরিস্থিতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৩১ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন। এর একটি হচ্ছে ‘খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। অধিক ফসল উৎপাদন করতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য যা যা দরকার করতে হবে। কোন জমি যেন পতিত না থাকে।’
খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা অতীব জরুরি। বর্ধিত ফসল উৎপাদন করার জন্য প্রয়োজন উচ্চফলনশীল জাত, উন্নত ফসল ব্যবস্থাপনা এবং একক জমিতে ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি করা। ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি করা ও উন্নত ফসল ব্যবস্থাপনার একটি অঙ্গ হচ্ছে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, ফসলের উৎপাদন খরচ ও ফসল কর্তনোত্তর ক্ষতি কমানোর মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
দেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর বিপরীতে কমছে কৃষি জমি। এছাড়াও কৃষি শ্রমিকদের ক্রমবর্ধমান হারে শিল্প, পরিবহন, নির্মাণ ও অন্যান্য খাতে স্থানান্তরের ফলে কৃষি শ্রমিকের হার ২০০২-০৩ অর্থবছরে ৫১.৬৯ শতাংশ; ২০১০ অর্থবছরে ৪৭.৩০ শতাংশ; ২০১৩ সালে ৪৫.১০ শতাংশ এবং ২০১৬-১৭ সালে ৪০.৬২ শতাংশতে নেমে এসেছে (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা, ২০১৯)। এই ক্রমহ্রাসমান কৃষি শ্রমিকের জন্য ফসল উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে শ্রমিক স্বল্পতার অভাব দূর করা আবশ্যক। এছাড়াও জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাবে আকস্মিক বন্যা, খরা, লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মত দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। এর ফলে শস্যহানির ঝুঁকি বাড়ছে প্রতিনিয়ত। এ সকল সমস্যা উত্তরণে দেশে খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষি যান্ত্রিকীকরণ অপরিহার্য।
বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার নিকট অতীতে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে বাজার মূল্যের ৬০ ভাগ ছাড়ে বারি ও ব্রি উদ্ভাবিত কৃষি যন্ত্রপাতি যেমন- হাইস্পিড রোটারি টিলার, বীজ বপন যন্ত্র, বেড প্লান্টার, জমি নিড়ানি যন্ত্র, গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ যন্ত্র, ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র, শস্য মাড়াই যন্ত্র, ধান-গম কর্তন যন্ত্র ও শস্য ঝাড়াই যন্ত্র প্রদান করেছে। হাওড় ও দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় ৭০ শতাংশ ও অবশিষ্ট এলাকায় ৫০ শতাংশ উন্নয়ন সহায়তা/ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে কম মূল্যে পাওয়ার টিলার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, রিপার, কম্বাইন হারভেস্টার, পাওয়ার টিলার চালিত সিডার, পাওয়ার থ্রেসার ও ফুটপাম্প কৃষি যন্ত্রপাতি প্রদান করেছে যা কৃষি যান্ত্রিকীকরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
কৃষি যন্ত্রের কার্যকরী ব্যবহার নিশ্চিতকরণের জন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান, মাঠ প্রদর্শনী আয়োজনের মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেকানিককে কৃষি যন্ত্রপাতির ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে সেই সাথে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুত কারকদেরও মানসম্পন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরির প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে দেশে জমি চাষ, আগাছা দমন, কীটনাশক প্রয়োগ, সেচ এবং ফসল মাড়াই এর কাজে যথাক্রমে শতকরা ৯০, ৬৫, ৮০, ৯৫ এবং ৭০ ভাগ যান্ত্রিকীকরণ সম্ভব হয়েছে। তবে চারা রোপণ, সার প্রয়োগ, ফসল কর্তন, ফসল ঝাড়াই, ফসল শুকানো ও গুদামজাতকরণের ক্ষেত্রে এখনো তেমন যান্ত্রিকীকরণ সম্ভব হয়নি।
সরকার করোনা ভাইরাসজনিত আপদকালীন সময়ে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং বোরো মৌসুমে বরাদ্দকৃত অর্থের মাধ্যমে কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপারসহ বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি কৃষকের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে বিভিন্ন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিশেষভাবে ধান কর্তনের সময় কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার যন্ত্র ব্যবহারের ফলে বোরোর সর্বোচ্চ ফলন পাওয়া গেছে। করোনা পরবর্তী খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে টেকসই কৃষি যান্ত্রিকীকরণের লক্ষ্য অর্জনে নিম্নরূপ কর্মকৌশল গ্রহণ করা যেতে পারে:
১. সরকারি ও বেসরকারি গবেষণা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমুহ কৃষি কাজের বিভিন্ন স্তরে দেশীয় উপযোগী ও লাগসই কৃষি যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন ও উন্নয়নের কাজ করা। এক্ষেত্রে চারা রোপন যন্ত্র, বীজ বপন যন্ত্র, শস্য কর্তন যন্ত্র, কম্বাইন হার্ভেস্টার, সুগারক্রপ প্লান্টার, হারভেস্টার ও ক্রাসার, শস্য শুকানো যন্ত্র, শস্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার ও সেন্সর বেইজ গবেষণার উপর জোর দেয়া প্রয়োজন। এছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে রোবোটিক্স এর ব্যবহার প্রয়োজন হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কৃষি প্রকৌশল বিষয়ক সিলেবাস সময়োপযোগী করার উদ্যোগ নেয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
২. দেশে ব্যবহৃত কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আমদানি নির্ভরতা হ্রাসকরণে দেশীয় কৃষি জমি উপযোগী খরচ সাশ্রয়ী যন্ত্র প্রস্তুতের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ ও শ্রম ও সময় সাশ্রয়ী কৃষি যন্ত্রপাতির উন্নয়ন, যন্ত্র ক্রয়ে মূলধন প্রাপ্তি সহজলভ্যকরণ এবং যন্ত্র প্রস্তুতকরণ শিল্প উদ্যোক্তাদের মূলধন সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করা। ইঞ্জিন, পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, চারা রোপণ যন্ত্র, রিপার ও কম্বাইন হার্ভেস্টার প্রস্তুতের জন্য নিজস্ব অথবা যৌথ উদ্যোগে দেশীয় উদ্যোক্তা সৃষ্টির পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে অনুকূল আমদানি ও রফতানি শুল্ক হার নির্ধারণ করা এবং পাশাপাশি আধুনিক কৃষি যন্ত্র প্রস্তুত সুবিধা সম্বলিত জোন ভিত্তিক হিট ট্রিটমেন্ট, কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত মেশিন সুবিধা সরকারিভাবে স্থাপন করা। বিভিন্ন এগ্রো ইকোলজিক্যাল জোনে মাঠ পরীক্ষণ ও যন্ত্রের ত্রুটি বিচ্যুতি সংশোধনের মাধ্যমে দেশীয় উপযোগী করে তা সম্প্রসারণ করা।
৩. ব্যাপক আকারে গবেষণা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উদ্ভাবিত/উন্নয়নকৃত দেশীয় প্রস্তুতকৃত ও আমদানিকৃত লাগসই কৃষি যন্ত্রের কার্যকারিতার মাঠ প্রদর্শনী, মাঠ দিবস, উদ্বুদ্ধকরণ ভ্রমণ, মেলা, কর্মশালা, কৃষকের অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রচার মাধ্যমে সম্প্রচার এবং কৃষক ও কৃষক সংগঠন এর মাঝে প্রচারপত্র বিলিকরণ কার্যক্রমসমূহ সরকারি সম্প্রসারণ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিরবিচ্ছিন্নভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে আধুনিক কৃষি যন্ত্র জনপ্রিয়করণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা।
৪. দেশে প্রস্তুতকৃত ও আমদানিকৃত যন্ত্রের মান উন্নয়নের নিমিত্ত সরকারি ও বেসরকারিভাবে মান পরীক্ষা ও প্রত্যয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৫. কৃষি যন্ত্র ও প্রযুক্তি কৃষকের দোড় গোড়ায় পৌঁছানোর জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে কৃষি প্রকৌশলীদের জন্য আলাদা উইং তৈরি করে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণ ও ভৌত সুবিধা বৃদ্ধি করা। একই সাথে নার্সভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমুহে জনবল বৃদ্ধি করে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা।
৬ কৃষক, চালক, মেকানিক, সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, প্রস্তুতকারী, গবেষক, সম্প্রসারণ কর্মী ও নীতি নির্ধারকদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে কৃষি যন্ত্র ব্যবহার ও উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
৭. কৃষি যন্ত্র সেবা প্রদানকারী উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচী চালু করা।
৮. জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে কৃষকের মালিকানাধীন জমি ক্রমশ: খণ্ড খণ্ড হয়ে ক্ষুদ্রতর হয়ে যাচ্ছে। পূর্ণ দক্ষতায় কৃষি যন্ত্র ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে নানাবিধ ও স্থানীয় উপযোগী কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে চাষযোগ্য জমির সমন্বয়, ফসলের সমন্বিত বপন ও কর্তন করা।
৯. যেসব এলাকায় ভূ-গর্ভস্থ ও ভূ-পরিস্থ সেচ পানির অপর্যাপ্ততা রয়েছে এবং বিভিন্ন কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে সেসব এলাকায় সমন্বিতভাবে সেচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার প্রবর্তন করা।
১০. দেশের কৃষি জমিতে আধুনিক কৃষি যন্ত্র চলাচলের জন্য সমন্বিতভাবে সরকারি বা ব্যক্তি উদ্যোগে টেকসই রাস্তা তৈরি করা।
১২. দেশীয় কৃষি যন্ত্র প্রস্তুতকরণ শিল্প স্থাপনকারীদের এবং মাঠ পর্যায়ের যন্ত্র ক্রয়কারী কৃষক/উদ্যোক্তাদের সহজশর্তে ও সরকারি বিশেষ সুবিধার আওতায় ন্যুনতম সুদের হারে ঋণ প্রদান করা।
১৩. নিরাপদ কৃষি যন্ত্র চালনার জন্য প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স প্রদানের ব্যবস্থা করা।
১৪. যন্ত্রনির্ভর আধুনিক ও ঝুঁকিমুক্ত পেশা হিসাবে গড়ে তুলতে কৃষি যন্ত্রের সংশ্লিষ্ট চালক, কৃষি যন্ত্র সেবাপ্রদানকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বীমা চালু করা।
উল্লেখিত কর্মকৌশল যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ত্বরান্বিত হবে। ফলে করোনা মহামারীর কারণে কৃষি ক্ষেত্রে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনসহ খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সম্ভব হবে।

লেখক: মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (কৃষি প্রকৌশল), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, ঢাকা

করোনা মহামারি সময়ে খাদ্য নিরাপত্তায় টেকসই কৃষি যান্ত্রিকীকরণে করণীয়

গণপূর্ত

গণপূর্ত অধিদপ্তর বাংলাদেশ সরকারের নির্মাণ সংস্থার পথিকৃত এবং সরকারি প্রকল্পের ভবন নির্মাণে ভরসার স্থল। সরকারের নির্মাণ সংস্থার পাশাপাশি দেশের নির্মাণ শিল্পের গতি, মান ও কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করে থাকে। এই বিভাগ টার্নকির ভিত্তিতে প্রকল্প সম্পন্ন করে যেমন: পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, অভ্যন্তরীণ সড়ক, বিদ্যুতায়ন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ, অগ্নি নির্বাপণ,আরবরিকালচার ইত্যাদি। ভবন নির্মাণ প্রকল্পের ধারণা থেকে সম্পন্ন করা পর্যন্ত স্থাপত্য বিভাগের সহায়তায় এটি পরামর্শ সেবাও প্রদান করে থাকে। ভবন নির্মাণের সকল বিষয়ে দক্ষ পরামর্শ সেবা এখানে পাওয়া যায়।

গণপূর্ত অধিদপ্তর তার দেশব্যাপী অফিস কার্যক্রমের মাধ্যমে ভবন নির্মাণ ক্ষেত্রে সকল উঠতি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম। এর সুযোগ্য, প্রশিক্ষিত এবং নিবেদিতপ্রাণ কর্মী বাহিনী দেশের একাধিক জটিল প্রকল্প সম্পন্ন করে সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। এই ২১ শতকে আমরা আইসিটির অগ্রযাত্রা থেকে নিজেদের গুটিয়ে রাখতে পারিনা, কারণ আইসিটি হলো আধুনিক ব্যবস্থা যাতে ই-গভর্নেন্সের ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি কাজে স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়। তাই গণপূর্ত অধিদপ্তরের আইসিটি উন্নয়ন আমার কর্ম তালিকায় অগ্রাধিকার পাচ্ছে। এই সূত্রে কিছু ডাটাবেজ সফটওয়্যার উন্নয়নের সূচনা হতে যাচ্ছে। আমি আমার সহকর্মীদের অনুরোধ করছি তারা যেন কম্পিউটারে বিশেষ করে ডাটাবেজ সফটওয়্যার ব্যবহারে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে।

তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে সংস্থাগুলো তাদের আইসিটি সেবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে স্টেকহোল্ডারদের কাছে পৌছে দিচ্ছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর  ২০০২ সাল থেকে তার ওয়েবসাইট পরিচালনা করে আসছে। আমার পর্যবেক্ষণ হলো এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নাগরিকরা এই অধিদপ্তর সম্পর্কে জানতে পারবে। এজন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের সিটিজেন চার্টার ওয়েবসাইটে রাখা আছে এবং আমি আশা করি এটি স্টেকহোল্ডারদের উন্নততর সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করবে। আমি চাই এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ক্লায়েন্ট মন্ত্রণালয়সমূহ আমাদের ডাটাবেজ সিস্টেমে সংযোগ স্থাপন করে তাদের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। আমি আরো আশা করি এই কাজের সাথে জড়িত কর্মকর্তারা এই ওয়েবসাইটটির নিয়মিত আপডেট অব্যাহত রাখবেন।

সুযোগ্য, প্রশিক্ষিত এবং নিবেদিতপ্রাণ কর্মী বাহিনী প্রকল্প সম্পন্ন করে সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ

 

আরিফুর রহমান ।।

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গত বছরের সেপ্টেম্বরে যুবলীগ নেতা জি কে শামীম গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিকে বিল্ডার্স তাদের চলমান ১৭টি প্রকল্পের সব কটির কাজ বন্ধ করে দেয়। প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ দেওয়া সরকারের সংস্থা বারবার তাগাদা দিলেও তারা আর কাজে নামেনি। একটা পর্যায়ে এসে সরকার সব প্রকল্পের চুক্তি বাতিল করে নিয়মানুযায়ী অন্য প্রতিষ্ঠান দিয়ে কাজ শেষ করার প্রক্রিয়া শুরু করে। কিন্তু জিকে বিল্ডার্স কাজ এগিয়ে না রাখায় ১৭টি প্রকল্পের বেশির ভাগেরই ব্যয় ১০ থেকে ২০ শতাংশ বেড়ে যাচ্ছে। দু-একটা প্রতিষ্ঠানে অবশ্য ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ হয়ে যাওয়ায় ব্যয় তেমনভাবে বাড়বে না।

এদিকে চুক্তি বাতিল হওয়ার আগ পর্যন্ত জিকে বিল্ডার্স ১৭টি প্রকল্পে যতটুকু কাজ করেছে, সেই কাজ পরিমাপ করে টাকা পরিশোধ করতে যতটা তোড়জোড় দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্পগুলোর কাজ বন্ধ থাকায় সরকারের যে ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতিপূরণ আদায়ে কোনো তৎপরতা নেই গণপূর্ত অধিদপ্তরের। একটি প্রকল্পে ৩০ কোটি টাকার কাজ হয়েছে পরিমাপ করে সব টাকাই জিকে বিল্ডার্সকে পরিশোধ করে দেওয়া হয়েছে। কিভাবে ওই কাজের পরিমাপ করা যায়, তা নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ২০১৪ সালের রেট শিডিউলে (দাম প্রস্তাবে) যেসব প্রকল্পে কাজ পেয়েছিল জিকে বিল্ডার্স, সেসব প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে ১০ থেকে ২০ শতাংশ। আবার প্রকল্পের মেয়াদও বাড়ছে এক থেকে দুই বছর। আর নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া থেকে পিছিয়ে যাওয়ায় একদিকে যেমন জনগণ সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারকেও বাড়তি টাকা গুনতে হবে।

কাজ বন্ধ থাকার কারণে প্রকল্পে বাড়তি যে টাকা খরচ হবে, জিকে বিল্ডার্স থেকে সেই টাকা আদায়ের কোনো জোরালো তৎপরতা নেই। যদিও গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিটি প্রকল্পের বিপরীতে ‘সিকিউরিটি মানি’ রাখা আছে। সেখান থেকে পরবর্তী সময়ে কেটে রাখা হবে। কিন্তু পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, ‘সিকিউরিটি মানি’ যেটা রাখা আছে, প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে তার চেয়েও বেশি। সে ক্ষেত্রে দিন শেষে সরকারকেই এই টাকা গুনতে হবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে এক বছর কাজ বন্ধ থাকায় কিভাবে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে তার একটি উদাহরণ হলো রাজধানীর শেরেবাংলানগরে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের পাশে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট আরেকটি হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পটি। দুই বছর আগে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় যখন প্রকল্পটি অনুমোদন পায়, তখন এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪২০ কোটি টাকা। ১২ তলাবিশিষ্ট হাসপাতাল ভবনটি নির্মাণের কাজ পায় জিকে বিল্ডার্স। গত বছর ২০ সেপ্টেম্বর জি কে শামীম গ্রেপ্তার হওয়ার তিন দিন পর কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। জিকে বিল্ডার্স কাজটি করছিল গণপূর্ত অধিদপ্তরের ২০১৪ সালের রেট শিডিউলের আলোকে। এখন চলছে ২০১৮-এর রেট শিডিউল। নতুন করে প্রকল্পটির খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৬০ কোটি টাকা। অর্থাৎ খরচ বেড়েছে ৪০ কোটি টাকা, যা প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি। আর প্রকল্পের মেয়াদ বেড়েছে দুই বছর। জিকে বিল্ডার্সের গাফিলতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে প্রকল্পের এই ব্যয় বাড়লেও বাড়তি টাকা জনগণের দেওয়া কর থেকে বা রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অথচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ‘কন্ডিশন অব কন্ট্রাক্ট’ বা চুক্তিপত্রের শর্তাবলিতে স্পষ্ট লেখা আছে, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল হলে বাড়তি যে টাকা খরচ হবে, সেই টাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে।’

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে জিকে বিল্ডার্সের যে ৩০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলা হচ্ছে, এই খরচ নির্ধারণ হলো কিভাবে? এখানে কি বুয়েটসহ কারিগরি বিশেষজ্ঞ কেউ উপস্থিত ছিলেন? ম্যাজিস্ট্রেট, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তার সমন্বয়ে যে খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে, এটা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, জিকে বিল্ডার্স ১০ মাস কাজ বন্ধ করে সরকারের যে সময় নষ্ট করেছে, সরকার চাইলে সে জন্য প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারে। তা ছাড়া যে সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ হওয়ার কথা, কিন্তু প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে হয়নি, এখন প্রকল্পে বাড়তি যে টাকা খরচ হবে সরকার চাইলে সেই ক্ষতিপূরণ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে নিতে পারবে। কারণ ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তিপত্রে তা স্পষ্ট করে বলা আছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খায়রুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি মানি রাখা আছে। সেখান থেকে নেওয়া যাবে।’

সরকারের নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, জিকে বিল্ডার্স নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের মূল ভবনের মাটি খনন কাজ শুরু করে ড্রেসিং লেভেল পর্যন্ত ২০ ফুট মাটি কাটার কাজ শেষ করে। বেজমেন্টের ম্যাটের ৩০ শতাংশ ঢালাই কাজ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি বাতিলের পর গণপূর্ত অধিদপ্তর পুনরায় দরপত্র প্রক্রিয়ায় যেতে জিকে বিল্ডার্স কতটুকু কাজ করেছে তা পরিমাপের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়। গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, প্রশাসন ক্যাডারের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান—এই তিন প্রতিনিধি যাচাই-বাছাই করে দেখেছে এই প্রকল্পে ৩০ কোটি টাকার কাজ হয়েছে এবং সব টাকাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করে দেওয়া হয়েছে।

একাধিক ক্রয়বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ ধরনের কাজে যখন পরিমাপ করা হয়, সেখানে প্রকৌশলী নিয়োগ দিতে হয়। কারিগরি ব্যক্তি নিয়োগ দিতে হয়।

স্বাস্থ্যসচিব আব্দুল মান্নান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জি কে শামীমের সঙ্গে সব প্রকল্পে চুক্তি বাতিল হয়েছে। এর পরও যদি কোনো অনিয়ম হয়, আপনি লেখেন। অনিয়ম যদি সত্যি হয়, আমরা ব্যবস্থা নেব।’

জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ডা. বদরুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রায় এক বছর ধরে আমাদের হাসপাতাল নির্মাণের কাজটি বন্ধ। জিকে বিল্ডার্সকে তিনবার নোটিশ দেওয়া হয়। তার পরও তারা কাজ করেনি। এই কারণে প্রকল্পের খরচ ৪০ কোটি টাকা বেড়ে গেছে। মেয়াদও বেড়েছে আরো দুই বছর।’ তিনি বলেন, এই প্রকল্পে ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকার মতো সিকিউরিটি মানি রাখা আছে। সরকার চাইলে বাড়তি যে টাকা খরচ হচ্ছে, সেখান থেকে কেটে রাখতে পারে।

গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, জিকে বিল্ডার্স সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ১৭টি প্রকল্পের কাজ পেয়েছে এককভাবে। যেগুলোর আর্থিক মূল্য এক হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রকল্প হলো ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা নির্মাণ, বেইলি রোডের চট্টগ্রাম হিলট্র্যাক্টস কমপ্লেক্স ভবনে চেয়ারম্যানের বাসভবন, ডরমিটরি, প্রশাসনিক ভবন ও হল নির্মাণ, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের অফিস ভবন নির্মাণ, সচিবালয়ের ২০ তলা ভবনের স্যানিটারি ও বৈদ্যুতিক কাজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের বর্ধিতকরণ কাজ, আজিমপুর কলোনিতে সরকারি কর্মকর্তাদের ফ্ল্যাট নির্মাণ, সচিবালয়ের ২০ তলা ভবনের কাজ, শেরেবাংলানগরে নিটোরে বাউন্ডারি ওয়াল ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ, র‌্যাব সদর দপ্তর কমপ্লেক্সের কাজ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের কাজ, এনবিআর ভবনের কাজ এবং মহাখালীর অ্যাজমা সেন্টারের কাজ।

অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জিকে বিল্ডার্সের পাওয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রকল্পের ভৌত কাজ হয় ৩৫ শতাংশ। আর আর্থিক খরচ হয় ২৯ শতাংশ। এই প্রকল্পের পুনঃ দরপত্র আহ্বানের জন্য কতটুকু কাজ হয়েছে, তা পরিমাপ করে ঠিকাদারের টাকা পরিশোধ করতে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য বলছে, প্রকল্পের ব্যয় বাড়তে যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম হিলট্র্যাক্টস কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্পটির কাজ বন্ধ হওয়ার আগে ভৌত কাজ হয়েছে ৭৫ শতাংশ। আর আর্থিক খরচ হয়েছে ৫৬ শতাংশ। এই প্রকল্পের ব্যয়ও বাড়ছে। আজিমপুর কলোনিতে সরকারি কর্মকর্তাদের ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পটির ভৌত কাজ শূন্য। আর্থিক কাজও শূন্য। ফলে এই প্রকল্পেও ব্যয় বাড়ছে। একই সঙ্গে মেয়াদও। উত্তরায় র‌্যাব সদর দপ্তর কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের ভৌত অগ্রগতি মাত্র ৭ শতাংশ। আর আর্থিক অগ্রগতি মাত্র ৬ শতাংশ। ফলে এই প্রকল্পেও ব্যয় ও মেয়াদ দুটিই বাড়ছে।

এদিকে জি কে শামীমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আজিমপুর সরকারি কলোনিতে বহুতল ভবন নির্মাণের চুক্তি বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এসব প্রকল্পে আর কাজ পাবে না। কারণ তিনবার নোটিশ দেওয়া, ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগসহ সব প্রক্রিয়া অবলম্বন করেই চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।

 

সুত্র: কালের কন্ঠ

জি কে শামীমের ১৭ প্রকল্প : ক্ষতিপূরণ আদায়ের বদলে বিল দিতে উৎসাহী গণপূর্ত

 

ফয়সাল হোসেন।

একযুগের বেশি সময় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পূর্ত অধিদপ্তরের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে মাঠপর্যায় থেকে অফিসিয়াল কাজ সম্পন্ন করতেন। মাস শেষে প্রতিষ্ঠানের বেতন দিয়ে ভালোভাবেই সংসার চলতো।

কিন্তু হঠাৎ তার মাথায় স্বপ্ন জেঁকে বসে স্বল্প সময়ে কোটিপতি হওয়ার। ফলে ধীরে ধীরে নিজেই ঠিকাদারি লাইসেন্স করেন। অনেক আশা বুকে নিয়ে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে গত তিন বছরে ইজিপি টেন্ডারে অংশ নিয়ে ২০ লাখ টাকা খুইয়েছেন।

তার মতে, সরকারের কাজে গতিশীল ও দুর্নীতি বন্ধে ইজিপি পদ্ধতি চালু করলেও সেখানে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ হয়নি। বরং আগে যেসব ঠিকাদার ও কর্মকর্তা টেন্ডারে অনিয়ম করেছেন, তাদের কাছে এটি নতুন কৌশল মাত্র। ইজিপিতে অনিয়ম-দুর্নীতির ব্যাপারে কোনো প্রকৌশলী প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে নারাজ। কারণ তারা মনে করছেন, সরকারের এই নতুন পদ্ধতির অনিয়ম সম্পর্কে কথা বললে তাদের সমস্যা হতে পারে।

জানা গেছে, ইজিপি চালু করতে ২০১১ সালের জানুয়ারিতে ইজিপি নীতিমালা করা হয়। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন-২০০৬-এর ৬৫ ধারা অনুযায়ী এ নীতিমালা করা হয়। নীতিমালার ভিত্তিতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রিফর্ম প্রজেক্ট-২ এর অধীনে কেন্দ্রীয় ইজিপি পোর্টাল তৈরি করে সিপিটিইউ। প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করছে বিশ্বব্যাংক। দরপত্র আহ্বানে ইজিপি পদ্ধতিতে পুঞ্জীভূত দুর্নীতি নতুনভাবে রূপ নিয়েছে। দ্বিগুণ বেড়েছে দরপত্র জালিয়াতি।

অনলাইনে সরকারি কেনাকাটার (ইজিপি) কার্যক্রম পরিচালনাকারী পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ) কোনোভাবেই এই জালিয়াতি রোধ করতে পারছে না। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকৌশল সংস্থা।

এই সংস্থার তালিকাভুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাহমিনা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মাদ হানিফ  বলেন, সরকার দুর্নীতি ও আধিপত্য বিস্তার দূর করতে ইজিপি পদ্ধতি চালু করে। কিন্তু বাস্তবে এই পদ্ধতিতে সংস্থার কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী ঠিকাদাররা দুর্নীতি করছেন।

প্রধান কার্যলায় থেকে মাঠপর্যায় পর্যন্ত প্রতি স্তরেই ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। টেন্ডারবাণিজ্য বন্ধে সরকার ইজিপি পদ্ধতি চালু করলেও বন্ধ হয়নি এই খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি।

ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রকৌশলীকে ম্যানেজ করতে না পারলে কাজ পাওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কাজের প্রাক্কলন মূল্য প্রকৌশলী জানান শুধু তার পছন্দের ঠিকাদারকেই। এ ছাড়াও অনেক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নিজের আত্মীয় স্বজনকে দিয়ে ঠিকাদারি কাজ করানোরও অভিযোগ আছে।

সিপিটিইউ সূত্রে জানা গেছে, ইজিপি পদ্ধতি চালু হওয়ার পর থেকে এ ব্যবস্থায় সেবাগ্রহীতার সংখ্যা বড়েছে কয়েক গুণ। মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে অধিদপ্তরসহ অধিকাংশ উন্নয়ন, সংস্কার ও কেনাকাটা সরকার ইজিপি ব্যবস্থার আওতায় এসেছে। বর্তমানে ৪৭টি মন্ত্রণালয়, ২৭টি বিভাগ এবং এক হাজার ২৯২টি প্রতিষ্ঠান ইজিপিতে নিবন্ধন করেছে। আর ২০১২ সালের জুনে ছিলো ১৪।

২০১৩ সালের জুনে ৪৯৮, ২০১৪ সালে জুনে আট হাজার ৪৩৬ ও ২০১৫ সালের জুনে ২৬ হাজার ১০২টি ছিলো। এভাবে প্রতিবছর আহ্বানকৃত দরপত্রের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়েছে আর্থিক সংশ্লষ্টতা। কিন্তু দরপত্র নিষ্পন্নকালে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট-২০০৬ অনুযায়ী, ঠিকাদারদের কারিগরি ও আর্থিক যোগ্যতা যাচাই করার ক্ষেত্রে চরম শৈথিল্য দেখানো হচ্ছে।

এতে অযোগ্য অনেক প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়ে যাচ্ছে; যা পরবর্তীতে কাজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে। অনেক প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট সময়ে কাজই শেষ করতে পারে না। ফলে বেড়ে যায় প্রকল্প ব্যয়। এসব প্রকল্প একদিকে যেমন সরকারকে সমালোচনার মুখোমুখি করছে, অন্যদিকে বৃদ্ধ করছে জনভোগান্তি।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দরপত্রে অংশগ্রহণকারী ঠিকাদারের সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয় কারিগরি এবং আর্থিক যোগ্যতা আছে কি-না দরপত্র নিষ্পন্নকালে তা যাচাই করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু কর্মকর্তারা অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ঠিকাদারের যোগ্যতা আছে কি-না তা যাচাই করছেন না। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ সিপিটিইউ সমপ্রতি একটি পরিপত্র জারি করে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, পিপিএ-২০০৬ এর ৪৮ ধারার অধীন দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি কর্তৃক দরপত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার আগে ধারা ৫০ অনুযায়ী দরপত্র দলিলে উল্লিখিত দরপত্র দাখিলের পর রেসপন্সিভ দরপত্রদাতার কার্যকরভাবে চুক্তি পালনের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও আর্থিক সামর্থ্য আছে কি-না তা যাচাই করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সমপ্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এই বিধান অনুসরণ করা হচ্ছে না।

এতে আরো বলা হয়, পিপিআর-২০০৮ এর ১০০(১) ধারা মতে, দরপত্র দলিলে উল্লিখিত নির্ণায়ক অনুসরণক্রমে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি দরপত্র দাখিল-উত্তর যোগ্যতা যাচাই করবে।

ধারা-২ মতে, মূল্যায়ন কমিটি প্রয়োজনে দরপত্রদাতা কর্তৃক দরপত্র দলিলে প্রদত্ত ক্রয় কার্যাদি সম্পাদন সম্পর্কিত তার অতীত অভিজ্ঞতার বিবরণ যাচাই করার জন্য এবং সংশ্লিষ্ট দরদাতা সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্যাদি সংগ্রহকল্পে সূত্রের সাথে যোগাযোগ করবে।

ধারা-৩ মতে, যাচাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যথাযথ বলে বিবেচিত হলে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি বিশেষভাবে উচ্চমূল্য বা জটিল কার্যে দরপত্র মূল্যায়নের সময় টেন্ডার দলিলে বর্ণিত তথ্যের সঠিকতা যাচাই করার জন্য দরদাতার কার্যালয় বা ভবন পরিদর্শন করতে পারবে।

৪-এর উপবিধি-৩ মতে, পরিদর্শনে সাধারণভাবে দরপত্রদাতার যন্ত্রপাতি ও স্থাপনা সংক্রান্ত বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা প্রত্যক্ষ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। পরিদর্শনের সময় দরপত্রদাতার সাথে দরপত্রের কোনো বিষয়ে ও তার মূল্যায়ন সম্পর্কে কোনো আলোচনা করা যাবে না।

ধারা ৫ অনুযায়ী দরপত্রদাতা নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয় তাহলে দরপত্রে মূল্যায়িত দরপত্রদাতা সম্পর্কে এবং তা ফলপ্রসূ না হলে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য গ্রহণযোগ্য দরদাতাদের যোগ্যতা অনুরূপভাবে নির্ধারণ করবে।

সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়েল আওতাধীন সংস্থা পূর্তভবনে দুর্নীতির ১০টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে। যার মধ্যে ইজিপি পদ্ধতিতে দুর্নীতির ব্যাপারটি গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে গণপূর্ত অধিদপ্তরে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রাক্কলন (এস্টিমেট) থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি স্তরেই রয়েছে ব্যাপক দুর্নীতি।

এসব দুর্নীতির সঙ্গে ঠিকাদার আর কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এটি শুধু গণপূর্ত অধিদপ্তরে নয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইজিপিতে টেন্ডার দিতে গিয়ে এমন অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন সংশ্লিষ্টরা।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের টেন্ডার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতির তথ্যপ্রমাণ পায় দুদক। টেন্ডারে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রাক্কলন, টেন্ডারের তথ্য ফাঁস, দর-কষাকষির নামে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ঠিকাদার নিয়োগ, বারবার নির্মাণকাজের নকশা পরিবর্তন করে থাকেন।

ইজিপি পদ্ধতিতে অনিয়ম-দুর্নীতি থেমে নেই এরপরও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, চলতি বছরের মধ্যেই সরকারি সব প্রতিষ্ঠানের দরপত্র ইজিপির মাধ্যমে করা হবে। ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতির মাধ্যমে শতভাগ সরকারি কেনাকাটা বাস্তবায়ন হলে দুর্নীতি দূর হবে বলে মনে করেন তিনি।

ইজিপিতে টেন্ডার প্রক্রিয়ার ব্যাপারে গণপূর্ত ঠিকাদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম আমার সংবাদকে বলেন, অসাধু ঠিকাদারদের নিয়ন্ত্রণ করতে কর্মকর্তারাও সরাসরি সহায়তা করছেন। গণপূর্ত অধিদপ্তর, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (রাজউক) গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন সব সংস্থার টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যুক্ত সব সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়া দরকার।

তিনি আরও বলেন, প্রকৌশলীদের টাকা দিতে দিতে শেষ, ঘাটে ঘাটে টাকা দিতে হয়। ইজিপি পদ্ধতি যেটা তা তো মানছে না। ইজিপি দিতে হলে সমস্ত টেন্ডার ডকুমেন্ট আপ টু ডেট, ফাইলপত্র, কাগজপত্র আপ টু ডেট কইরা, টেন্ডার কল করবে।

কিন্তু এর (প্রকৌশলীরা) কাজের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রাক্কলন (এস্টিমেট) করতে হবে। কিন্তু সেখানে এসব কাগজপত্র সঠিক করার আগেই প্রকৌশলীরা টেন্ডার কল করেন। টেন্ডার কল করার পর কাগজপত্র প্রোসেসিং করেন।

এতে বাধ্যতামূলক ঠিকাদাররা প্রকৌশলীদের কাছে গিয়ে কাজের জন্য কাগজপত্র স্বাক্ষর করান। যেকোনো কাজের ভাগবাটোয়ারা পেতে এই কৌশল অবলম্বন করেন প্রকৌশলীরা। অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে দায়িত্বরত প্রকৌশলীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরাঘুরি করে কাজের এস্টিমেট অনুমোদন করাতে হয়।

অথচ ইজিপির নিয়ম— এস্টিমেট শতভাগ সম্পন্ন হওয়ার পর টেন্ডার কল করলে ঠিকাদাররা অংশগ্রহণ করবেন। সেখানে টেন্ডার পাওয়ার পর ওয়ার্ক অর্ডার আনতে অফিসে যাবেন ঠিকাদাররা। কিন্তু ইজিপির এই নিয়ম কোথাও মানছে না।

এছাড়া কাজের ২ থেকে ৩ শতাংশ অর্থ ইঞ্জিনিয়াররা নেন। আর বড় কাজগুলোর ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৬ শতাংশ অর্থও নেন তারা। আর ঠিকাদাররা বিল তুলতে গেলে প্রকৌশলীদের টাকা দিতেই হবে। টাকা না পেলে বিলে স্বাক্ষর করেন না। প্রকৌশলীরা ভাবেন, এটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি।

 

সুত্র : আমারসংবাদ

ইজিপিতেও থেমে নেই অনিয়ম-দুর্নীতি

গৃহায়ন

আমাদের প্রকৌশল ডেস্ক ।।

রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। সম্প্রতি এটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।

রাজউক সূত্রে জানা গেছে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের শৈল্পিক ভঙ্গিমা সম্বলিত বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের মূল নকশা প্রণয়ন করেছে স্থাপত্য অধিদপ্তর। এটির অবস্থান প্রকল্পের ১৫ নং সেক্টরের ২০৩ নং সড়কের ১৭ নম্বর প্লটে। ২ দশমিক ৩১৯ একর জমিতে নির্মাণাধীন প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৫ কোটি ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

বঙ্গবন্ধু স্কয়ার স্থাপনের প্রয়োজনীয় কাজের জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাজউক) দায়িত্ব দিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তবে মূল দায়িত্ব পালন করবে মন্ত্রণালয়। বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে তার শূন্যে উত্থিত তর্জনীর ভাস্কর্যে শোভা পাবে। এটি ব্রোঞ্জ দ্বারা নির্মাণ করা হবে এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে ভাস্কর্যটির উচ্চতা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭১ ফুট। যা আগামী প্রজন্মের কাছে অনন্য মাইলফলক হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।

 

নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনন্য ভূমিকা ফুটিয়ে তোলা হবে।

বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র ও বাঙালির অধিকার আদায়ের আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অনন্য ভূমিকার কথা জাতি আজীবন কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সাঈদ নূর আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

 

আমাদের প্রকৌশল ডেস্ক ।।

সবার জন্য মানসম্মত আবাসন নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ বলেছেন, মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবে না। বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভা ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি- মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবে না। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন সংস্থাগুলি নিরলসভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি, ভিশন-২০৪১, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং সর্বোপরি ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়নে সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।   তিনি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতিমুক্ত থেকে স্বচ্ছতার সঙ্গে জনসেবার মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার। এসময় মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের বিভাগ ও জেলা থেকে দপ্তর প্রধানরা জুম অ্যাপের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।  

কেউ গৃহহীন থাকবে না: গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রী

রাজউক

প্রভাবশালীদের তদবির ও লেনদেনের মাধ্যমে লটারি ছাড়াই রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ২৮১টি ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফ্ল্যাটগুলোর অবস্থান তুলনামূলকভাবে ভালো জায়গায় পড়েছে; যেমন লেকের পাশে কিংবা দক্ষিণ বা দক্ষিণ–পূর্বমুখী। লটারি না করে অত্যন্ত গোপনে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়াকে নিয়মের লঙ্ঘন এবং অনৈতিক বলছেন রাজউকেরই কিছু কর্মকর্তা।

লটারি না করে এভাবে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়ার ঘটনাটি ঘটেছে রাজউকের উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে (১৮ নম্বর সেক্টর)। ‘নিম্ন ও মধ্যম’ আয়ের মানুষের আবাসনের জন্য ২০১০ সালে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। এই প্রকল্পে মোট ৭৯টি ১৬ তলা ভবনে ৬ হাজার ৬৩৬টি ফ্ল্যাট আছে। ২০১২ সালে প্রথম এই প্রকল্পের আওতায় ফ্ল্যাট বরাদ্দ দিতে আবেদন আহ্বান করে রাজউক। এরপর বিভিন্ন সময়ে কয়েক দফায় ফ্ল্যাট বরাদ্দের আবেদন নেওয়া হয়।


প্রচলিত প্রথার ব্যত্যয় ঘটিয়ে লটারি ছাড়া ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া ঠিক হয়নি। যাঁরা এ কাজের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

গোলাম রহমান, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি


লটারি ছাড়াই ফ্ল্যাট বরাদ্দের ঘটনাটি গোপনে গত দুই বছরের মধ্যে ঘটেছে। তবে বিষয়টি জানাজানি হয় গত নভেম্বর মাসে। ওই মাসের ২২ তারিখ প্রকল্প এলাকার আটটি ভবনের ৩০৬টি ফ্ল্যাট বরাদ্দের জন্য অনলাইনে লটারি হয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) মিলনায়তনে। ওই আট ভবনে মোট ফ্ল্যাট আছে ৬৭২টি (প্রতি ভবনে ৮৪টি)। লটারিতে অংশ নেওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত ছিলেন ৩০৬ জন আবেদনকারী। নিয়ম অনুযায়ী, ৩০৬ জন আবেদনকারীর মধ্যে লটারি হওয়ার কথা ছিল ৬৭২টি ফ্ল্যাটের বিপরীতে। অর্থাৎ আবেদনকারীরা আটটি ভবনের ৬৭২টি ফ্ল্যাটের মধ্যে যেকোনো একটি ফ্ল্যাট পাওয়ার যোগ্য ছিলেন। কিন্তু অনলাইনে লটারি হয়েছে ৩৯১টি ফ্ল্যাটের বিপরীতে। বাকি ২৮১টি ফ্ল্যাট যাঁদের নামে বরাদ্দ হয়েছে, সে তালিকা লটারি হওয়ার এক সপ্তাহ আগেই চূড়ান্ত করা হয়। বিষয়টি রাজউকের একটি সূত্র প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছে।

এভাবে লটারি ছাড়া ফ্ল্যাট বরাদ্দে আপত্তি জানিয়েছেন সর্বশেষ লটারিতে বরাদ্দ পাওয়া দুজন আবেদনকারী। তবে রাজউক হয়রানি করতে পারে, এই আশঙ্কায় তাঁরা নাম প্রকাশে রাজি হননি। তাঁরা বলেন, রাজউকের এই আচরণ অন্যায়। তাঁদের বঞ্চিত করা হয়েছে। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় লটারি করার দাবি জানান তাঁরা।

৭৯টি ১৬ তলা ভবনে ফ্ল্যাট আছে ৬ হাজার ৬৩৬টি। এখনো প্রায় এক হাজার ফ্ল্যাটের বরাদ্দ হয়নি। ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিন দফা লটারিতে ফ্ল্যাট বরাদ্দ হয়েছে। গত নভেম্বরে চতুর্থ দফার লটারি নিয়ে অনিয়ম হয়েছে।


নাম না প্রকাশের শর্তে রাজউকের একজন কর্মকর্তা বলেন, লটারি ছাড়া ফ্ল্যাট বরাদ্দের কোনো নিয়ম নেই। দেড়-দুই বছর ধরে রাজউকের বোর্ড সভার মাধ্যমে এই অনিয়ম করা হয়েছে। এর ফলে লটারিতে যিনি লেকের পাশে কিংবা দক্ষিণমুখী ফ্ল্যাট পেতে পারতেন, তিনি সেই সুযোগ হারিয়েছেন, এককথায় তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কারণ, অবস্থানভেদে ফ্ল্যাটের দামের কোনো পার্থক্য নেই। নিচতলার উত্তরমুখী ফ্ল্যাট কিংবা লেকের পাশে দক্ষিণমুখী আটতলার ফ্ল্যাটের দামও এক।

রাজউকের আরেক কর্মকর্তা বলছেন, ওই ২৮১টি ফ্ল্যাটের মধ্যে এমন আবেদনকারীও রয়েছেন, যিনি আগে কোনো এক লটারিতে প্রকল্প এলাকায় একটি ফ্ল্যাট বরাদ্দ পেয়েছিলেন। কিন্তু ফ্ল্যাটের অবস্থান তাঁর পছন্দ হয়নি। পরে তদবির করে পছন্দমতো ফ্ল্যাট নিয়েছেন।

রাজউকের বোর্ড সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থার চেয়ারম্যান। এখন চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন সাঈদ নূর আলম। লটারি ছাড়া ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

ফ্ল্যাট বরাদ্দের প্রক্রিয়া
রাজউকের অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পগুলোর মধ্যে উত্তরার প্রকল্পটিই আকারে সবচেয়ে বড়। এখানে প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন ১ হাজার ৬২০ বর্গফুট (৩৭০ বর্গফুট কমন স্পেসসহ)। ৭৯টি ভবনের মধ্যে ৫৯টি ভবনের ফ্ল্যাট বরাদ্দের কাজ ইতিমধ্যে শেষ করেছে রাজউক। আর বাকি ২০টি ভবনের মধ্যে ১৪টির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ছয়টি ভবনের নির্মাণকাজ এখনো চলছে। এখন একটি ফ্ল্যাট কিনতে দাম পড়ে প্রায় ৮৫ লাখ টাকা। কিস্তিতে এই টাকা শোধের সুযোগ আছে। ২৫ বছরের বেশি বয়সী যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক (আয় করেন) কিছু শর্ত মেনে আবেদন করতে পারেন।


রাজউক সূত্রে জানা গেছে, উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে তিনটি লটারি হয়েছে। ওই সময় পর্যন্ত তিন লটারির মাধ্যমে ৪ হাজার ২৯৮টি ফ্ল্যাটের বিপরীতে আবেদনকারীদের ফ্ল্যাট আইডি দেওয়া হয়। এরপরই শুরু হয় অনিয়ম। প্রভাবশালীরা তদবির করে বা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পছন্দমতো ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিতে থাকেন।


ফ্ল্যাট বরাদ্দের জন্য গণমাধ্যম বা রাজউকের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আবেদনপত্র আহ্বান করে রাজউক। আবেদনের পর সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়। এরপর যোগ্যদের সাময়িক একটি বরাদ্দপত্র দেওয়া হয়। তবে সাময়িক বরাদ্দপত্রে কে কোন ভবনের কত নম্বর ফ্ল্যাট পেলেন, তা উল্লেখ থাকে না। বরাদ্দপত্র পেলেই চার কিস্তির টাকা (ফ্ল্যাটের মোট দামের প্রায় অর্ধেক) শোধ করতে হয়। এরপর লটারির মাধ্যমে আবেদনকারীকে ফ্ল্যাট আইডি (ভবন ও ফ্ল্যাটের নম্বর) দেওয়া হয়। রাজউকের বোর্ডে এটি পাসের পর চূড়ান্ত বরাদ্দপত্র দেওয়া হয়।

গত ২২ নভেম্বর লটারিতে যে ৩০৬টি ফ্ল্যাটের আইডি দেওয়া হয়েছিল, তার চূড়ান্ত অনুমোদন রাজউকের আজ রোববারের বোর্ড সভায় হতে পারে।

রাজউক সূত্রে জানা গেছে, উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে তিনটি লটারি হয়েছে। ওই সময় পর্যন্ত তিন লটারির মাধ্যমে ৪ হাজার ২৯৮টি ফ্ল্যাটের বিপরীতে আবেদনকারীদের ফ্ল্যাট আইডি দেওয়া হয়। এরপরই শুরু হয় অনিয়ম। প্রভাবশালীরা তদবির করে বা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পছন্দমতো ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিতে থাকেন।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান প্রথম আলোকে বলেন, প্রচলিত প্রথার ব্যত্যয় ঘটিয়ে লটারি ছাড়া ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া ঠিক হয়নি। যাঁরা এ কাজের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

তথ্যসুত্র :: প্রথম আলো

উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প।। গোপনে ২৮১ ফ্ল্যাট বরাদ্দ

 

আমাদের প্রকৌশল ডেস্ক ।।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রায় ৭২ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রবিবার দুদকের সহকারী পরিচালক নারগিস সুলতানা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন অসাধু উপায়ে নিজে ও তার স্ত্রী মাহবুব আরা জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৭১ লাখ ৭৪ হাজার ৯১৩ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন।

এছাড়া ১০ লাখ ৪২ হাজার ৭৩৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে গোপন করেছেন। মহিউদ্দন দম্পতির বিরুদ্ধে দুদক আইন-২০০৪ এর ২৬ (২) ধারা ও ২৭ (১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে তাদের নামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদে রূপান্তর করে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনও শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে

রাজউক কর্মচারীর ৭২ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ

আমাদের প্রকৌশল ডেস্ক ।।

ভবন নির্মাণে মানা হচ্ছে না বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি)। অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে বহুতল ভবন। যদিও ঢাকায় অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে ঠিক কতগুলো ভবন নির্মিত হয়েছে, তা জানা নেই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক)।

ঢাকার বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনটির নকশা অনুমোদনে বিধি লঙ্ঘন এবং নির্মাণে ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৬২ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছিল গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এর পরই টনক নড়ে রাজউকের। ত্রুটি-বিচ্যুতি অনুসন্ধানে রাজধানীতে নির্মিত বহুতল ভবনগুলো পরিদর্শনের উদ্যোগ নেয় সংস্থাটি। তবে ১ হাজার ৮১৮টি ভবন পরিদর্শনের পর থেমে গেছে সে উদ্যোগ। গত নভেম্বরের পর থেকে রাজউকের ভ্রাম্যমাণ আদালত আর কোনো অভিযান পরিচালনা করেননি। ফলে কার্যক্রমটি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। তাই ঠিক কতগুলো ভবন অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে নির্মিত, সে বিষয়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে পারেনি রাজউক।

জানা গেছে, রাজউকের ২৪টি দল ১ হাজার ৮১৮টি ভবন পরিদর্শনের পর ১ হাজার ৪৭টি ভবনে বিভিন্ন ধরনের ব্যত্যয় খুঁজে পেয়েছিল। এছাড়া অনুমোদিত নকশা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন ৪৭৮টি ভবনের মালিক। এরপর পরিদর্শনে নির্মাণ ত্রুটি পাওয়া ভবন মালিকদের নোটিস দেয় রাজউক। কিন্তু নোটিস পাওয়ার পর ভবন মালিকরা কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো তদারকি পরিচালনা করেনি সংস্থাটি।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বণিক বার্তাকে বলেন, সব ভবনের পরিদর্শন কার্যক্রম চলছে। রাজউকের আওতাধীন এলাকার মধ্যে রয়েছে গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ। সায়েদাবাদের কিছু এলাকা রাজউকের ভেতরে। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ পরিকল্পনা দিয়ে রেখেছে। অনেকে জানতও না। বিভিন্ন এলাকার সরু গলিও এ পরিদর্শন কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত। সামগ্রিকভাবে আমরা সর্বত্র ত্রুটি শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেব। কঠোরভাবে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি আমরা। কাউকেই এক্ষেত্রে আলাদা কোনো অনুকম্পা দেখানোর সুযোগ নেই।

অভিযোগ আছে, যথাযথ প্রক্রিয়ায় ছাড়পত্র নেয়ার ক্ষেত্রে ইমারত মালিক ও নির্মাতাদের নিরুৎসাহিত করেন রাজউকের একশ্রেণীর কর্মকর্তা। অনেক ক্ষেত্রে ইমারত মালিক ও নির্মাতারাও জানেন না এসব ছাড়পত্র ভুয়া। অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে তারা এসব নকশা অনুমোদন করিয়ে দেন। অনেক আবাসন প্রতিষ্ঠান আবার অনুমোদনের অতিরিক্ত উচ্চতার ভবনও তৈরি করে। এসব অভিযোগে রাজউকের বেশকিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

নিয়মকানুন না মেনে গড়ে ওঠা রাজধানীর কতটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, তার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান সরকারের কোনো সংস্থার কাছেই নেই। তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় অঞ্চলভিত্তিক সমীক্ষা করে প্রায় ৭০ হাজার ভবন ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিল্ডিং কোড যদি বাস্তবায়ন করা যায়, তবে রাজধানীতে বহুতল ভবনের ৯০ শতাংশ ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে। এজন্য ভবন নির্মাণ বিধিমালা প্রয়োগ খুবই জরুরি। যে ভবনগুলো আছে সেগুলোর ঝুঁকি নিরূপণ করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া না হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক আদিল মুহাম্মদ খান এ প্রসঙ্গে বলেন, রাজউকের প্রধান কাজ রাজধানীতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প তদারকি করা। কিন্তু সেটি না করে তারা নিজেরাই বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প করতে আগ্রহী। গত বছর রাজউকেরই করা এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল রাজধানীতে ৭০-৭৮ ভাগ ভবন ত্রুটিপূর্ণভাবে গড়ে উঠেছে। সে প্রতিবেদনে তারা তাদের গাফিলতির কথা স্বীকারও করে নিয়েছিল। এক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতার চেয়ে আন্তরিকতার ঘাটতি প্রকট হয়ে

উঠেছে। গত কয়েক বছরে তাদের জনবলও বেড়েছে। অথচ সংস্থাটির আন্তরিকভাবে কাজ না করার কারণে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প রাজধানীবাসীর জন্য নতুন ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।

২০০৮ সালের ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী, ইমারত আংশিক বা সম্পূর্ণ নির্মাণকাজ শেষ করার পর তা ব্যবহার বা বসবাসের জন্য সনদ নিতে হবে। এ সনদ পাওয়ার আগে ইমারত আংশিক বা সম্পূর্ণ কোনো অবস্থাতেই ব্যবহার করা যাবে না। ব্যবহার বা বসবাস-সনদের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। এ সময়ের পর এটি বাধ্যতামূলকভাবে নবায়ন করতে হবে। এরই মধ্যে আইন চালুর ১০ বছর পেরিয়ে গেছে। এই ১০ বছরে ৪০ হাজারের বেশি ভবন নির্মাণ হয়েছে রাজধানীতে। অথচ রাজউক থেকে এ ধরনের সনদ নেয়া ভবন নির্মাতার সংখ্যা খুবই কম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনুমোদনের বাইরে গিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণের ফলে নকশার সঙ্গে গড়ে ওঠা এসব ভবনের মিল নেই। আবার অনেক ভবনের পরিপূর্ণ নকশাও নেই। এসব ভবনে আগুন লাগলে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকে। তখন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের নকশা না দেখেই অন্ধকারে উদ্ধারকাজ চালাতে হয়। এ কারণে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ে। নির্মাণ শেষে ব্যবহার সনদ না নেয়া হলেও এসব ভবন মালিকের বিরুদ্ধে এ-যাবৎ কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

নকশাবহির্ভূত ভবন কত জানে না রাজউক

আমাদের প্রকৌশল ডেস্ক ।।

আসন্ন ২০২১ সাল থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে থাকছে না। এটি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল নিউ টাউনের ৪ নম্বর সেক্টরে মেলার নিজস্ব ও স্থায়ী স্থাপনায় অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী ইংরেজি বছরের প্রথম দিন মেলা শুরু হবে না। নতুন বছর থেকে এটির উদ্বোধন হবে পহেলা বৈশাখে।

অর্থাৎ ২০২১ সালের ১৪ এপ্রিল বা বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে উদ্বোধন হওয়া মাসব্যাপী এই মেলা চলবে ১৪ মে পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার তথ্যটি নিশ্চিত করেছে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে মেলার উদ্বোধন পহেলা জানুয়ারিতে হবে না। কারণ গত ২৫ মার্চের পর থেকে দেশে লকডাউনে সব কাজকর্ম বন্ধ থাকায় নতুন ভেন্যুর প্রস্তুতি কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে না বিধায় পহেলা বৈশাখে মেলা শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি ২৫তম বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছিলেন যে, ২০২১ সালের ২৬তম বাণিজ্য মেলা পূর্বাচলে নির্মাণাধীন বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিউশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে সেখানেই জোরেশোরে মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে এবং কাজ প্রায় ৯৮ শতাংশ শেষ।

জানা গেছে, পূর্বাচল নিউ টাউনের ৪ নম্বর সেক্টরের ৩১২ নম্বর রোডের ০০২ নম্বর প্লটে মোট ৩৫ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার। সেখানে আধুনিক কার পার্কিং, সম্মেলন কক্ষ, সভাকক্ষ, প্রেস সেন্টার, অভ্যর্থনা কক্ষ, বাণিজ্য তথ্যকেন্দ্র এবং আধুনিক সুবিধা সংবলিত ডরমিটরি থাকছে। এ ছাড়া সার্বক্ষণিক সিসি টিভি, আধুনিক ব্যবস্থাসহ বিদ্যুতের নিজস্ব সাবসেন্টার, সার্ভিস রুম, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, কালভার্ট ও সীমানা প্রাচীর থাকবে।

পূর্বাচলে বাণিজ্য মেলা, শুরু হবে পহেলা বৈশাখ

 

আমাদের প্রকৌশল ডেস্ক ।।

হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় নির্মিত ৪৭টি ফ্ল্যাট বিক্রি করবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। প্রায় ১ হাজার ৬০০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাটগুলো কিনতে রাজউকের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করতে হবে। পরে লটারির মাধ্যমে ফ্ল্যাট প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। রাজউকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আতিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রাজউক সূত্রে জানা গেছে, ৩১৬ বর্গফুটের ‘কমন স্পেস’সহ প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন ১ হাজার ৬০০ বর্গফুট। আগ্রহী ব্যক্তিদের ফ্ল্যাট বরাদ্দের জন্য ৩০ জানুয়ারির মধ্যে আবেদন করতে হবে। আবেদন ফরম ও প্রসপেক্টাস অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, রাজউক ভবন শাখা থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

এ জন্য অফেরতযোগ্য ৫০০ টাকা দিতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে একই ব্যাংকের শাখায় জামানত বাবদ চার লাখ টাকা জমা রাখতে হবে। জামানত জমার রসিদের মূল কপি আবেদনপত্রের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
দেশের বাইরে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও রাজউকের ওয়েবসাইট (www.rajukdhaka.gov.bd) থেকে আবেদনপত্রের ফরম ও প্রসপেক্টাস সংগ্রহ করতে পারবেন। এ জন্য অফেরতযোগ্য ৬০ মার্কিন ডলার দিতে হবে। প্রসপেক্টাসে বর্ণিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাজউক চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন পাঠাতে হবে।

রাজউক বলছে, আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর কোনো কাগজপত্র যুক্ত করা যাবে না। অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ দরখাস্ত বাতিল বলে বিবেচনা করা হবে।

হাতিরঝিল ছাড়াও উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘এ’ ব্লকে নির্মিত ও নির্মাণাধীন আরও কিছু ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেবে রাজউক। ফ্ল্যাটগুলোর আয়তন ১ হাজার ৬৫৪ বর্গফুট। এই প্রকল্পের ফ্ল্যাট বরাদ্দের জন্য আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। এ–সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য রাজউকের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। প্রয়োজনে uap@rajukdhaka.gov.bd এই ই–মেইল ঠিকানায় বা ০১৭৩০০১৩৯৪৫ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।

হাতিরঝিলে ৪৭টি ফ্ল্যাট বিক্রি করবে রাজউক

আহমেদ ইসমাম

রাজউক এর উদ্যোগে উত্তরা লেক খননের কাজ শুরু করায় বদলে যাচ্ছে লেক এবং লেকের চারপাশের পরিবেশ। এখন লেকের পানি পরিষ্কার হওয়ার কারণে নেই কোনো দূষিত বাতাস। উত্তরা লেকের প্রকল্প পরিচালক আমিনুর রহমান জানান, এই লেকটি তৈরি হওয়ার পর থেকে কখনোই আর খনন করা হয়নি তাই এর গভীরতা অনেক কমে গিয়েছিল। এ ছাড়াও চারপাশ থেকে নোংরা পানি আসায় লেকটির পানি দূষিত হচ্ছিল। এখন আমারা এমন ভাবে কাজ করছি যাতে এই লেকটি খনন করার পরে আবার দূষিত না হয়। এ জন্য পানির লাইন গুলো আলাদা করে দেওয়ার জন্য কাজ করছি। লেকটিকে ২০ ফিট খনন করা হয়েছে। বর্ষা চলে আসায় আমাদের কাজ কিছুটা ব্যহত হচ্ছে। আমরা এমন ভাবে কাজ করছি যাতে উত্তরায় যানজোট বেশি থাকলে সাধারণ মানুষ হেটে এ মাথা থেকে অন্য মাথায় চলে যেতে পারে। হাটার জন্য আলাদা রাস্তার কাজ করছি। আগে পুরো লেকটিতে হাটার কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। কিছু জায়গা দখল হয়ে গিয়েছিল, তা উদ্ধার করে সব এক সাথে করেছি। লেকে হাটার সময় ক্লান্ত হয়ে গেলে বসার জন্য বিশ্রামযোগ্য আসন তৈরি করছি। প্রায় ৫০টি পয়েন্টে খাবার পানির ব্যবস্থা থাকবে। যাতে সাধারণ মানুষ সহজে খাবার পানি পান করতে পারে। এ ছাড়াও লেকের কিছু অংশ সবুজ ঘাস লাগানো হবে এবং পুরো লেকটির পাড় ব্লক দিয়ে বাধাই করা হবে। যাতে পাড়ের মাটি সরে না যায়। উত্তরা ৫নং সেক্টরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, আমি এখানে ১০ ধরে আছি, প্রায় প্রতিদিন সকালে হাটতে বের হই এই লেকের ধারে। কিন্তু পানি দূষিত থাকার কারণে হাটতে গেলে অনেক সমস্যা হত। এখন লেকটির উন্নয়ন হচ্ছে দেখে অনেক ভাল লাগছে। আশা আর দূষিত পানি থাকবে না। এখন হাটতেও কোনো সমস্যা হবে না। এখন থেকে খুব সুন্দর ভাবে সকাল বেলা হাটতে পারব।
রজিউক থেকে জানানো হয়, আমরা লেকের উন্নয়ন কাজ করলেও এর দেখভাল এর দায়িত্ব পালন করবে উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরের কল্যান সমিতিগুলো। এই দয়িত্ব তারা খুব সুন্দর ভাবে পালন করতে পারে।

রাজউকের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে উত্তরা লেকের পরিবেশ

তথ্য প্রযুক্তি

তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়ন
সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণার সাথে সঙ্গতি রেখে বিদ্যুৎ খাতে তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহক সেবার মান বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ কাজ করছে। ইতোমধ্যেই বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য মোবাইল ফোন ও অন-লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ, অন-লাইনের মাধ্যমে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন ও নিয়োগ ব্যবস্থাপনা, অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাপনা, ই-ফাইলিং ব্যবস্থাপনা, স্টোর ব্যবস্থাপনা, অডিট ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প মনিটরিং ব্যবস্থাপনা, অটোমেটেড রিমোট মিটার এবং প্রি-পেইড মিটারিং পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ খাতে গৃহীত তথ্য প্রযুক্তি কর্মসূচিসমূহ বিস্তারিতভাবে নিম্নে উল্লেখ করা হল:

সেবার মান বৃদ্ধি

ক) বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ: গ্রাহক সেবার মান বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ পদ্ধতি আরও সহজ করা প্রয়োজন, সে লক্ষ্যে মোবাইল ফোন ও অনলাইনের মাধ্যমে বিল প্রদান পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছে।

মোবাইল ফোনের মাধ্যমে: বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ সহজিকরনের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ গ্রাহকের একাউন্ট কম্পিউটারের ডাটাবেইজের আওতায় আনা হয়েছে। অপরদিকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন গ্রাহকগণ যে কোন সময় যে কোন স্থান হতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারেন। সকল বিতরন সংস্থা এ ব্যবস্থা চালু করেছে।
অন-লাইনের মাধ্যমে: গ্রাহকগণ এখন ইন্টারনেট/ অন-লাইনের মাধ্যমেও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারেন। তবে এ ব্যবস্থাটি পবিবো, ডিপিডিসি ও ডেসকো চালু করেছে। বিউবো ও ওজোপাডিকো এ লক্ষ্যে কাজ করছে।
খ) অন-লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ: বিতরন সংস্থা সমূহ অন-লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা চালু করেছে। এ ব্যবস্থার ফলে গ্রাহকগণ ঝামেলামূক্তভাবে বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন ও প্রক্রিয়াকরন করতে পারে।

গ) অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি: বিদ্যুৎ গ্রাহকগণের অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেই, এতে গ্রাহকগণকে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। এর সমাধানের লক্ষ্যে তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যেখানে আউটসোর্সিং-এর মাধ্যমে কল সেন্টার স্থাপন করা হবে। প্রাপ্ত অভিযোগগুলো কল সেন্টারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অফিসকে জানিয়ে দেয়া হবে। বিভিন্ন ধরণের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারিত সময়সীমা বেঁধে দেয়া হবে এবং এ কাজগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা থাকবে। সকল ইউটিলিটিগুলোর জন্য একটি সমন্বিত সফটওয়ার তৈরীর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে DPDC ও DESCO তে Call Center স্থাপনের মাধ্যমে অভিযোগ ব্যবস্থাপনা প্রবর্তনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে DPDC কর্তৃক একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ চুড়ান্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ খাতের অন্যান্য বিতরন সংস্থায়ও এ পদ্ধতি প্রবর্তন করা হবে।

ঘ) অন-লাইন নিয়োগ ব্যবস্থাপনা চালুকরণ: বিদ্যুৎ বিভাগ অন-লাইনের মাধ্যমে নিয়োগ ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। চাকুরী প্রার্থীগণ দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে অতি দ্রুততার সাথে তাঁদের আবেদন পাঠাতে পারবেন এবং সাথে সাথে অফিস কর্তৃক প্রাপ্তির নিশ্চয়তা পত্র প্রাপ্ত হবেন। সফটওয়ারটি ইতোমধ্যে কিছু সংস্থায় চালু করা হয়েছে। অচিরেই সকল ইউটিলিটিতে ব্যবস্থাটি চালু করা হবে।

ঙ) ICT Road Map for Bangladesh Power Sector (ERP solution): বিদ্যুৎ খাতের জন্য সমন্বিত Enertprise Resource Planning (ERP) প্রবর্তনের নিমিত্তে বিদ্যুৎ খাতের আইসিটি কর্মপরিকল্পনা (Road Map) প্রণয়নের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সুপারিশের আলোকে বিদ্যুৎ খাতে প্রণীত আইসিটি কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ERP বাস্তবায়নের নিমিত্তে একটি প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে উক্ত প্রকল্পের জন্য Pre-DPP প্রস্তুতপূর্বক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এবং পরিকল্পনা কমিশনে গত ০৯/০৩/২০১৬ ইং তারিখে প্রেরন করা হয়েছে।

এ ছাড়াও জ্বালানি বিভাগের জন্য অনুরূপ কাজের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য অনুরোধের প্রেক্ষিতে পাওয়ার সেলের মাধ্যমে বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি

ক) ই-ফাইলিং ব্যবস্থাপনা: বিদ্যুৎ বিভাগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে নথি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের অভিজ্ঞতার আলোকে অন্যান্য ইউটিলিটিগুলোতেও এ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

খ) অন-লাইন প্রকল্প পরিবীক্ষণ ব্যবস্থাপনা: বিদ্যুৎ বিভাগের এডিপিভূক্ত প্রকল্পগুলো সমূহ অনলাইনে মনিটর করার অন-লাইন প্রকল্প পরিবীক্ষণ ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার এডিপিভূক্ত প্রকল্পগুলোর প্রকল্প পরিচালকগণের অফিস দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত। প্রকল্প পরিচালকগণের নিকট হতে তথ্য একীভূত করে সংস্থাভিত্তিক তা বিদ্যুৎ বিভাগে পরিবীক্ষণ করা বেশ কষ্টসাধ্য ও সময় সাপেক্ষ ছিল এবং এজন্য প্রচুর কাগজের অপচয় হত। ওয়েব ভিত্তিক প্রকল্প পরিবীক্ষণ ব্যবস্থাপনা চালু করায় দূর-দূরান্ত অবস্থিত অফিস হতে প্রকল্প পরিচালকগণ কর্তৃক তথ্য প্রদানের সাথে সাথেই তা পরিবীক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে ।

গ) ভিডিও কনফারেন্সিং পদ্ধতি চালুকরণ: বিদ্যুৎ বিভাগসহ এর আওতাধীন ইউটিলিটিসমূহের মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সিং চালু করা হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন সভা অনুষ্ঠানের বিষয়ে ইউটিলিটি প্রধানগন নিজ নিজ অফিসে বসেই সভা করতে পারেন।

ঘ) সমন্বয় সভার জন্য অন-লাইন ভিত্তিক সফ্টওয়্যার চালুকরণ: বিদ্যুৎ বিভাগের মাসিক সমন্বয় সভার জন্য একটি অন-লাইন ভিত্তিক সফ্টওয়্যার বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সংস্থাসমূহ প্রতিমাসে নিয়মিত অন-লাইনে তথ্য প্রেরণ করে। এর ভিত্তিতে মাসিক সমন্বয় সভায় তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

ঙ) পিএমআইএস সফটওয়্যার পদ্ধতি চালুকরণ: বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্ট ইউটিলিটিসমূহে সমন্বিত একক পিএমআইএস সফটওয়্যার চালু করা হয়েছে।

সুশাসন প্রতিষ্ঠা:

ক) স্টোর ব্যবস্থাপনা: কম্পিউটারভিত্তিক স্টোর ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে। এর ফলে সরকারি সম্পদের অপচয় রোধ হবে এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার ফলে মালামাল ক্রয়ে দুর্নীতি হ্রাস পাবে। সুষ্ঠু স্টোর ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে ওভার ইনভেন্টরি কস্ট পরিহার করার লক্ষ্যে স্টোর ব্যবস্থাপনাকে কেপিআই হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

খ) অটোমেটেড রিমোট মিটার পদ্ধতি চালুকরণ: ইউটিলিটিসমূহের সকল প্রবেশ পয়েন্টে অটোমেটেড রিমোট মিটার পদ্ধতি চালু করায় কম্পিউটারের মাধ্যমে অতি সহজেই বিদ্যুতের হিসাব ও বিল প্রণয়ন করা হচ্ছে। এছাড়া বড় বড় এইচটি গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও Automated Meter Reading (AMR) মিটার বসানো হয়েছে। ফলে বড় বড় গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল প্রণয়নের ক্ষেত্রে অনিয়ম করার সুযোগ বহুলাংশে কমে এসেছে। এ ব্যবস্থা সকল এইচটি গ্রাহকদের জন্য চালু করা হবে।

গ) প্রি-পেইড মিটারিং পদ্ধতি চালুকরণ: বিদ্যুৎ বিল পরিশোধকে ঝামেলামূক্ত করাসহ বিদ্যুৎ বিল আদায় শতভাগ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ দেশব্যাপী প্রি-পেইড মিটারিং পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রি-পেইড মিটার ব্যবস্থার ফলে জনগণের মধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী মনোভাব সৃষ্টি হবে এবং মিটার রিডিং সংগ্রহের নামে গ্রাহক ভোগান্তি কমে আসবে।

ঘ) ই-টেন্ডারিং ব্যবস্থাপনা: টেন্ডারিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনয়নের লক্ষ্যে আইএমইডি’র সিপিটিইউ এর একটি প্রকল্পের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে ই-টেন্ডারিং ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ৪টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতের পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড অন্যতম। বিদ্যুৎ খাতে সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনয়নের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন সকল ইউটিলিটিসমূহে ই-টেন্ডারিং চালু করা হয়েছে।

ঙ) “স্ন্যাপ সট” এর মাধ্যমে মিটার রিডিং: বিদ্যুৎ খাতের জন্য আধুনিক “স্ন্যাপ সট” পদ্ধতিতে বিদ্যুতের মিটার রিডিং সংগ্রহ এবং স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে তথ্যাদি সরাসরি সার্ভারে প্রেরণের লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই বিউবো’র বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে এ পদ্ধতিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অচিরেই বিউবো’র অন্যান্য বিতরণ সংস্থায় সফ্টওয়্যারটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

চ) অডিট ম্যানেজমেন্ট সফ্টওয়্যার: বিদ্যুৎ খাতের জন্য একটি সমন্বিত অডিট ম্যানেজমেন্ট সফ্টওয়্যার বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে করে অডিট নিষ্পত্তি আরো সহজতর এবং গতিশীল হয়েছে। ফলে প্রতি নিরীক্ষা বছরের অডিট আপত্তি ও নিষ্পত্তির ব্যবধান কমে যাবে। অনিয়ম ও অস্বচ্ছতা হ্রাস পাবে। সর্বস্তরে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।

বিদ্যুৎ খাতে তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে

প্রকৌশলীদের সভা (জন সেইমর লুকাস, ১৮৬৮)

আমাদের প্রকৌশল ডেস্ক ।।

প্রকৌশলীরা হলেন দক্ষ প্রযুক্তিবিদ । গাণিতিক ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের প্রয়োগ ঘটিয়ে ব্যবহারিক সমস্যার নিরাপদ এবং অর্থনৈতিক বিচারে গ্রহণযোগ্য সমাধান খোঁজাই প্রকৌশলীর কাজ । প্রকৌশলী শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ engineer এসেছে লাতিন ingenium থেকে, যার অর্থ ‘চালাকি’ । তবে গত কয়েক শতাব্দীতে শিল্প বিপ্লবেরপর ক্রমাগত প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সাথে সাথে অর্থেরও খানিকটা পরিবর্তন ঘটেছে । বর্তমানে প্রকৌশলী বলতে ব্যবহারিক বিজ্ঞানীদেরকে বোঝানো হয় ।

পরিকল্পনা : প্রকৌশলীরা নতুন প্রযুক্তিগত সমাধান উন্নতিসাধন করে। প্রকৌশল নকশা প্রক্রিয়ায় একজন প্রকৌশলীকে অনেক কিছু করতে হয় যেমন, সমস্যা অনুসন্ধান, গবেষণা, মানদণ্ড বিশ্লেষণ, সম্ভাব্য সমাধান ও বিশ্লেষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ। প্রকৌশলীদের বেশিরভাগ সময় গবেষণা, সমস্যার স্থান, প্রয়োগ এবং তথ্য বিনিময়ে ব্যয় হয়। প্রকৌশলী তার মেধা দিয়ে বিভিন্ন রকম সমাধান বের করবে এবং সেরা উপায় গ্রহণ করবে। [১] তাদের চরম এবং অনন্য করনীয় হল সনাক্তকরন, উপলব্ধি এবং সীমাবদ্ধতা ব্যাখ্যা করে একটি সফল সমাধান বের করা।

বিশ্লেষণ: প্রকৌশলীরা পরীক্ষন, উৎপাদন বা রক্ষণাবেক্ষণে বিভিন্ন ইঞ্জিনীরিং বিশ্লেষণ কৌশল ব্যবহার করে। বৈশ্লেষিক প্রকৌশলীরা যদি উৎপাদন পর্যবেক্ষণ করেন তাহলে তারা, প্রক্রিয়াগন ত্রুটি খুজে বের করেন এবঙ্গি উৎপাদন পরিক্ষা করে দেখেন যাতে মান বজায় থাকে। তারা একটি প্রকল্পের সভাব্কয সময় ও খরচ হিসাব করেন। তত্ত্বাবধানকারী প্রকৌশলীরা সমগ্র প্রকল্প বা বড় অঙ্গিশের দায়িত্বে থাকেন। বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড, বিভিন্ন বস্তুর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও যন্ত্রের কার্যকারিতা বর্ণনা করে। [২] অনেক প্রকৌশলী নকশা তৈরি, বিশ্লেষণ ও পরিক্ষনের কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করেন।

প্রকৌশল বিভাগ ও ব্যবস্থাপনা: অধিকাংশ ইঞ্জিনিয়ারদের এক বা একাধিক প্রকৌশল বিদ্যায় বিশেষজ্ঞ। [৩] সকল প্রকৌশল বিভাগ বিভিন্ন পেশাদার সমাজ দ্বারা স্বীকৃত। বিভিন্ন প্রকৌশল বিভাগের আবার অনেক উপবিভাগ আছে। উদাহরণস্বরূপ, পুরকৌশলে (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং) স্ট্রাকচারাল এবং পরিবহন প্রকৌশল রয়েছে এবঙ্গি উপকরণ প্রকৌশলে (মাটেরিয়াল এঙ্ইঞ্জিনিয়ারিঙ্গি ) সিরামিক, ধাতুবিদ ও পলিমার ইঞ্জিনিয়ারিং রয়েছে। প্রকৌশলীরা এক বা একাধিক বিষয়ে দক্ষ হতে পারে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় বর্ণনা করা হয়েছে প্রকৌশলীরা কিভাবে তাদের সময় ব্যয় করেন।  গবেষণায় দেখা গেছে, প্রকৌশলীরা বেশ কয়েক ধরনের কাজ করেন, (১) প্রযুক্তিগত কাজ (যেমন, পণ্য বিকাশ বিজ্ঞানের ব্যবহার) (২) সামাজিক কাজ (অর্থাৎ, মানুষের মধ্যে যোগাযোগ) (৩) কম্পিউটার ভিত্তিক কাজ (৪) তথ্য ব্যবহার। এছাড়াও, প্রকৌশল একটি তথ্য নিবিড় ক্ষেত্র। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রকৌশলীরা ৫৫% সময় তথ্য নিয়ে কাজ করেন যার মধ্যে ১৪% সময় অন্যের কাছ থেকে এবঙ্গি ও তথ্যভাণ্ডার থেকে তথ্য খোঁজেন।

প্রকৌশলীরা জনগণ, তাদের ক্লায়েন্ট, নিয়োগকর্তা এবং পেশায় দায়ীত্বশীল। প্রকৌশল সমাজের প্রতিষ্ঠিত কোড অফ প্রাকটিস এবঙ্গি নীতিশাস্ত্র কোড দ্বারা পরিচালিত। প্রত্যেক প্রকৌশল অনুষদ এবঙ্গি পেশাদার সমাজ নীতিশাস্ত্র কোড দ্বারা পরিচালিত এবঙ্গি এর সদস্যরা তা মেনে চলতে বাধ্য। তাদের বিশেষত্বের উপর ভিত্তি করে, প্রকৌশলীরা নির্দিষ্ট সংবিধি, পণ্যের দায় আইন, এবং ব্যবসায়িক নীতিশাস্ত্র দ্বারা পরিচালিত হতে পারে।  বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ দ্বারা নিবন্ধিত। নিবন্ধিত প্রকৌশলীরা নীতিশাস্ত্র কোড দ্বারা পরিচালিত।

প্রকৌশলীরা হলেন দক্ষ প্রযুক্তিবিদ

সড়ক ও সেতু

 

শামীম রাহমান

বাইশ হাজার কিলোমিটারের বেশি সড়কের মালিকানা সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের। তাদের আওতাধীন ছোট-বড় সেতু ও কালভার্টের সংখ্যা ১৯ হাজার ২১৮টি। এসব সড়ক, সেতুর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত সড়ক নেটওয়ার্কের পরিধি বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে সংস্থাটি। তবে সওজ অধিদপ্তরের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দেখা দিয়েছে জনবল সংকট। মোট অনুমোদিত জনবলের মাত্র অর্ধেক কর্মী নিয়ে সারা দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংস্থাটি।

সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, সওজ অধিদপ্তরের মোট পদের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৩১, যার মধ্যে ৪ হাজার ৫৪১টি পদই শূন্য। সবচেয়ে বেশি শূন্য রয়েছে তৃতীয় শ্রেণীর পদ। ২ হাজার ৫৭০টি তৃতীয় শ্রেণীর পদ বর্তমানে শূন্য। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ক্যাটাগরিতে শূন্য পদের সংখ্যা ১ হাজার ৫২২। দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে ২১৪টি। প্রথম শ্রেণীতে শূন্য পদ আছে ২০৪টি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও পাবলিক সার্ভিস কমিশনে (পিএসসি) প্রস্তাব, পদোন্নতি, নতুন করে নিয়োগ কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব শূন্য পদ পূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সওজ অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

সওজ অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রথম শ্রেণীর ২০৪টি শূন্য পদের মধ্যে সরাসরি নিয়োগযোগ্য সহকারী প্রকৌশলীর (সিভিল/যান্ত্রিক) ৮৬টি পদ পূরণের প্রস্তাব পিএসসিতে পাঠানো হয়েছে। বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে আরো ছয়টি পদ পূরণের কার্যক্রম চলমান আছে। আর পদোন্নতির মাধ্যমে আটটি পদ পূরণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। যদিও পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণযোগ্য ৬৩টি পদ পূরণের জন্য সওজ অধিদপ্তরে কোনো যোগ্য কর্মকর্তা নেই। অন্যদিকে নন-ক্যাডারের সাত পদ পূরণের জন্য সরাসরি নিয়োগের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় শ্রেণীর ৮২টি পদ পূরণের জন্য পিএসসিতে চাহিদাপত্র দিয়েছে সওজ অধিদপ্তর। মামলার কারণে আটকে আছে আরো ৬০টি পদে নিয়োগ, যেগুলো বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ হওয়ার কথা। অন্যদিকে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণযোগ্য ২০টি পদে সংস্থাটিতে কোনো যোগ্য কর্মকর্তা নেই। শূন্য ২১৪টি পদের মধ্যে বাকি ৪০টি পূরণের জন্য শিগগির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

সওজ অধিদপ্তর সবচেয়ে বেশি জনবল সংকটে ভুগছে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী পদে। এ ক্যাটাগরিতে সংস্থাটিতে শূন্য পদের সংখ্যা ২ হাজার ৫৭০। এসব শূন্য পদের মধ্যে ৬১২টি পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণযোগ্য। তবে যোগ্য কর্মচারীর অভাবে এসব শূন্য পদ পূরণ সম্ভব হচ্ছে না। আদালতে রিট পিটিশন থাকায় ১৭৩টি পদে ওয়ার্কচার্জড কর্মচারীদের নিয়মিত করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর ২৩১ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণযোগ্য। তবে যোগ্য কর্মচারীর অভাবে এসব পদ পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আটটি রিট পিটিশনে আটকে আছে ওয়ার্কচার্জড সংস্থাপনে কর্মরত ৩২৪ কর্মচারীর নিয়মিতকরণ।

সওজ অধিদপ্তরের ‘মহাসড়কের লাইফ টাইম: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনেও সংস্থাটির জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অপ্রতুল জনবলের কারণে ঠিকমতো দেশের সড়কগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপ্রতুল জনবলের কারণে অধিদপ্তরের একজন প্রকৌশলীকে একাধিক প্রকল্পে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে এসব প্রকল্পের কাজে গুণগত মান ঠিক রাখা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না। পাশাপাশি জনবল সংকটের কারণে অধিদপ্তরের বিভিন্ন নিয়মিত কার্যক্রমও বিঘ্নিত হচ্ছে।

জনবল সংকটের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী কাজী শাহিরয়ার হোসেন বলেন, শূন্য পদগুলোয় নিয়োগের কার্যক্রম চলমান আছে। পাশাপাশি অধিদপ্তরের নতুন একটি জনবল কাঠামো তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। নতুন জনবল কাঠামো অনুমোদন হলে অধিদপ্তরের কার্যক্রম আরো বেশি গতিশীল হবে।

 

তথ্যসুত্র :: বণিকবার্তা

অর্ধেক জনবল দিয়ে চলছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর

 

আমাদের প্রকৌশল ডেস্ক ।

সড়ক জনপথ (সওজ) অধিদফতরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. জাওয়েদ আলম তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগমকে বিদেশ যেতে দুর্নীতি দমন কমশিন (দুদক) যে বাধা দিয়েছিল তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে তাদের বিদেশ যেতে আর কোনো বাধা রইলো না।

একই সঙ্গে, অনুসন্ধানের নামে বার বার নোটিশ দিয়ে আবেদনকারীদের হয়রানি করা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েও রুল জারি করেছেন আদালত।

অপর এক আদেশে আদালত বলেছেন, দুদক কর্তৃক জব্দ করা স্থাবর সম্পত্তি ফ্রিজ করা ব্যাংক হিসাবের মধ্যে মো. জাওয়েদ আলম পেনশনের টাকা প্রাপ্ত হবেন তা অবমুক্ত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিদেশ থেকে তিন মাস পর ফিরে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অপর এক রুলে স্বামীস্ত্রীকে বিদেশ যাত্রায় বাধা দেয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে দুদকসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

পৃথক পাঁচটি রিটের শুনানি নিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এবিএম আলতাফ হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এআরএম কামরুজ্জামান কাকন মো. সাজিদুর রহমান। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান।

আদেশের পর বিষয়ে রিটকারীদের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার এবিএম আলতাফ হোসেন বলেন, আমরা শুনানিতে দুদকের অথরিটিকে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। আর আদালতের মাধ্যমে জানতে চেয়েছিলাম যে, কোন ক্ষমতা বলে একজন নাগরিককে কোনো রকম মামলা ছাড়াই বিদেশ যেতে বাধা দেয়। আর শুধুমাত্র নোটিশ দিয়ে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালিয়ে দুই বছর বিদেশ যেতে দেয়া হয়নি। তাকে দুই বছর আটকে রাখা হয়েছে তদন্তের নামে। এর পরে আদালতও বিষয়টি নিয়ে দুদকের প্রতি প্রশ্ন তোলেন।

 আইনজীবী কামরুজ্জামান কাকন জানান, আগে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৮ সালের ২০ জুন তাদের সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিশ পাঠায় দুদক। এই সময়ের মধ্যে সম্পদের বিবরণী দাখিল করলেও ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আবারও সম্পদের বিবরণী চেয়ে নোটিশ পাঠায় দুদক। চলতি বছরের জানুয়ারি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে আবেদনকারীররা জানতে পারেন তাদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ছাড়া দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৭ জানুয়ারি আবেদনকারীদের স্থাবর সম্পত্তি জব্দ ব্যাংক হিসেব ফ্রিজ করার আদেশ দেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত। এসব বিষয় চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পাঁচটি আবেদন করেন তাদের আইনজীবী। সেই আবেদনগুলো শুনানি নিয়ে আদেশ দেন আদালত।

সওজের সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর সস্ত্রীক বিদেশ যেতে বাধা নেই

আমাদের প্রকৌশল ডেস্ক ।।

কাজী শাহ্‌রিয়ার হোসেন গত ১২ এপ্রিল, ২০২০ খ্রিস্টাব্দে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী হিসাবে যোগদান করেন। তিনি ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের ০৬ জানুয়ারী টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম কাজী আব্দুস সালাম এবং মাতার নাম মরহুমা বেগম রওশন আক্তার।  তিনি ঢাকা কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি, নটরডেম কলেজ থেকে এইচ.এস.সি. পাশ করেন এবং ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল  বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ  বিএসসি. ডিগ্রী অর্জন করেন।

কাজী শাহ্‌রিয়ার হোসেন ০৩ জুলাই ১৯৮৬ সালে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে সহকারি প্রকৌশলী হিসাবে যোগদান করেন এবং বিভিন্ন কর্মস্থলে নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। সহকারি প্রকৌশলী হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে তিনি ব্রীজ ডিজাইন সার্কেল-খুলনা, প্লানিং বিভাগ, ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। পদোন্নতিপ্রাপ্ত হয়ে তিনি উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসাবে সড়ক উপ-বিভাগ নড়াইল, সড়ক উপ-বিভাগ সিরাজগঞ্জ, সড়ক উপ-বিভাগ গোলাপগঞ্জ, সিলেট পদে কাজ করেছেন। অতঃপর তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে সড়ক বিভাগ সিলেট, পরিকল্পনা বিভাগ-২ এবং রুটিন মেইনটেন্যান্স বিভাগ ঢাকায় সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

তাছাড়াও তিনি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় বিভিন্ন সময়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পের মধ্য জেবিআরপি প্রকল্প, বন্যা পুনর্বাসন প্রকল্প-২০০০, পিআইইউ/ডিইউটিপি প্রকল্পে উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক (উঃবিঃপ্রঃ) এবং পিআইইউ/ডিইউটিপিসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম ৪-লেন হাইওয়ে প্রকল্পে প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসাবে পরিকল্পনা, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন সার্কেল, রক্ষণাবেক্ষণ সার্কেলসহ প্রশাসন ও সংস্থাপন সার্কেল, ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। প্রধান প্রকৌশলী হিসাবে যোগদানের পূর্বে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসাবে তিনি সাসেক-২: এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর সড়ক-কে ৪-লেন মহাসড়ক এ উন্নীতকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সরকারি কাজের অংশ হিসাবে তিনি জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, ইতালি, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালায় অংশ গ্রহণ করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে কাজী শাহ্‌রিয়ার হোসেন দুই পুত্র সন্তানের জনক।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী কাজী শাহ্‌রিয়ার হোসেন

উন্নয়ন প্রকল্প

আমাদের প্রকৌশল ডেস্ক ।।

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যানজটকবলিত গাজীপুর এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ২২ জেলার দ্রুত ও সহজ যোগাযোগের জন্য এগিয়ে চলছে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের কাজ। ২০২২ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ঢাকা-গাজীপুরের সাড়ে ২০ কিলোমিটার পথে যাতায়াত করা যাবে সর্বোচ্চ আধা ঘণ্টায়। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে যাতায়াত অনেক স্বাচ্ছন্দ্যের হবে। গণপরিবহনে যোগ হবে নতুন মাত্রা। বদলে যাবে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যাতায়াতে নিত্য দুর্ভোগের চিত্র।  বিআরটি রুটে বিদ্যমান মহাসড়কের ওপর দিয়ে পৃথক লেনে দুই দিক থেকে ১০০ আর্টিকুলেটেড (জোড়া) বাস প্রতি ঘণ্টায় ২৫ হাজার যাত্রী পরিবহন করবে। এর ফলে ঢাকা ও গাজীপুরের যাত্রী ছাড়াও উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘব হবে। এখন ঢাকা থেকে গাজীপুর যেতে কখনো কখনো তিন ঘণ্টারও বেশি সময় দুঃসহ যানজটে অপেক্ষা করতে হয়। বিআরটি এই পথের যাত্রীদের নিত্য যাতায়াতে স্বাচ্ছন্দ্য এনে দেবে। গত চার মাসে করোনার ধকল কাটিয়ে এখন পুরোদমে কাজ চলছে বিআরটি প্রকল্পের। বুধবার বিকালে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর বিমান বন্দর মোড়, উত্তরা, হাউসবিল্ডিং, টঙ্গী ব্রিজ, চেরাগ আলী, বোর্ড বাজার, গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে প্রকল্পের কাজ চলছে। ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারদের তত্ত্বাবধানে  শত শত শ্রমিক কাজ করছে। নির্মাণযজ্ঞের কারণে ধুলায় ধূসরিত পুরো এলাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি), সেতু কর্তৃপক্ষ ও সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ)।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বিআরটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এই রুটে লাখ লাখ যাত্রী দ্রুত তাদের গন্তব্যে যেতে পারবে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজট অনেকটাই কমে যাবে। যাতায়াতের সময় কমে যাওয়ার কারণে বাসের ট্রিপ সংখ্যা বেড়ে যাবে। ফলে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের আয় বাড়বে। যাত্রীরা দ্রুততম সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছার ফলে কর্মদক্ষতা বেড়ে যাবে, যার প্রভাব পড়বে জাতীয় অর্থনীতিতে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সাড়ে ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ঢাকা-গাজীপুর বিদ্যমান সড়কের মাঝ বরাবর নির্মিত হচ্ছে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের রুট। প্রকল্পে থাকছে, চার দশমিক ৫ কিলোমিটার এলিভেটেড ফ্লাইওভার ও সেতু। যার মধ্যে ৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার ৬ লেন বিশিষ্ট এবং ১ কিলোমিটার ২ লেন বিশিষ্ট। থাকছে ৬টি এলিভেটেড স্টেশন ও ১০ লেন বিশিষ্ট টঙ্গী সেতু। ৬টি উড়াল সড়ক ও আন্ডারপাস। জলজট নিরসনে প্রকল্পের আওতায় টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। ধীরগতির যানবাহন চলাচল করবে পৃথক লেনে। দ্রুতগতির যান চলাচলের জন্য সড়কের মাঝ বরাবর দুই লেন পৃথক করা হবে। ২০১২ সালে বিআরটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে নানা জটিলতায় প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হয়। শুরুতে প্রকল্পটি ২ হাজার ৪০ কোটি টাকার প্রাক্কলন করা হলেও ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যয় বাড়িয়ে ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা করা হয়। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট-বিআরটি প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি এখন ৪২ ভাগ। করোনাকালে প্রকল্পের নির্মাণকাজ বন্ধ থাকলেও গত দেড় মাস ধরে কাজ চলছে। সম্প্রতি কাজে আরও গতি এসেছে। এদিকে টঙ্গী-জয়দেবপুর সড়কে জনদুর্ভোগ কমাতে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, কোনো কারণেই কাজ থেমে থাকবে না। এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। প্রকল্পের অর্থ সংকট এখন কেটে গেছে। তাই বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো রকম জটিলতা নেই।
সরকারের তিন প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। তবে বিভিন্ন কারণেই সবার অগ্রগতি এক রকম নয়। বিআরটি, গাজীপুর-বিমানবন্দরের সেতু কর্তৃপক্ষ অংশের প্রকল্প পরিচালক লিয়াকত আলী বলেন, ‘বিআরটি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এলজিইডি, সেতু কর্তৃপক্ষ এবং সওজ মিলে। আমাদের সেতু কর্তৃপক্ষ অংশের অগ্রগতি ৩২ শতাংশ। তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ, বন্যা, বর্ষার কারণেও কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এখন কাজের গতি ফিরেছে। আশা করছি, সব সমস্যা কেটে যাবে। সেতু কর্তৃপক্ষের অংশের কাজ পিছিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘স্মেক’ লিখিতভাবে জানিয়েছে, ভূগর্ভস্থ এবং মাটির ওপরে অবস্থিত বিভিন্ন ধরনের ইউটিলিটি লাইন থাকায় অনেক স্থানেই পাইল ক্যাপ রি-ডিজাইন করতে হচ্ছে। হাউসবিল্ডিং থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত আর কোনো পাইল অবশিষ্ট না থাকায় টঙ্গী ব্রিজ থেকে চেরাগ আলী পর্যন্ত অবশিষ্ট ১৬০টির মতো পাইল নির্মাণ করতে হবে। এ দূরত্ব পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ ইউটিলিটি থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব ও ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের অন্যতম বাস অপারেটর এনা ট্রান্সপোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, যানজটের কারণে মহাখালী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত যেতে যত সময় লাগে এর চেয়ে অনেক কম সময়ে ময়মনসিংহ পৌঁছানো যায়। এই রুটে বছরের পর বছর যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। জয়দেবপুর থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত ফোর লেন প্রকল্প চালু হলেও ঢাকা-গাজীপুরের দুর্ভোগের কারণে এর সুবিধা যাত্রী ও পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, বিআরটি প্রকল্পের কাজ শেষ হলে আশা করি জনদুর্ভোগ কমবে। সেইসঙ্গে যাত্রীদের চলাচলের পথ আরও সুগম হবে। তিনি দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করার তাগিদ দেন। গত সপ্তাহে বিআরটি প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় অংশ নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, কাজ থেমে নেই। সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৪২ ভাগ। প্রকল্প এগিয়ে নিতে এখন আর কোনো জটিলতা নেই। আশা করছি, দ্রুত কাজ শেষ হবে। কাজের গতি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার একে একে সবটুকু উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ করতে চায়। সংকট যতই আসুক উন্নয়ন থেমে থাকবে না। যে কোনো মূল্যে আমরা সম্ভাবনার সব প্রকল্পের কাজ শেষ করব। প্রকল্পের ১ নম্বর প্যাকেজের আওতায় ১৬ কিলোমিটার বিআরটি লেন ও ১৯টি স্টেশনসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চীনা গেঝুবা গ্রুপ করপোরেশন (সিজিজিসি)। গত জুন পর্যন্ত প্যাকেজটির নির্মাণকাজ এগিয়েছে ৪২ দশমিক ৫২ শতাংশ। বৈঠকে এ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সাবেক নির্বাহী পরিচালক ড. এস এম সালেহ উদ্দিন বলেন, বিআরটি প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু গাজীপুর-জয়দেবপুরের যাত্রী নয়, উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রী ও পরিবহন সেবায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। রাজধানীর প্রবেশ পথের যানজট সমস্যার সমাধান হবে। নির্মাণকাজে সমন্বয় বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, কাজের সমন্বয় এবং পরিচালনাকালে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বটি ভালোভাবে পালন করতে হবে। ব্যবস্থাপনা ভালো হলে এর সুফল পাওয়া যাবে।

গণপরিবহনে যোগ হবে নতুন মাত্রা, বদলে যাচ্ছে দেশের উত্তর দিগন্ত

আমাদের প্রকৌশল ডেস্ক ।।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর ( LGED) এর কতৃক বাস্তবায়িত খিলগাঁও ফ্লাইওভার বাংলাদেশের সর্বপ্রথম এবং বৃহত্তর ফ্লাইওভার হিসেবে স্বীকৃত।। এরপর মহাখালী ফ্লাইওভার প্রকল্পের কাজ শুরু হয় এবং মহাখালী ফ্লাইওভারই প্রথম চালু হয়। সে হিসেবে মহাখালী ফ্লাইওভারই ঢাকার প্রথম ফ্লাইওভার। এরপর খিলগাঁও এবং তেজগাঁও ফ্লাইওভার চালু হয়।গণপ্রজতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি উদ্বোধন করেন। এই ফ্লাইওভার চালু হওয়ার কারনে যাত্রাবাড়ী, মালিবাগ ও মতিঝিলে যাতায়াতকারীদের ভোগান্তি অবসান হয়।
খিলগাঁও উড়ালসেতু ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ত একটি উড়ালসেতু। এটি একদিকে রাজারবাগকে সংযুক্ত করেছে অন্যদিকে মালিবাগকে এবং তৃতীয় দিকে সায়েদাবাদকে। ২০১৬ সালে নির্মাণকৃত আরেকটি লুপ  মাদারটেক, কদমতলী, বাসাবো ও সিপাহীবাগকেও যুক্ত করেছে উড়ালসেতুর সাথে। ১.৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ উড়ালসেতুর নির্মাণকাজ শুরু  হয় ২০০১ সালে এবং সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয় ২০০৫ সালের মার্চ মাসে। ১৪ মিটার চওড়া খিলগাঁও উড়ালসেতু নির্মাণে ব্যয় হয় প্রায় ৮১.৭৫ কোটি টাকা। এটি নির্মাণের ফলে খিলগাঁও রেল ক্রসিংয়ের জ্যামের পরিমাণ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।
শহরের কেন্দ্রস্থল যানজট নিরসনের জন্য দেশের দ্বিতীয় ও বৃহত্তম ফ্লাইওভারটি খিলগাঁওয়ের নিকটে ব্যস্ত রোড-রেল মোড়, দক্ষিণে রাজারবাগ, পশ্চিমে মালিবাগ এবং পূর্বে সায়েদাবাদকে সংযুক্ত করে নির্মিত হয়েছিল।
১.৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১৪ মিটার প্রশস্ত এই ফ্লাইওভারটির নির্মাণ কাজ ২০০১ সালে ৮১.৭৫  কোটি টাকা ব্যয়ে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ ব্যয়সহ শুরু হয়েছিল। ফ্লাইওভারটিতে একটি ৭৮০ মিটার মূল সেতু এবং তিনটি র‌্যাম্প রয়েছে। সায়েদাবাদের দিকে ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য ৩০৩ মিটার, মালিবাগ ১৯০ মিটার এবং রাজারবাগ ২৮৫ মিটার। সায়েদাবাদ অভিমুখে র‌্যাম্পটি ২২০ মিটার, মালিবাগ ২০২ মিটার এবং রাজারবাগ ২২২ মিটার।

ঢাকার প্রথম ফ্লাইওভার প্রকল্প খিলগাঁও ফ্লাইওভার

Our Like Page

উদ্ভাবন

ওগডেন সেন্টার ফর ফান্ডামেন্টাল ফিজিক্স বিল্ডিং ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যতের স্থাপত্য কাঠামোগত উন্নয়নের জন্য স্থায়িত্বের মানদণ্ড নির্ধারণ করে


ইন্টার ডেস্ক::

ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় তার নতুন ১১.৫ মিলিয়ন ডলার ওগডেন সেন্টার ফর ফান্ডামেন্টাল ফিজিক্স স্টুডিও লাইবসাইন্ড (নিউ ইয়র্ক)  ডিজাইন করেছে। ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় মহাজাগতিক এবং মহাকাশ বিজ্ঞানের একটি বড় প্রতিষ্ঠান এবং এটি আশা করা হয় যে নতুন ওগডেন কেন্দ্রের ভবনটি এই অবস্থানকে আরও সীমাবদ্ধ করবে। নতুন কেন্দ্রটি ডারহামের গবেষণার দ্রুত বৃদ্ধি এবং একাডেমিক সাফল্যকে মৌলিক পদার্থবিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্য করবে, সামনের দশকে এটির বিশ্বব্যাপী অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম করবে।

যুক্তরাজ্যের ডারহাম সিটির, লোয়ার মাউন্টজয়, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের পাশে অবস্থিত, ২,৮৭৮৭৮ বর্গমিটার বিল্ডিংটি ইনস্টিটিউট ফর কমপিটেশনাল কসমোলজি (আইসিসি), বিশ্বের অন্যতম প্রধান মহাজাগতিক গবেষণা দল, কেন্দ্র বহির্মুখী জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র (সিইএ) এবং উন্নত ইনস্ট্রুমেন্টেশন সেন্টার (সিএফএআই)। নতুন ওগডেন সেন্টারে গবেষক, স্নাতকোত্তর গবেষণা শিক্ষার্থী, সমর্থন কর্মী এবং পরিদর্শনকারী শিক্ষাবিদদের জন্য আশিটি নতুন অফিস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ডারহম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কার্লোভাল ইনস্টিটিউট ফর কম্পিউটেশনাল কসমোলজির পরিচালক, প্রফেসর কার্লোস ফ্রেঙ্ক বলেছিলেন: “ফান্ডামেন্টাল ফিজিক্সের নতুন ওগডেন সেন্টারটি ডারহাম সিটির অনন্য স্থাপত্য ঐতিহ্যে এক দুর্দান্ত অবদানকে উপস্থাপন করে। এর নকশাটি একটি শীর্ষ-শ্রেণীর গবেষণা কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা প্রতিফলিত করে, যা আমাদের মহাবিশ্ব সম্পর্কে কিছু মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য উত্সর্গীকৃত: আমাদের ইউনিভার্সটি কখন এবং কখন শুরু হয়েছিল? এটা কিসের তৈরি? গ্যালাক্সি এবং অন্যান্য কাঠামো কীভাবে গঠিত? নতুন ভবনটি একটি আশ্চর্যজনক জায়গা যেখানে কাজ করা উচিত ”।

নকশা

পরিকল্পনার মধ্যে একটি সর্পিল কেন্দ্রটি ধারাবাহিক, স্ট্যাকড এবং ইন্টারলকিং ফর্ম হিসাবে ডিজাইন করা হয়েছে। দায়বদ্ধতার সাথে উত্সাহিত স্কটিশ লার্চ থেকে তৈরি একটি বায়ুচলাচল কাঠের বৃষ্টির পর্দাতে আবৃত  এছাড়াও, উত্তর ও দক্ষিণে ক্যান্টেড পর্দার দেয়ালগুলি সর্পিলটির আকারটি বাড়িয়ে তোলে এবং সুরম্য ডারহাম সিটি এবং ডারহাম ক্যাথেড্রালের দর্শনীয় দৃশ্য সরবরাহ করে।

ভবনের সক্রিয় ফর্মটি তার পরিধিগুলির সাথে প্রাইভেট ওয়ার্ক স্পেসগুলির একটি কঠোর, পুনরাবৃত্তিমূলক প্রোগ্রামকে একত্রিত করে একটি সাম্প্রদায়িক বহু-গল্পের অভ্যন্তরীণ স্থান যা স্পেস সংগ্রহ করে এবং একটি বিশাল কেন্দ্রীয় স্কাইলাইট দ্বারা সক্রিয় করা হয়। কেন্দ্রের জন্য একটি নতুন পরিচয় তৈরি করা হয়েছে যার ফলে অনন্য স্বতন্ত্র পৃথক কর্মক্ষেত্র তৈরি হয়েছে যা সংযোগ এবং সম্প্রদায়কে উপলব্ধি করে।

ড্যানিয়েল লিবাসকিন্ড বলেছিলেন: “এই প্রকল্পটি কীভাবে শক্ত প্রোগ্রামের প্রয়োজনীয়তার মধ্যে একটি উচ্চ-টেকসই, গতিশীল বিল্ডিংয়ের নকশা করা যায় তার একটি উদাহরণ। হালকা এবং খোলামেলা নকশার মূলে রয়েছে; নকশা প্রক্রিয়াটির প্রতিটি পদক্ষেপে আমরা সহজ, তবু শক্তিশালী উপকরণ অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং ব্যবহারকারীরা ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ বিল্ডিং তৈরির অভিজ্ঞতা বিবেচনা করেছেন। ”

কেন্দ্রের দর্শনার্থীরা আলোকিত লবিতে প্রবেশ করান অভ্যন্তরীণ নরম ধূসর কংক্রিট কলাম এবং সিলিংয়ের একটি প্রাকৃতিক প্যালেট নিয়োগ করে, উষ্ণ কাঠের সমাপ্তি এবং হিমশীতল কাচের সাথে যুক্ত। অফিসগুলিকে কেন্দ্রের ঘেরে ঠেলা দিয়ে প্রতিটি স্থান প্রাকৃতিক আলো এবং বায়ুচলাচল থেকে উপকার পেতে পারে। তদ্ব্যতীত, গ্লাসযুক্ত দরজা এবং স্ক্রিনগুলি আরও বাইরে থেকে মধ্য অলিন্দে আলো প্রেরণ করে। উদার ছাদ টেরেসগুলি সতেজ বাতাসকে স্বাচ্ছন্দ্য এবং উপভোগ করার জন্য অনড় মিটিং বা জায়গাগুলির জন্য জায়গা তৈরি করে। কেন্দ্রীয় অলিন্দ এবং সভা অঞ্চলগুলিতে স্কাইলাইটস মার্শাল আলোক। বিল্ডিংয়ের পুরো প্রোগ্রামটি নমনীয়, সাম্প্রদায়িক জায়গাগুলির সাথে জুড়ে রয়েছে।

গ্রাউন্ড ফ্লোর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এবং একটি সেমিনার / সভা ঘর (১০০ টি আসন) রয়েছে যা ইভেন্টগুলির জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। দ্বিতীয় তলায় একটি কেন্দ্রীয় সামাজিক স্থান রয়েছে যেখানে কর্মী এবং গবেষকরা অনানুষ্ঠানিক ভিত্তিতে একসাথে কাজ করতে পারবেন। এই কেন্দ্রীয় অঞ্চল আনুষ্ঠানিক ডিনার, তহবিল সংগ্রহকারী, উপস্থাপনা বা বিশেষ ঘোষণার জন্য একটি স্থান হিসাবেও কাজ করতে পারে। ভিডিও কনফারেন্সিং সুবিধাসহ সংলগ্ন ব্রেকআউট কক্ষগুলি গ্রুপ আলোচনা এবং আরও বৃহত্তর সহযোগিতার মঞ্জুরি দেয়। তৃতীয় তলায় অতিরিক্ত অফিসের জায়গা রয়েছে এবং এটি নীচের তলাগুলির জন্য উন্মুক্ত।

প্রকৌশল

জটিল প্রোগ্রাম এবং বিল্ডিংয়ের অনন্য সর্পিল আকারে সৃজনশীল প্রকৌশল সমাধানগুলির প্রয়োজন। কলামের অবস্থানগুলি সাবধানে বিবেচনা করতে হয়েছিল, তাদের মধ্যে কয়েকটি বিল্ডিংয়ের স্থাপত্যের জ্যামিতির প্রতিক্রিয়া জানাতে অনন্য পরিকল্পনার মাধ্যম । চিন্তার সাথে অবস্থানযুক্ত কলামগুলি নমনীয় কক্ষ বিন্যাসগুলি বিশ্ববিদ্যালয়কে ক্ষেত্রগুলির প্রসার ঘটাতে এবং স্থানের চারদিকে ঘোরাতে অনুমতি দেয় – কেন্দ্রের ভবিষ্যতের প্রয়োজনগুলি পূরণ করে।

অরূপ প্রকল্পটিতে কাঠামোগত, যান্ত্রিক, বৈদ্যুতিক এবং জনস্বাস্থ্য, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি অ্যাকোস্টিকস, ফেকাডস, জিওটেকনিক্স এবং ফায়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিশেষজ্ঞ পরামর্শমূলক পরিষেবা সরবরাহ করেছিল।

অরূপের প্রকল্প পরিচালক অ্যান্ড্রু উইলকিনসন বলেছিলেন: “যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান ও গবেষণা সম্প্রদায় রয়েছে এবং ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ও এর ব্যতিক্রম নয়। এই নতুন সুবিধাটি নতুন অফিস এবং শেখার স্থান তৈরি করে যা পরবর্তী প্রজন্মের বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গবেষক ও পদার্থবিদদের জন্য একটি চাক্ষুষরূপে অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশ সরবরাহ করে। ”

টেকসই

ওগডেন কেন্দ্রটি অত্যন্ত শক্তিশালী: ব্যবহারকারীর পরিবেশের মানের দিকে যত্নবান মনোযোগ দেওয়া হয়েছিল; টেকসই উপকরণ নির্বাচন; সুবিধাগুলি ঝরনা এবং বাইক র‌্যাকের সাহায্যে সজ্জিত; এর উন্মুক্ত কংক্রিট সিলিংগুলি নাইট-পার্জ প্রভাবের সুবিধা গ্রহণ করে; এলইডি ফিক্সচারগুলি জুড়ে ব্যবহৃত হয়; গ্রাউন্ড সোর্স হিট পাম্প এবং ছাদে ফটোভোলটাইজ অ্যারের মতো নবায়নযোগ্য শক্তির উত্সগুলি নিযুক্ত করা হয়; এবং বৃষ্টির পানির সংগ্রহগুলি প্রাকৃতিক দৃশ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

তথ্যসুত্র :: https://www.environmentalengineering.org.uk

ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক স্থাপত্যের সূচনা হয়েছিল

আমাদের প্রকৌশল ডেস্ক ।।

প্রায় অর্ধশত কৃষিযন্ত্রের উদ্ভাবন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আমির হোসেন। ১৯৭৬ সাল থেকে লায়নার পিষ্টন কৃষি যন্ত্রাংশের পাশাপাশি পানি তোলার জন্য সেন্ট্রিফিউগাল পাম্প তৈরি করে কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক চমক সৃষ্টি করেন বগুড়ার আমির হোসেন।


তাঁর হাত ধরে বগুড়ায় ঘুরে যায় কৃষি যন্ত্রপাতি ও হালকা প্রকৌশল শিল্প। ক্রমে এর অভাবনীয় বিপ্লব গড়ে উঠেছে। এখন এক হাজার ৫০০ কলকারখানায় বছরে দুই হাজার কোটি টাকার বেশি কৃষি যন্ত্রাংশ এবং হালকা প্রকৌশল শিল্পের বাজার তৈরি হয়েছে।

আমির হোসেন এখন পর্যন্ত অর্ধশত কৃষি যন্ত্র তৈরি করেছেন। এসব যন্ত্র উদ্ভাবনের জন্য স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তাঁকে ‘রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং’ ডিগ্রি প্রদান করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। এ ছাড়া ২০০৮ ও ২০১১ সালে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পদক অর্জন করেন এবং যন্ত্রবিজ্ঞানী খেতাব পান।

দিন দিন আমির হোসেন কৃষকের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ এবং একজন সফল কৃষিবিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তিনিও কৃষকের অবস্থা দেখে উপলব্ধি করেন, সংগঠিত উদ্যোগ ও কৃষি যন্ত্রের আধুনিকায়ন ছাড়া এ দেশের কৃষিকাজের ও কৃষকের উন্নয়ন সম্ভব নয়।

আমির হোসেন জানান, গ্রামের অতি সাধারণ কৃষক ও নারী কৃষকের কাছ থেকে তাদের সনাতন পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করার দুঃখকষ্ট ও সময় অপচয়ের কথা শোনেন। ভাবেন এই কাজগুলো যদি যন্ত্রের মাধ্যমে করা যেত, অনেক কষ্ট কমে যেত। এরপর তিনি তাঁর অভিজ্ঞতাকে বিজ্ঞানে রূপান্তর করে উন্নত দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বিভিন্ন কৃষি যন্ত্র তৈরি করেন। এখন এসবই ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশের কৃষকের হাতে।

আমির হোসেন বলেন, ‘আমাদের কৃষককে সকাল-সন্ধ্যা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল ফলাতে হয়। কৃষকের অমানুষিক কষ্ট লাঘবের জন্য কৃষি যান্ত্রিকীকরণ  অপরিহার্য ছিল। অন্যদিকে কৃষির উত্পাদনশীলতা ও উত্পাদন দক্ষতা বৃদ্ধির জন্যও কৃষির যান্ত্রিকীকরণ প্রয়োজন।

কিন্তু বর্তমানে আমদানিনির্ভর যন্ত্রপাতি দিয়ে যেভাবে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ  হচ্ছে, তা কৃষির উত্পাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা প্রান্তিক ভূমিহীন কৃষকের বহনক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে উদ্বৃত্ত শ্রমিকের এ দেশে কর্মসংস্থান হ্রাসের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। এসব যন্ত্রপাতি আমদানি করতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাও ব্যয় হচ্ছে।

আমির হোসেনের মতে, বাংলাদেশে কৃষির যান্ত্রিকীকরণের জন্য প্রয়োজন দেশীয় উপকরণ নির্ভর, সব শ্রেণির কৃষকের জন্য সহজলভ্য, ব্যয় সাশ্রয়ী ও লাগসই যন্ত্রপাতি। এমন কৃষি যন্ত্রপাতি, যা আমাদের দেশের উত্পাদিত যন্ত্রাংশ দিয়ে দেশেই উত্পাদন করা সম্ভব। এটা বাস্তবে প্রমাণ করেছেন প্রতিভাবান স্বশিক্ষিত প্রকৌশলী আমির হোসেন। তাঁর উদ্ভাবিত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আজ সারা দেশে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি এখন পর্যন্ত বহু ধরনের কৃষি ও পরিবেশসম্মত যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করেছেন। এসবের মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় ভুট্টা মাড়াই মেশিন, ভুট্টা ভাঙা মেশিন, ধান মাড়াই অটোমেশিন, আলু প্রেডিং মেশিন, বীজ বপন যন্ত্র, নিড়ানি যন্ত্র, শস্য ঝাড়াই যন্ত্র, ফিশ ফিড ও পোল্ট্রি ফিড তৈরির যন্ত্র, গরু-ছাগলের সুষম খাদ্য তৈরির যন্ত্র, টোপা মরিচ, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, ধান, হলুদ, আলু শুকানোর প্রসেসিং সেমি অটোমেশিন, গুঁটি ইউরিয়া তৈরির যন্ত্র ও সেমাই তৈরির মেশিন।

অন্যদিকে মাটির উর্বরতা রক্ষার চিন্তা থেকেই তিনি উদ্ভাবন করেছেন জৈব সার তৈরির মেশিন, যা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে তিনি মিনি সোলার প্যানেলের সেচযন্ত্র চালানোর প্রযুক্তি উদ্ভাবনের গবেষণা করছেন। তাঁর উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশ একদিন কৃষিসহ হালকা ও মাঝারি যন্ত্রপাতিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে।

একজন আমির হোসেন অর্ধশত কৃষিযন্ত্রের উদ্ভাবক

ওয়াসা

 

আমাদের প্রকৌশল ডেস্ক ।।

খুলনা ওয়াসার ৪ জন কর্মচারীকে প্রতিষ্ঠানের ‘কর্মকর্তা’ পদের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্টদের দায়ের করা যৌথ রিটে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ২ জন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সচিবকে  এ আদেশ দেওয়া হয়।

বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলম এর ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি চার সপ্তাহের রুলও জারি করেছেন হাইকোর্ট।

রিটকারীদের পক্ষের আইনজীবী শরফ উদ্দিন আবেদ জানান, ওয়াসায় কর্মরত নকশাকারক জিএম আব্দুল গফফার উপ সহকারী প্রকৌশলী (মেকানিক্যাল) পদে, অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর এমডি মুকুল হোসেন সহকারী ভাণ্ডার কর্মকর্তা, ভাণ্ডার রক্ষক মো. রবিউল ইসলাম রাজস্ব কর্মকর্তা এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. মিজানুর রহমান রাজস্ব কর্মকর্তা পদে প্রার্থী হওয়ার অনুমনি চান ওয়াসা কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু অনুমতি না দেয়ায় তারা উচ্চ আদালতে রিটপিটিশন দাখিল করেন। আদালত শুনানি শেষে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল্লাহসহ অধঃস্তন চার কর্মকর্তাকে তাদের প্রার্থী হওয়ার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে, হাইকোর্টের নির্দেশনার কপিসহ চারজন রিটকারী বৃহস্পতিবার আবেদনপত্রসহ ওয়াসা’র ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলেননি এবং আবেদনপত্র গ্রহণ না করে ফিরিয়ে দিয়েছেন। এ অভিযোগ রিটকারীদের।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য একাধিকবার কল করা হলেও ওয়াসার এমডি মুঠোফোন রিসিভ করেননি। তবে প্রতিষ্ঠানের সচিব ম্যাজিস্ট্রেট কানিজ ফাতেমা জানান, রিটের বিষয়টি তার জানা নেই। তার কাছে কেউ আবেদন নিয়ে আসেনি।উল্লেখ্য, খুলনা ওয়াসায় প্রকল্পে কাজ করা কর্মকর্তা-কর্মচারিদের স্থায়ী পদে নেওয়ার জন্য গত ৭ আগস্ট হঠাৎ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। নয় পদে ২৬ জন নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞাপনে ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভাগীয় প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। সেই সঙ্গে পদোন্নতিরও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এর মধ্যে দুই দফা শীর্ষ পদে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। রিটকারীদের প্রত্যাশিত পদে আগামীকাল শনিবার (৩ অক্টোবর) নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ওয়াসার নিয়োগ পরীক্ষায় ৪ কর্মচারীকে প্রার্থী করার নির্দেশ

আমাদের প্রকৌশল ডেস্ক ।

ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানের মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়িয়েছে সরকার। ওয়াসা বোর্ডের সুপারিশের পর তাকসিম এ খানের নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পানি সরবরাহ অনুবিভাগ) মোহাম্মদ ইবরাহিম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

ঢাকা ওয়াসার বোর্ড চেয়ারম্যান ড. এম এ রশিদ সরকার গত ১০ সেপ্টেম্বর মারা যাওয়ার পর নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের আগেই তড়িঘড়ি করে এমডি নিয়োগ দিল ঢাকা ওয়াসা বোর্ড।

জানা যায়, ওয়াসায় এমডির দায়িত্বে থাকা তাকসিম এ খানকে নিয়োগের মেয়াদ বাড়াতে সম্প্রতি অনুমোদন দেয় ওয়াসা বোর্ড সভা। দীর্ঘদিন এ পদে থেকে আবারও নিয়োগের সুপারিশ আসায় আলোচনা-সমালোচনা চলছিল নানা মহলে।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে অনুষ্ঠিত ঢাকা ওয়াসা বোর্ড সভায় এমডি হিসেবে তাকসিম এ খানের মেয়াদ আরো তিন বছর বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। এই সুপারিশ পাঠানো হয় স্থানীয় সরকার বিভাগে। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে তা অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়।

ওয়াসার এমডি তাকসিমের মেয়াদ বাড়লো আরও ৩ বছর

সংগঠন সংবাদ

কাওসার মাহমুদ।।

ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর বলেছেন, কারিগরি রূপরেখা দিয়ে ‘আমার শহর আমার গ্রাম’ প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে আইইবি। একান্ত সাক্ষাৎকারে  তিনি এ কথা বলেন।

এ প্রকৌশলী বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অনেকে মনে করছেন গ্রামীণ জনপদ কংক্রিটের জঞ্জালে পরিণত হবে। কিন্তু বাস্তবতা তা নয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রত্যন্ত গ্রামে শহরের সুযোগ-সুবিধা পৌঁছানো হবে প্রকৃতি ও পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে। সেটা কীভাবে করা সম্ভব তার কারিগরি রূপরেখাটিই আইইবি সরকারকে দেবে। কেননা এ সরকার উন্নয়নের সরকার। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে আইইবি সব সময় দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির সঙ্গে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।

জাতীয় উন্নয়নে আইইবি’র অবদান কী? এমন প্রশ্নে আবদুস সবুর বলেন, ‘উন্নত জগৎ গঠন করুন’ আদর্শ নিয়ে দেশ গড়ায় অবদান রাখার অঙ্গীকার নিয়ে ১৯৪৮ সালের ৭ মে যাত্রা করে আইইবি। প্রায় ৭২ বছর ধরে অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রকৌশল শিক্ষার মান উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধন, বিশ্বের নিত্যনতুন আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে প্রকৌশলীদের পরিচয় করিয়ে দেয়া, বিদেশি প্রযুক্তি দেশের উপযোগী করে প্রয়োগ, বিভিন্ন কারিগরি ইস্যু, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সরকারকে পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত প্রণয়নে সহযোগিতা করে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছে।

প্রকৌশলীদের নিয়ে নানা সমালোচনা প্রসঙ্গে আইইবি প্রেসিডেন্ট বলেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে প্রকৌশলীরা টেকসই উন্নয়ন ও ব্যয় সংকোচন করে বড় ভূমিকা রাখলেও সেসব জাতির সামনে বড় করে উপস্থাপন করা হয় না। প্রকৌশলীদের ছোটখাটো ভুল-ত্রুটি বড় করে তুলে ধরা হচ্ছে। এতে সাধারণ জনগণের প্রকৌশলীদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর পর প্রকৌশলীদের ভেতরে অনিয়ম-দুর্নীতি বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে কী উদ্যোগ নিয়েছে আইইবি? আবদুস সবুর বলেন, বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের নিয়ে বিভিন্ন সভা, সেমিনার ও গবেষণা করে দেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি, দুর্যোগ, যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি উৎপাদনের ব্যাপারে সরকারকে নানাবিধ সুপারিশ দিয়েছে। সরকার বিভিন্ন প্রকল্পে আইইবির সেসব সুপারিশ বাস্তবায়ন শুরু করেছে। দেশের টেকসই উন্নয়ন ও জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে প্রকৌশলী সমাজের পক্ষ থেকে আইইবি সব সময় সরকারের জনবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে যাবে।

যানজট নিরসন ও চলাচল দ্রুতগতি করতে কোনো সুপারিশ করেছেন? আইইবি প্রেসিডেন্ট বলেন, যানজট নিরসন ও চলাচল দ্রুতগতির করতে আমরা সরকারকে বহু সুপারিশ দিয়েছি। তবে আমরা দ্রুতগতির ট্রেন যোগাযোগের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। খুব দ্রুতগতির না হলেও ভারতের মতো গতির ট্রেন চালু করলেও ঢাকামুখী জনস্রোত অনেকাংশে কমবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রেনে দুই ঘণ্টায় যদি যাওয়া-আসা সম্ভব হয়, তাহলে মানুষ সেখান থেকে অফিস করবে; তারা ঢাকায় থাকতে চাইবে না।

এ ছাড়া দেশের নদীভাঙন, পরিবেশ উন্নয়ন ও পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে আইইবির প্রকৌশলীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সুপারিশ দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে আইইবি’র পরামর্শ, মতামত ও রূপরেখা সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়ক হচ্ছে।

প্রকৌশলীদের দাবি-দাওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে আবদুস সবুর বলেন, দেশসেরা মেধাবীরা প্রকৌশল পেশায় এলেও চাকরিতে পদোন্নতি ও সুযোগ-সুবিধায় অনেক ক্ষেত্রে বঞ্চিত থাকেন। যেমন- অন্যান্য সার্ভিসের সঙ্গে মিল রাখতে দেশের সাতটি প্রকৌশল অধিদফতরের শীর্ষপদকে গ্রেড-১ পদমর্যাদা দিলেও পরে সিনিয়র সচিব পদ সৃজন করে পদমর্যাদা বাড়িয়ে নিয়েছে অন্যান্য সার্ভিস। আমাদের দাবি, শীর্ষ সাত প্রকৌশল পদকেও সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা দিতে হবে। একই সঙ্গে অন্যান্য সার্ভিসের মতো প্রধান প্রকৌশলী বা সমমনা ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীদের গ্রেড-২ এবং গ্রেড-৩-এ উন্নীতকরণের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

রাজনীতি ও পেশাদারিত্ব কোনটি আইইবিতে প্রাধান্য পাচ্ছে? জবাবে এ প্রকৌশলী জানান, ঐতিহ্যগতভাবে আইইবি সব সময় পেশাদারিত্বকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে; তবে এখানে রাজনীতিও রয়েছে। প্রকৌশলীদের স্বার্থরক্ষার ক্ষেত্রে আইইবি কখনও দল, মত বিবেচনা করে না।

আবদুস সবুর বলেন, প্রকৌশলীদের সম্মিলিত চেষ্টায় ৩ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে ২৩ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। মেঘনা ব্রিজ নির্দিষ্ট সময়ের আগে কাজ শেষ করে ১ হাজার ৪০০ কোটি সরকারের সাশ্রয় করেছে প্রকৌশলীরা। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কর্ণফুলী ট্যানেল নির্মাণ কাজ করছে প্রকৌশলীরা।

১৮ কেন্দ্র, ৩২ উপকেন্দ্র, ১১ ওভারসিজ চ্যাপ্টার, ৭টি প্রকৌশল বিভাগ এবং ২৩ টাস্কফোর্সের সমন্বয়ে আইইবি পরিচালিত হচ্ছে। এ সংগঠনের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার।

facebook sharing button
messenger sharing button
twitter sharing button
pinterest sharing button
linkedin sharing button
print sharing button

‘আমার গ্রাম আমার শহর’ বাস্তবায়নে রূপরেখা দেবে আইইবি: প্রকৌশলী আবদুস সবুর

ডেস্ক রির্পোট ।।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জন্য আর্শিবাদ। তিনি জনগণের আলোকবর্তিকা। তাঁর মাধ্যমেই এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)’র সেমিনার হলে আইইবি সদর দফতর এবং ঢাকা কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আইইবি’র প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মো. নুরুল হুদার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং আইইবি’র সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আইইবি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী নূরুজ্জামান, প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ, প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন, প্রকৌশলী এস এম মনজুরুল হক মঞ্জু, সম্মানী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শাহাদাৎ হোসেন (শীবলু), সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. রনক আহসান, প্রকৌশলী শেখ তাজুল ইসলাম তুহিন, প্রকৌশলী আবুল কালাম হাজারী, প্রকৌশলী প্রতীক কুমার ঘোষ, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সভাপতি প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান প্রমুখ। আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী কাজী খায়রুল বাশার অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে দেশে ফিরেই বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চেয়েছিলেন। তিনি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কথা বলেছিলেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা ১৯৯৬ সালে যখন দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার নিয়ে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের রায় করেছিলেন। পরে ২০০৮ সালে পুনরায় ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করেছেন। বঙ্গবন্ধুর বাকি খুনিদেরও দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হবে।

করোনা মহামারিতে প্রধানমন্ত্রী সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, করোনা মহামারিতে প্রধানমন্ত্রী অসহায় মানুষের কাছে ত্রাণ পৌছে দিয়েছেন। যেখানে সারা পৃথিবীর অর্থনীতি অবস্থা নাজুক সেখানে দেশের অর্থনীতি উন্নত দেশের চেয়েও অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে।

বিশেষ অতিথি বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশনারি লিডারশিপের কারণে আমার আজ এই মহামারি দূর্যোগের মধ্যেও অনেক উন্নত দেশের চেয়ে অর্থনীতির দিক দিয়ে অনেক সূচক এগিয়ে রয়েছি। প্রধানমন্ত্রী দিন রাত দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই ’৪১ সালের আগেই আমার উন্নত দেশের কাতারে সামিল হবো।

বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমেই এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন হয়েছে